বামুন হয়ে চাঁদে বাড়িও বানানো যায়!

একদম গোড়া থেকেই তাঁর প্রতি একটা নাক সিঁটকানো ভাব ছিল বলিউডের প্রথম শ্রেণির সিটিজেনদের। তিনি ‘ঠিক নায়কদের মত নন’ – এমন একটা ফিঁসফাসও ছিল। কেন? আয়ুষ্মান খুড়ানায় সমস্যাটা কি?

সমস্যা কিছুই না। আসলে, আয়ুষ্মান একটা সময় পুরোপুরিই ছিলেন ছোট পর্দার মানুষ। এমটিভি রোডিজ থেকে তাঁর উত্থান। সঞ্চালনা করেছেন, রেডিওতে কাজ করেছেন, গানবাজনা করেছেন। এই লোকটার হঠাৎ করে রুপালি পর্দায় চলে আসাটা তাই অনেকেই ‘নিতে পারছিলেন না’। বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানোকে তো আর লোকে সহজ চোখে দেখে না!

সেজন্য প্রথম সিনেমাতেই অভাবনীয় সাফল্যের পরও যেন শরীর থেকে ‘ছোট পর্দার’ গন্ধটা যাচ্ছিল না। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া আয়ুষ্মান খুড়ানার প্রথম সিনেমার বক্স অফিস ভারডিক্ট ছিল পরিস্কার ‘হিট’। অভাবনীয় একটা গল্প, অভিনয় আর চকলেট বয় সুলভ চেহারা – সব মিলিয়ে দুর্দান্তই ছিল আয়ুষ্মানের এন্ট্রি।

এরপর খানিকটা ছন্দপতন। পরপর তিনটা সিনেমায় বলার মত সাফল্য ছিল না আয়ুষ্মানের। সিনেমাগুলো হল – ‘নটাঙ্কি সালা’, ‘বেউকুফিয়া’ ও ‘হাওয়াইজাদা’। ২০১৩ থেকে ২০১৫ – টানা তিন বছরে মুক্তি পায় এই তিনটি সিনেমা।

আয়ুষ্মান ঠিক সময় মতই জ্বলে উঠেছিলেন। সেটা ২০১৫ সালের ঘটনা। এবার আসে ‘দাম লাগাকে হেইশা’। অভিনব একটা গল্প, চমৎকার স্টোরি টেলিং, আয়ুষ্মান খুড়ানার অভিনয়ের সাথে আরেকটা নতুনত্ব ছিল সিনেমায়, গল্পে ছিলেন মোটা এক নায়িকা ভূমি পেদনেকার। ভূমি আলোচনার ঝড় তুললেও তাঁর ভিড়ে আয়ুষ্মান হারিয়ে যাননি, বরং তিনি বাদে অন্য কেউ চরিত্রটা করলে হয়তো সিনেমাটা দেখতে এতটা ভাল লাগতো না। সামান্য বাজেটের সিনেমাটি বক্স অফিস থেকেও পায় সাফল্য।

এরপর ২০১৭ সালে ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু’ সিনেমাটা বাদ দিলে বাকিটা সময় ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যেই আছেন আয়ুষ্মান। তাঁর টানা চারটি সিনেমাই পেয়েছে ব্যবসায়িক সাফল্য। এর মধ্যে ২০১৭ সালে এসেছে ‘বেরেলি কি বারফি’ ও ‘শুভ মাঙ্গাল সাবধান’।

আর ২০১৮ সালে এসেছে ‘আন্ধাধুন’ ও ‘বাধাই হো’। এই দু’টি সিনেমা এত কম সময়ের মাঝে মুক্তি পেয়েছে যে বক্স অফিসে এখন কেবলই আয়ুষ্মানের রাজত্ব। কে বলেছে বামুন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে নেই। আয়ুষ্মান তো রীতিমত চাঁদে বাড়ি করে স্থায়ী ভাবে থিঁতু হয়ে গেছেন।

আয়ুষ্মানের সিনেমার আরেকটা বড় গুণ হল এর স্থায়ীত্ব। ক্যারিয়ারে কেন্দ্রীয় চরিত্রে সাত বছরে আয়ুষ্মানের ছবির সংখ্যা ১০ টি। এর মধ্যে ছয়টি সিনেমাই টানা পাঁচ সপ্তাহ বা তাঁর চেয়ে বেশি সময় হল গুলোতে টিকে ছিল। সিনেমাগুলো হল – ‘ভিকি ডোনার’, ‘দাম লাগাকে হেইশা’, ‘বেরেলি কি বারফি’, ‘শুভ মাঙ্গাল সাবধান’, ‘আন্ধাধুন’ ও ‘বাধাই হো’ বোঝাই যাচ্ছে, তরুণ হলেও এই ভদ্রলোকের স্ক্রিপ্ট নির্বাচনের দক্ষতা মারাত্মক।

১০ টি সিনেমার মধ্যে আয়ুষ্মান ব্যবসায়িক দিক ব্যর্থ হয়েছেন তিনটিতে। দু’টি ফ্লপ, একটা ডিজাস্টার। ‘নটাঙ্কি সালা’ ব্যবসা করতে না পারলেও সিনেমাটি থেকে নিজেকের লগ্নিকৃত অর্থ ঠিকই তুলে আনতে পেরেছিল। এর বাদে বাকি ছয়টি সিনেমাই ব্যবসায়িক ভাবে সফল। এর অর্থ হল, বক্স অফিসের বিবেচনায় আয়ুষ্মানের ব্যর্থতার হার মাত্র ৩০ শতাংশ!

আরো পড়ুন

আয়ুষ্মান খুড়ানাকে অনেকেই এখন খানদের সাথে তুলনা করছেন। নি:সন্দেহে এই তুলনা করার সময় এখনো আসেনি। তবে, তিনি যেভাবে ফর্মুলা সিনেমা বাদ দিয়ে কনটেন্ট ধর্মী সিনেমা ক্রমাগত করে চলেছেন আর সাফল্য পাচ্ছেন, তাতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এই আওয়াজটা তীব্র হতে খুব বেশিদিন সময় লাগার কথা না।

আয়ুষ্মান খোড়ানা বিবর্তন: রোডিজ থেকে বর্তমান

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।