দ্য আন্ডারটেকার: নৃশংস রিং নয়, সাদামাটা এক জীবন

ডব্লিউ ডব্লিউ এফ বা ডব্লিউ ডব্লিউ এফ – টেলিভিশনের পর্দায় কত নামেই তো রেসলিং দেখানো হয়। রেসলিংয়ের কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যা – সেসব নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে। কেউ রেসলিং খুব পছন্দ করেন, কেউ বা দেখতেই পারেন না। তবে, যাই হোক না কেন, এদের কোনো পক্ষই ‘দ্য আন্ডারটেকার’ নামটির সাথে অপরিচিত নন।

তবে, খুব কম মানুষই অতিকায় এই ভদ্রলোকের সত্যিকারের নামটা জানেন। আন্ডারটেকারের আসল নাম মার্ক ক্যালাওয়ে। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু করে দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি রিংয়ে আছেন।

তাঁর জীবনটাকে আসলে আর দশজন তারকার সাথে মেলানো যাবে না। রিংয়ে যতই তাঁকে নৃশংস মনে হোক না কেন, খুব পারিবারিক মানুষ তিনি। চলুন তাঁর ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাক।

  • বাস্কেটবল ক্যারিয়ার

বাস্কেটবলটা ভালই জানেন তিনি। হাই স্কুল টিমে নিয়মিত জায়গা হত। টেক্সাস ওয়েসলেয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। সেখানেই বাস্কেটবলের এই ধারাবাহীকতা ধরে রাখেন তিনি। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় দলের সদ্য ছিলেন তিনি।

  • হলিউডে আগমণ

হলিউড ক্লাসিক সিনেমা সাবারবান কমান্ডোতে প্রধান চরিত্রে ছিলেন আরেক রেসলার হাল্ক হুগান। মজার ব্যাপার হল, সিনেমাটিতে ছিলেন স্বয়ং আন্ডারটেকারও। যদিও, সেবারই ফিকশন চরিত্রে প্রথম ও শেষবারের মত দেখা যায় তাঁকে।

  • দ্য ব্রাদার লাভ

আন্ডারটেকারকে যারা চেনেন তাঁদের কাছে পল বিয়ারারের নামটাও সমান ভাবে পরিচিত। লম্বা সময় ধরে তিনি আন্ডারটেকারের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে ভাইয়ের মতই ভালবাসতেন আন্ডারটেকার। মজার ব্যাপার হল বিয়ারার ‘দ্য ব্রাদার লাভ শো’ নামের একটা অনুষ্ঠানও করতেন।

  • মার্ক ক্যালাস

রিংয়ে আন্ডারটেকারের প্রথম নামটা ভিন্ন ছিল। তিনি ক্যারিয়ারের শুরুতে, মানে ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে মার্ক ক্যালাস নামে প্রথম নিবন্ধিত হন। পুরো নাম ছিল ‘মিন’ মার্ক ক্যালাস। এরপরই নাম পাল্টে ডব্লিউ ডব্লিউ ই-তে অন্তর্ভূক্ত হন তিনি।

  • গলফার আন্ডারটেকার

আন্ডারটেকার গলফ খুব ভালবাসেন। যদিও, নিজেকে খুব বাজে একজন গলফারই বলেন তিনি। হওস্টন ক্রনিক্যালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার পরিবারের সাথে, বাচ্চাদের অনেক সময় কাটাই। আমি নিজের বাজে গলফ খেলাটা ভাল করার পেছনেও অনেক সময় দেই। আমি গলফ ভালবাসি। কিন্তু, খুবই বাজে খেলি। কোনো এক বিশেষ কারণে প্রতিবারই আমি ব্যর্থ হই।’

  • ব্র্যাট পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাথে সম্পর্ক

আন্ডারটেকারের বিছানায় ঘুমিয়েছেন ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। একটা সিনেমার শ্যুটিয়য়ে টেক্সাসের কেডার ক্রিকের একটা কম্পাউন্ড ব্যবহার করেছিলেন পিট ও জোলি। এই বাড়িটা আন্ডারটেকারই এই জুটিকে দিয়েছিলেন। কারণ, এই কম্পাউন্ডের মালিক খোদ আন্ডারটেকার। বাড়িটাতে একগাদা রেসলিং রিং দেখা যায়। শুরু তাই নয়, মাস্টার বেডরুমটা অন্য যেকো সাধারণ বাড়ির চেয়ে অনেক বড়। এমনকি বিছানাগুলোও বিশাল মাপের।

  • রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগকারী

আন্ডারটেকার নিজে একজন ব্যবসায়ীও। তিনি রিয়েল এস্টেটে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তার ব্যবসায়িক পার্টনার হলেন স্কট এভারহার্ট।হ্যা, আন্ডারটেকারও মানুষ। কেইন বা ডেডম্যান যাই বলা হোক না কেন, জীবনের তাগিদেও তাঁকেও সবই করতে হয়।

– দ্য টপস্টার.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।