বাড়ি ছেড়ে পালানো অদ্ভুত সেই ছেলেটি

বছরখানেক আগেকার কথা। জেমস ফ্যান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স মোহাম্মদ। তিনি নিজ উদ্যোগে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়সহ সারাদেশে এই কিংবদন্তিতুল্য ব্যান্ড তারকার ৫৩ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে মোট ৫৩ টি প্রতিকৃতি স্থাপন করেছেন। শুধু তাই নয়, ২০০০ সালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘জেমস রোড’ নামে।

জেমস কত বড় তারকা – সেটা এই তথ্যগুলো থেকেই অনুমান করা যায়!

জেমস – আসল নাম ফারুক মাহফুজ আনাম। ১৯৬৪ সালের সালের দুই অক্টোবর নওগার পত্নীতলায় জন্ম। বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে। বাবা ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। গানবাজনার কারণে বাবার সাথে বনিবনা হত না জেমসের। ক্লাস এইটে পড়ার সময় বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

ঠাঁই হয় চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে। সেসময় ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে তার মেলামেশা শুরু হয়। মতান্তরে, তিনিই বন্ধুদের নিয়ে ফিলিংস ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু হয় জেমসের সংগ্রামের জীবন। তখন গান করতেন স্থানীয় রেস্টুরেন্টগুলোতে। ‘জেল থেকে বলছি’ অ্যালবামের মধ্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন। এরপর জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির সাথে ডুয়েট অ্যালবামেও কাজ করেন। পরবর্তীতে গঠন করেন ‘নগর বাউল’ নামের আরেকটি ব্যান্ড। এখনো সেটা টিকে আছে।

ফিলিংস, নগর বাউল কিংবা জেমসের একক অ্যালবামগুলো হল স্টেশন রোড (১৯৮৭),অনন্যা (১৯৮৮),জেল থেকে বলছি (১৯৯০),পালাবি কোথায় (১৯৯৫),নগর বাউল (১৯৯৬), দু:খিনী দু:খ করোনা (১৯৯৭),লেইস ফিতা লেইস (১৯৯৮),কালেকশন অফ ফিলিংস (১৯৯৯), ঠিক আছে বন্ধু (১৯৯৯),আমি তোমাদেরই লোক (২০০৩), জনতা এক্সপ্রেস (২০০৫),তুফান (২০০৬) ও কাল যমুনা (২০০৯)।

বাংলাদেশের পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কলকাতায় কিংবা বলিউডেও। ২০০০ সালে হাজির হয়েছিলেন পেপসির বিজ্ঞাপনে। প্রশংসিতও হয়েছিলেন। ওই সময়ে জেমসের অনুকরণে তরুণদের মধ্যে পাঞ্জাবির সাথে জিন্স পড়ার চল হয়। সেই ফ্যাশন টিকে আছে আজো।

দুই মেয়ের সাথে

২০০৬ সালে জেমসের বলিউডে অভিষেক হয়। জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক প্রীতমের সুরে অনুরাগ বসুর পরিচালনায় ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমায় প্রথম কণ্ঠ দেন তিনি। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে’ গানটির হিন্দি ভার্সন ‘ভিগি ভিগি রাতে’ গানটির জন্য জেমসকেই মনে ধরেছিল প্রীতমের।

পরে প্রীতম আবার জেমসকে দিয়ে ‘ও লামহে’ ও ‘লাইফ ইন অ্যা মেট্রো’ সিনেমায় পরপর তিনটি গান রেকর্ড করান। ‘লাইফ ইন অ্যা মেট্রো’ সিনেমায় ‘আলবিদা’ ‘রিশতে’, ‘ওহ লামহে’ সিনেমার ‘চাল চালে আপনে ঘর’। সেই সিনেমায় কিছু অংশে দেখাও যায় জেমসকে। এরপর ২০১৩ সালে এসে ‘ওয়ার্নিং’ ছবির ‘বেবাসি’ গানে সর্বশেষ কন্ঠ দেন। এরপর যদিও আর বলিউডে গান গাননি জেমস। প্রীতমদের সাথে একটা ব্যান্ড গড়েছিলেন, সেটাও আর টিকেনি।

স্ত্রী বেনজিরের সাথে

জেমসের পারিবারিক জীবন যথেষ্ট বিতর্কিত। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই সন্তান – জান্নাত ও জাহান। প্রথম স্ত্রী মডেল ও অভিনেত্রীর সাথে ২০০২ সালে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজির। তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে রীতিমত জেলও খাটতে হয় জেমসকে। সেই ঘরে আছে এক ছেলে – দানেশ।

ঢাকার সিনেমায় এখনো গান করেন। স্টেজ শো’র সাথে কাজ করেন বিজ্ঞাপনে। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। বলিউডে হয়তো আরো লম্বা সময় কাজ করতে পারেননি। পারেননি, কারণ নিন্দুকেরা দাবী করে বলিউডের স্থানীয়রাই চাননি জেমস কাজ করুক। জেমসের উপস্থিতিকে তাঁরা নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন। এমনি এমনি তো আর জেমস বাংলাদেশের অবিসংবাদিত সেরা রকস্টার নন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।