আপনার কেনা গরুই পাল্টে দিতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ!

আপনার কেনা একটি গরুই বদলে দিতে পারে দেশের কৃষিখাতের ভবিষ্যৎ।  শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। চলুন বিষয়টা এবার একটু বিস্তারিত জানি।

ধরেন, আপনার হাতে কিছু টাকা আছে। আপনি কোনো কিছু বিনিয়োগ করতে চান। চাইলে ব্যাংকেও রাখতে পারেন। আবার টাকাটা দিতে পারেন ‘আইফার্মার’ নামের একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে। কথার খাতিরে ধরলাম, আপনার বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমান ২৫ হাজার টাকা।

‘আইফার্মার’ এই টাকাটা দিয়ে একটি গরু কিনবে। গরুটি দেওয়া হবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কৃষককে। সেই কৃষক নিজের দায়িত্বে গরুটার দেখভাল করবে। বছর খানেক বাদে গরুটা আইফারমার নিজ উদ্যোগে বিক্রি করবে।

ধরলাম বিক্রি করার সময় দাম আসলো ৫০ হাজার টাকা। লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা। এর পঞ্চাশ শতাংশ যাবে ওই কৃষকের ঘরে। মূল বিনিয়োগসহ লাভের ২৫ শতাংশ যাবে বিনিয়োগকারীর কাছে। নি:সন্দেহে অভিনব একটি উদ্যোগ। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষক, বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান সবাইই লাভ করতে পারছেন। বিনিয়োগকারীর অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছানো হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

২০১৭ সালের হিসাব বলছে বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম বিশ্বের বাকি অঞ্চলের তুলনায় ৩২ গুন বেশি। আর গরুর জন্য বাংলাদেশ যে অনেকাংশেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল সেটা প্রতি ঈদুল আজহার সময়ই বোঝা যায়। বেআইনী কায়দায় গরু আমদানীর খবরও পত্রিকা খুললেই পাওয়া যায়।

প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩০ লাখ গরু। এই অবস্থায় নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এই সময়ে তাই বিনিয়োগকারী ও কৃষকদের মধ্যে আইফার্মার-এর এই সেতুবন্ধনকারী হিসেবে আবির্ভাবের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে।

এখানে ঝুঁকিও আছে। কারণ বাংলাদেশে অকালে গরু মৃত্যুর হারটা নেহায়েৎ কম নয়। গরু চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেই ঝুঁকির দায়ভারও নিচ্ছে আইফার্মার। কোনো কারণে গরুর মৃত্যু হলে বা চুরি হলে, সেখানে নতুন গরু দিবে এই প্রতিষ্ঠানটি। গরু ছাড়াও ছাগল ও ভেড়া পালনেও বিনিয়োগ করা যায়। চাইলে আইফার্মারের সহায়তা নিয়ে আপনি তাঁদের ফার্মও ভিজিট করে আসতে পারেন।

এখানে গরুতে বিনিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠান থেকে একটি ‘সার্টিফিকেট অব ওনারশিপ’ দেওয়া হবে। যেখানে থাকে বিনিয়োগকারীর গরুর একটি নিজস্ব ইউনিক নাম্বার। প্রতিষ্ঠানটির ইউনিক ড্যাশবোর্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা গরুর সর্বশেষ অবস্থা, বড় হওয়ার মাত্রা ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকতে পারবেন।

খুব একটা প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই আইফার্মারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা এখন ১০০-এর ওপরে। প্রতিষ্ঠানটি এ বছরই সুইস দূতাবাসের বিবেচনায় সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব রেখে সেরা স্টার্টআপের পুরস্কার জিতে নিয়েছে।

শুধু গরুই নয়, শিগগিরই অন্যান্য কিছু উদ্যোগেও হাত দিতে যাচ্ছে আইফার্মার। এরমধ্যে আছে বিদেশে রফতানি করা যায় এমন কিছু সবজি ও ফল। যেমন – পেপে, মিষ্টিকুমড়া, পেয়ারা ব্রকলি, ক্যাপসিক্যাম ইত্যাদি।

‘আইফার্মার’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হলেন ফাহাদ ইফাজ, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অপারেটিং অফিসার জামিল এম.আকবর, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ টেকনোলজি অফিসার শুভ রহমান। বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন তাহমিদ হাসান। সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় আছে তরু : দ্য আইডিয়া ট্রি। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের বলাই যায় আপনার বিনিয়োগ একটি অভিজ্ঞ হাতেই যাচ্ছে!

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের শহরে বসবাস করা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন প্রায় মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগ। আর এই হারে এর শহরে মানুষ বাড়তে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পরিমানটা ৫০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। এখন প্রশ্ন হল, এই মানুষগুলো খাবে কি? টাকা থাকলেই কি শুধু হবে না, সাথে খাদ্যের যোগানও থাকতে হবে। সেই ভবিষ্যতের ভাবনাটা ভাবার এখনই সময়। ভাবনাটা ভাবতে পেরেছে আইফার্মার, প্রয়োজন কেবল সামর্থ্যবানদের আরেকটু বিনিয়োগের।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।