রহস্য আগুনে দগ্ধ সোনার প্রতিমা

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

ফুলের গন্ধর মতো তোমায় ভরিয়ে আমি রাখব

গাছের লতার মতো তোমায় জড়িয়ে আমি থাকব

আমি আছি শুধু তোমারই তো আছি।

রূপালি পর্দার সোনার প্রতিমার ৩২ বছর আগে রহস্য আগুনে দগ্ধ হয়ে অকাল বিসর্জন হয়। আপামর দর্শকের চোখের জলের শ্রাবণ ধারায় ভেসে যায় বাংলা যা শ্রাবণের জলধারা কেও হার মানায়।

উত্তম-পরবর্তী যুগে ইন্ডাস্ট্রির হাল ধরেছিলেন মহুয়া। মহানায়কের মহাপ্রয়াণের পর অন্ধকার টলিউডে সুচিত্রা সেন পরবর্তী জমানায় মহুয়াই ছিলেন একমাত্র হিট মেশিন শিল্পী যার নামে দর্শক হলমুখী হত।

১৯৭২ সালে মুক্তি পেয়েছিল শ্রীমান পৃথ্বীরাজ। মহুয়া তখন ১৪ বছরের। ১৯৭৬ সালে তিলক চক্রবর্তীকে বিয়ে করলেন তিনি।কেরিয়ারের পক্ষে যা মোটেও সুখকর হয়নি। মহুয়ার আরও সম্পর্কের রটনা যদিও শোনা যায়।সুরার নেশা,আচমকা রেগে যাওয়া,খ্যাতির বিড়ম্বনা এসবও কাল হয় মহুয়ার।

বিপুল জনপ্রিয় নায়িকার নামে প্রশংসা স্ক্যান্ডেল দুই রটত। তিলকও শুরু করেছিল অভিনয় জীবন শিশুশিল্পী অভিনেতা হিসেবে মহুয়ার অনেক আগেই। শিশুশিল্পী রূপে নবজন্ম, মায়ার সংসার, হসপিটাল, দেড়শো খোকার গল্প বড় হয়ে অভিনেতা গায়ক হয়ে আনন্দ মেলা (তিলকরাই প্রযোজক ছিল উত্তম আরতি ভট্টাচার্য মহুয়া তিলক অভিনীত ছবি), ইমন কল্যান, প্রতিশোধ, কালো চোখের তারা এসব ছবিতে ছোটো রোল করেছিলেন তিলক। কিশোরকণ্ঠী তিলক তখন স্টেজ প্রোগামও করতেন মহুয়ার সঙ্গে।যদিও মহুয়ার নামেই পরিচিত ছিল। এক ছেলে তমাল।

বিয়ের সময় মহুয়া তখন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে। উত্তম কুমার থেকে রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে‚ তাপস পাল‚ চিরঞ্জিত‚ সন্তু মুখার্জি‚ শমিত ভঞ্জ‚ প্রসেনজিৎ কার বিপরীতে না নায়িকা হয়েছেন তিনি। পাশের বাড়ির মেয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়তাহীন বলিষ্ঠ অভিনয়। জনপ্রিয় নায়িকা হওয়ার পথে এটাই ছিল মহুয়ার তুরূপের তাস। মাধবী মুখার্জ্জী বলেন মহুয়া ছিল সুচিত্রা সেন সাবিত্রীর মিশেল তাই কম সময়ে এত খ্যাতি জনপ্রিয়তা পায়।

১৯৮৬ সালের ১২ জুলাই। বেহালায় প্রতিবেশী পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর বাড়িতে পার্টি ছিল। গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন মহুয়া-তিলক। দুধ গরম করবেন বলে স্টোভ জ্বেলেছিলেন মহুয়া। স্টোভ বার্স্ট করে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

মহুয়া তিলক

দশ দিন ক্যালকাটা হাসপাতালে লড়াই করার পরে হার মেনেছিলেন নায়িকা।বিদায়। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ একে দুর্ঘটনা বলে মানতে পারেনি। কিন্তু মহুয়া নিজে মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে বলে গেছিলেন সেটা ছিল দুর্ঘটনা। তদন্ত থেমে যায়।

অসংখ্য ছায়াছবি যার কন্ট্র্যাক্ট সাইন হয়ে ছিল। সেগুলো মহুয়াহীন রয়ে যায়। প্রচুর প্রচুর ছবি। সারা টালিগঞ্জ সেদিন শোকে ভেঙে পড়েছিল। সমস্ত ছবির শুটিং বাতিল। বাংলা ছবির দর্শকরা শোকে মুহ্যমান। যে শোক আজও কাটেনি। যেমন বিশাল ভাবে জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠেন মহুয়া সেরকম বিশাল ভাবে শেষ হয়ে যান। তবু আজও মহুয়ায় মাতাল বাঙালি দর্শক।

চোখে যদি নাইবা খুঁজি আছি তবু নিও তুমি বুঝে

আকাশের তারা জ্বেলে আঁধার সরিয়ে আমি রাখব

আমি আছি শুধু তোমারই তো আছি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।