তাঁর যন্ত্রণা এত সহজে মিটবে না

দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা গ্রাউন্ড। অধুনা অরুন জেটলি স্টেডিয়াম। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।

জাতীয় সংগীত শেষ হলো। ঠিক তার পরপরই স্টার স্পোর্টসের ক্যামেরা ফোকাস করলো মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দিকে। মাথাটা নিচু করে চোখ মুছলেন কয়েকবার। কেন? দিল্লীর দূষণে বোধহয় চোখ জ্বালা করছিল – প্রথমে ভেবেছিলাম সেটাই। পরে দেখলাম চেহারাটা স্বাভাবিক না। মলিনতা আর অন্ধকারে ডুবে গেছে চোখদুটো। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভারত সফর।

অনেক ঝামেলা গিয়েছে শেষ কদিনে। পাশে খুব চেনা মুখগুলো নেই। প্রতিপক্ষ ভারত যাদের বিপক্ষে কয়েক বছর ধরে ম্যাচ মানেই তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা হবে এবং শেষে ভারত জিতবে। হয়তো মনে পড়ছিল ২০১৫ এর মেলবোর্ন, ২০১৬ এর চিন্নাস্বামী, কলম্বো ২০১৮, দুবাই ২০১৮ কিংবা বার্মিংহাম ২০১৯।

প্র্তিবারই লাল সবুজের জার্সিটা খুলে মাথার উপরে ঘোরাতে ঘোরাতে উল্লাস করার বদলে মুছেছেন চোখ। আজ সেকথাই হয়তো জাতীয় সংগীতের সময় ভাবছিলেন। নিজেকে কষ্ট দিয়েছেন হয়তো এ নিয়ে অনেকবার। নিজের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে নিজেকে তীব্র তাচ্ছিল্য করেছেন।

অনেক দিনের চেনা ঝানু যোদ্ধারা সাথে নেই আজ। সংশয়ে ছিলেন হয়তো। ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় পার করে ফেলেছেন আড়ালে আবডালে থেকেই। আর কয় বছর পর ব্যাট-প্যাড তুলেও রাখতে হবে। এত আক্ষেপ নিয়ে সেদিন নিজের সামনে দাঁড়াতে হয়তো চান নি বলেই আজ আর ভুল করেন নি।

তীব্র গতিতে এগিয়ে এসে ছক্কা মারা বলটাতে আঘাত করার সাথে সাথে বুঝিয়ে দিলেন যে – অনেক দেনা যে এখনো শোধ হয়নি। এই বিশ্বকাপের পরে অনেকে জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। হয়তো তিনি সেসব জানেন অথবা জানেন না।

কিন্ত, লাল সবুজের জার্সিকে আরও কিছু দেওয়ার আছে তাঁর – তারই প্রতিজ্ঞা তিনি যে করে রেখেছেন, সেটা বুঝতে হলে তাঁর সংকল্পবদ্ধ চোয়ালের দিকে এক নজর চোখ বুলানোই যথেষ্ট। অভিনন্দন অধিনায়ক। আপনি পেরেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।