বৃহস্পতি তাঁর তুঙ্গে

মিসির আলী চরিত্রের সাথে পরিচয় আছে তো? নন্দিত কথাসাহিত্যিক হূমায়ুন আহমেদের অন্যতম সৃষ্টি এ চরিত্র। তাকে নিয়ে আশির দশকে বিটিভিতে কিছু নাটক প্রচারিত হয়েছিল। পরবর্তীতে বেসরকারী চ্যানেলেও মিসির আলী চরিত্রের উপন্যাসকে নাটকে রূপান্তর করা হয়েছিল। এবার মিসির আলীর প্রথম দিককার কাহিনী ‘দেবী’ আসছে বড় পর্দায়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সেটি মুক্তি পাবে ওপার বাংলায়ও। মূল চরিত্রে আছেন দুই বাংলার প্রিয়মুখ, জয়া আহসান। জয়া ছাড়া সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে বর্তমান সময়ে সফল অভিনেত্রীর তালিকা বেশ সংক্ষিপ্ত। তাই চলচ্চিত্র দর্শকদের মাঝেও আগ্রহ রয়েছে ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে।

জয়া আহসান কখন ঢাকায় আসছেন কখন ঢাকা ছাড়ছেন তা হিসেব রাখা তার দর্শকের জন্য কষ্টদায়ক। যদিও নিজের ফেসবুক পেজ ও ফ্যানস গ্রুপের মাধ্যমে কিছু খবর পাচ্ছে তার ভক্তরা। তবে তিনি কাজ করছেন, দর্শকের জন্য, বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। সবকিছুর মাঝে তিনি কাজ করেছেন ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটিতে। সরকারী অনুদানে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। সাহিত্যপ্রেমীরা উন্মুখ হয়ে আছেন জয়ার ছবি, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের চিত্রায়ন স্বচক্ষে উপভোগ করার জন্য। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে ছবিটির। সহসাই কাজ শেষ করে দর্শকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা হবে।

জয়ার ছবি ‘বিসর্জন’ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তিনটি জাতীয় (ভারত) চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছে। এ ছবিটি দেখার আক্ষেপ ছিল বাংলাদেশী দর্শকদের। সেটিও এবার ঘুচতে যাচ্ছে। এসভিএফের ওয়েব প্লাটফর্ম ‘হইচই-এ দেখা যাচ্ছে ‘বিসর্জন’ গত ৩১ মার্চ হতে। বাংলাদেশের দর্শকরা অ্যাপটি তাদের মোবাইল ডিভাইসে ইনস্টল করে রেজিস্ট্রেশান করলেই দেখতে পারবেন এ চলচ্চিত্রটি।

জয়া শুধু কলকাতায় কাজ নিয়ে বসে নেই। বাংলাদেশের ছবি ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে তিনি আসবেন সহসাই। তাকে দেখা যাবে এক সার্কাসকর্মী ও মালকিনরূপে। নারীপ্রধান এ ছবিটি নিয়েও জয়া আশাবাদী। জয়ার জন্য ২০১৮ সনের ব্যস্ততা শুধুই টালিগঞ্জ ঘিরে। কাজ করছেন ‘কণ্ঠ’ ছবিটিতে, হাতে রয়েছে ‘ক্রিসক্রস’।

জয়ার ছবি ‘খাঁচা’ সম্প্রতি মেরিল প্রথম আলো পুরষ্কার ২০১৭ তে সমালোচক ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালকের পুরষ্কার জিতেছে। সবমিলিয়ে বলতে হয় জয়া যেসব কাজ করছেন তা মানসম্মত কাজ, বোদ্ধাদের নজর কাড়ছে তাঁর কাজ।

জয়ার এ ব্যস্ততা আমাদের জন্য গর্বের, আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য আনন্দের। জয়া আমাদেরই মেয়ে, বিদেশ বিভূঁইয়ে তার কাজ, তার সাফল্য তৃপ্ত করে এদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। চলচ্চিত্রের কোন কাঁটাতার নেই, শুধু ভাষাগুলো হয় ভিন্ন, অভিনয়ের সুর অভিন্ন। তাই তো জয়ার চলচ্চিত্রের জন্য, তার অভিনয় দেখার জন্য অপেক্ষা করা যায়; সমসাময়িক অনেকের চেয়েই যে অভিনয় দক্ষতায় ঢের এগিয়ে জয়া।

জয়ার জয়যাত্রা থেমে নেই এখানে। বিনোদন জগতের বাইরেও আছে তাঁর অবাধ বিচরণ চলছে। কিডস ক্যাম্পাস নামের একটি প্রি স্কুল ও থিম পার্কের শুভেচ্ছা দূত হয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তাঁর বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। নি:শ্বাস ফেলারই যেন সময় নেই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।