নব্বই দশকের শাবনাজ ক্রেজ ও অভূতপূর্ব সাফল্যগাঁথা

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। চলছিল বাংলা চলচ্চিত্রের সুবর্ণ সময়। নায়ক রাজ রাজ্জাক সবেমাত্র নায়ক রুপ থেকে অবসর নিয়েছেন, সেই সময় এক বিনোদন সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন – এই বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে বহু নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন, এমন কোন নায়িকা আছে,যার সাথে কাজ না করার আফসোস আছে?

প্রশ্ন শুনে রাজ্জাকের কিছু ভাবার প্রয়োজন পড়েনি। তিনি হাসি মুখে উত্তর দিয়েছিলেন, বলেছিলেন সেই মুহুর্তের সবচেয়ে সফল নায়িকা শাবনাজের কথা।

১৯৯১ সালের অক্টোবর। বাংলা চলচ্চিত্রের ক্যাপ্টেন খ্যাত এহতেশামের ‘চাঁদনী’ হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে আত্বপ্রকাশ করেছিলেন শাবনাজ। প্রথম ছবিতেই বাজিমাৎ, বছরের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ছবির নায়িকা। এহতেশাম বিরাট ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সেই ঝুঁকি কাজেও লাগে।

পুরনো তারকাদের ভিড়ে শাবনাজ জায়গা করে নিলেন সদর্পে। এরপর উপহার দিতে থাকেন আজকের হাঙ্গামা, দিল, জিদ, লাভ, অনুতপ্ত, টাকার অহংকার সহ একের পর এক হিট ছবি।

শাবনাজের ছবি মানেই বাণিজ্যিক সাফল্য, নব্বইয়ের দশকে নবীনদের যেই জয়যাত্রা শুরু হয় তাঁর অগ্রজ তিনি। ক্যারিয়ারে সফল চার বছর পার করার পর প্রথম ফ্লপের দেখা পান সালমান শাহর সাথে ‘আঞ্জুমান’ ছবি দিয়ে। তবে এই জুটির আশা ভালোবাসা ও মায়ের অধিকার বেশ আলোচিত হয়েছিল।

ক্যারিয়ারে তিনি সবচেয়ে সফল ছিলেন নাঈমের সাথে, পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এখনো বেশ সুখেই আছেন। ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন এই জুটি। খ্যাতির তুঙ্গে থাকার সময়ই তাঁরা সংসারী হয়ে গেছেন।

বাপ্পারাজের সর্বাধিক ছবির নায়িকা তিনি। দু’জনে মিলে অভিনয় করেন প্রেমের সমাধি, নির্মম, রাগ অনুরাগ, গরিবের ওস্তাদসহ বেশ কিছু ছবিতে।

ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে বদসুরত ও মান্নার সাথে দেশদ্রোহী ছবিতে অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকায় অবস্থায় বিয়ের পর চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে যান, অনেক বছর বিরতি দিয়ে ‘ডাক্তারবাড়ি’ ছবিতে অভিনয় করেন। তবে তিনি আর চলচ্চিত্রে আসবেন না, এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ‘নির্মম’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র  পুরস্কার পান।

তিনি অভিনয় আহামরি করতেন না, আর মজার ব্যাপার হল তাঁর বেশিরভাগ ছবিরই ডাবিং করতেন আফসানা মিমি। তবে দেখতে বেশ স্নিগ্ধ ছিলেন, পরিচ্ছন্ন ইমেজের জন্য এখনো সমাদৃত। নিজের বর্নিল ক্যারিয়ার ছেড়ে সংসারে মনোযোগী হওয়ার অনন্য উদাহরণ তিনি। একই সাথে আক্ষেপের কারণও বটে!

ক্যারিয়ার খুব বেশি লম্বা ছিল না নায়িকা হিসেবে। মাত্র বছর পাঁচেক সময়েই তিনি দেখিয়েছেন, সাফল্য কাকে বলে! তবে আজকাল একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালের জীবনটাকেই বেছে নিয়েছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।