বলিউডের অবিসংবাদিত রানী

বানিজ্যিক সাফল্য বিবেচনা করলে দীপিকা পাড়ুকোন এই মুহূর্তে এক স্বপ্নময় যাত্রার মধ্যে আছেন। ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি যে ১১ টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তার মধ্যে নয়টিই বক্স অফিসে চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছে।

দু’টো সিনেমাই কেবল দর্শকদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পায়নি – ফাইন্ডিং ফ্যানি ও তামাশা। শেষ কিছু বছরে দীপিকার ফিলমোগ্রাফি পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে, সিনেমাগুলোর সফলতার পেছনে দীপিকার অবদান কতটা। বিশেষ করে নায়ক নির্ভর বলিউডে এই সাফল্য বিরল।

এই সময়ে দীপিকা কাজ করেছেন শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন, রণবীর কাপুর, রণবীর সিং ও সাইফ আলী খানদের সাথে। সব নায়িকাই চায় যাদের সাথে কাজ করতে। ২০১২ সালের সিনেমা ‘ককটেল’ দিয়ে শুরু হয় দীপিকার সাফল্যের সূচনা।

এরপর ‘ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমার তারা, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর মিনাম্মা, ‘রাম লিলা’র লিলা, ‘বাজিরাও মাস্তানি’র মাস্তানি কিংবা ‘পদ্মাবত’-এর রানী পদ্মিনী চরিত্রগুলো করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। যদিও বাজিরাও মাস্তানি সিনেমায় আরেক শীর্ষ নারী চরিত্র প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও নির্ভুল অভিনয় করে প্রশংসা করেছেন, তবে তাঁর ভিড়ে হারিয়ে যাননি দীপিকা।

আবার ‘পদ্মাবত’-এ যখন রণবীর সিংকে নিয়ে হৈচৈ চলছিল, তখনও দীপিকার পায়ের নিচের মাটি শক্তই ছিল। এই সময়ে দীপিকা হলিউডের সিনেমা ‘ট্রিপল এক্স: দ্য রিটার্ন অব দ্য জ্যান্ডার কেজ’ সিনেমাতেও কাজ করেছেন ভিন ডিজেলের বিপরীতে।

যদিও, এই সময়ে দীপিকার চেয়ে বেশি হিট সিনেমা করেছেন ক্যাটরিনা কাইফ, তবে সিনেমা হিট হওয়ার পেছনে ক্যাটরিনার চেয়ে দীপিকার অবদান যে বেশি ছিল, সেটা আর না বলে দিলেও চলে। আস্তে আস্তে হলেও দক্ষতার সাথেই নিজের আলাদা একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু গড়ে তুলেছেন দীপিকা। এই মুহূর্তে দীপিকাই সম্ভবত বলিউডের একমাত্র নায়িকা যার একার কাঁধে ভর করেই সিনেমা হিট হতে পারে।

দীপিকার জন্য এখন খুব বেছে বেছে অভিনয় করাটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, তিনি নিজেও চাইবেন না তাঁর এই শীর্ষস্থান হারাতে। তাই, পদ্মাবতের পর আর নতুন কোনো ছবির ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে, তাঁর যে স্ক্রিপ্ট সেন্স তাতে চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায় আসছে সময় যা করবেন, সেটাও দেখার মত কিছুই হবে।

দীপিকার সিনেমা (২০১২ থেকে বর্তমান)

ককটেল: ৭৭.৭৫ কোটি রুটি

রেস ২: ৯৭.৫০ কোটি রুপি

ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি: ১৮৬ কোটি রুপি

চেন্নাই এক্সপ্রেম: ২২৭ কোটি রুপি

রাম লিলা: ১১৬.২০ কোটি রুপি

ফাইন্ডিং ফ্যানি: ২৮.৫০ কোটি রুপি

হ্যাপি নিউ ইয়ার: ২০৩ কোটি রুপি (হিন্দি+তামিল+তেলেগু)

পিকু: ৮০ কোটি রুপি

তামাশা: ৬৮ কোটি রুপি

বাজিরাও মাস্তানি: ১৮৪.১৬ কোটি রুপি

পদ্মাবত: ৩০০.২৬ কোটি রুপি (হিন্দি+তামিল+তেলেগু)

– কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।