আন্ডাররেটেড, তবে প্রতিভাবান

এ তুমি কেমন তুমি, চোখের তারায় আয়না ধরো

এ কেমন কান্না তুমি, আমায় যখন আদর করো

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই গানটির কথা উঠলেই, মনে পড়ে সৃজিত মূখ্যার্জীর ‘জাতিস্মর’ সিনেমার কথা, এই ছবিতে প্রধান চরিত্র অ্যন্টনি ফিরিঙ্গি বা কুশল হাজরা, কিন্তু সহ চরিত্রে থেকেও এতটুকুও ম্লান হয়নি ‘রোহিত মেহতা’ চরিত্রটি। কিংবা রাজকাহিনীর এত সব চরিত্রের মাঝেও মাত্র কয়েক মিনিটের চরিত্র ‘কবির’ দর্শকদের মন ভীত করে ফেলেছিল।

অঞ্জন দত্ত অনেকটাই তাকে বাজি করে ‘ব্যোমকেশ’ করিয়েছিলেন, তাতেও সে সফল। তবে তাঁর অভিনয়ের যে প্রতিভা, সেটা বুঝেছিলেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ. তাঁর ছবি ‘নৌকাডুবি’ তে দিয়েছিলেন ‘রমেশ’ চরিত্রটি। কি আবেদন ভাবেই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছিলেন! ভারতীয় বাংলা সিনেমায় কখনো রোহিত, কবির কিংবা ব্যোমকেশ, রমেশ করে যিনি এই মুহুর্তে একজন আস্থাভাজন অভিনেতা, তিনি যীশু সেনগুপ্ত।

শুরুটা টিভি সিরিয়াল ‘মহাপ্রভু’ দিয়ে। নাম ভূমিকায় ছিলেন, বাবা ও সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ ছিলেন। তবে আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক ছিল, নেমে গেলেন সিনেমা জগতে। চলচ্চিত্রে এসে প্রথমে যুৎসই কিছুই করতে পারেন নি। প্রসেনজিত, মিঠুন চক্রবর্তীদের ছবিতে একের পর এক পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতেন। ফেরদৌস, জিৎ, দেবদের সাথেও করেছেন।

‘মনের মাঝে তুমি’ তেও ছিলেন একেবারে পার্শ্ব চরিত্রে। একক নায়ক হিসেবেও কিছু ছবি আছে, তবে সেগুলো থাকতো আলোচনার বাইরে। তবে কোয়েল মল্লিকের বিপরীতে ‘বর আসবে এখুনি’ বেশ আলোচিত ছিল।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’-এর পর ‘আবহমান’, ‘নৌকাডুবি’-পরপর তিনটি ছবিতে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমান করছেন, তখনই করলেন নিজের প্রযোজনায় জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘অপরাজিত’। দর্শকমহলে বেশ সমাদৃত হয়েছিলেন।

এরপর সৃজিত মূখ্যার্জীর ‘জাতিস্মর’-এ রোহিত চরিত্রে এককথায় অনবদ্য। এই ছবিই হয়ে টার্নিংপয়েন্ট। নিজেকে আরো আকর্ষনীয় করেছেন। অঞ্জন দত্তের ‘ব্যোমকেশ’ সিরিজে তাকে বেছে নেবার পর তিনিই হয়ে উঠলেন অন্যতম সেরা আলোচিত অভিনেতা।

এক সময় তিনি একক নায়ক হিসেবে ফ্লপ দিতেন, আজ তিনি সুপারহিট নায়কদের একজন। ব্যোমকেশ সিরিজের তিনটাই দারুণ ব্যবসা করেছে,পাশাপাশি রয়েছে শিবু – নন্দিতার সুপারহিট ছবি ‘পোস্ত’। এখনকার ছবিতে তিনি পার্শ্ব চরিত্র থাকলেও নজর কাড়েন। ভিলেন হিসেবেও তিনি বেশ সফল, তাঁর অন্যতম প্রমান রাজকাহিনী, জুলফিকার, আরশিনগরের মত ছবি।

অতনু ঘোষের ‘তখন তেইশ’ ছবিতেও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। নিজের এই সুসময়ে কিছুটা ভুল সিদ্ধান্ত ও আছে। কেলোর কীর্তি, জিও পাগলার মত ছবিতেও অভিনয় করেছেন। বেশ কিছু হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন। তবে একেবারেই ছোট চরিত্র, এর মধ্যে বারফি, মারদানী, পিকু অন্যতম। খারাপ করেননি, হয়েছেন প্রশংসিত। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘মনিকর্ণিকা’।

মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘ঘরে অ্যান্ড বাইরে। সেটায় তিনি প্রধান নায়ক। মহানায়ক ‍উত্তর কুমারের কালজয়ী ‘সন্ন্যাসী রাজা’র উপর ভিত্তি করে ‘এক যে ছিল রাজা’য় সে আছে নাম ভূমিকায়,আরো আছে উমা, মুখোমুখি। বোঝাই যাচ্ছে,সামনের দিনগুলো বেশ সমুজ্জ্বল।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন নীলাঞ্জনা সেনগুপ্তকে। তাকে বিয়ে করার সময় সেরকম অর্থ ছিল না, পুরো বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন নায়ক প্রসেনজিৎ। সংসারে রয়েছে দুইটি সন্তান। অভিনয়ের বাইরে তিনি জি বাংলায় ‘সা রে গা মা পা’ উপস্থাপনা করেন। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের বৃহস্পতিতেই আছেন যীশু।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।