ভরসা দিন, উইকেট পান

স্পোর্টিং উইকেট আর বাংলাদেশ – দুয়ের মধ্যে সম্পর্কটা দাঁ-কুমড়োর। দেশের মাটিতে ভিনদেশি দল আসলে স্পিনিং ট্র্যাকই পছন্দ টিম ম্যানেজমেন্টের, কিংবা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। তবে, সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়লো এবার। জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সত্যিকারের স্পোর্টিং উইকেটেই খেলছে দু’দল।

স্বাগতিক দেশ হিসেবে সেই উইকেটের পুরো সুবিধাটাই নিল বাংলাদেশ। অধিনায়কত্বে খুব বেশি বৈচিত্র ছিল না। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলে তার খুব একটা প্রয়োজনও পরেনি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চার বোলারই ব্যবহার করলো বাংলাদেশ। আবু জায়েদ রাহি, নাঈম হাসান চারটি করে উইকেট পেলেন।

উইকেট শূণ্য থাকার শঙ্কা এড়িয়ে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার তাইজুলও নিলেন দু’টি উইকেট। এবাদত হোসেন কোনো উইকেট পাননি, কিন্তু তিনিও ট্রু উইকেটের সুবিধা নিয়ে ভড়কাতে পেরেছেন ব্যাটসম্যানদের।

তবে আলাদা করে বলতে হয় অবশ্যই রাহির কথা। পেস বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে নাকানি চুবানি খাওয়ানোটা যে দেশের মাটিতে অসম্ভব কোনো ব্যাপার নয়, সেটা তিনি প্রমান করেছেন। ৭১ রান হজম করে চারটি  উইকেট নিয়ে তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার ছুঁয়েছেন।

দু’বারই নতুন বলের পুরো সুবিধাটা আদায় করতে পেরেছেন তিনি। পুরনো বলেও মানিয়ে নিতে পেরেছেন নিজেকে। নতুন বলে পেয়েছেন তিন উইকেট, পুরনো বলে এক উইকেট। সব মিলিয়ে বোলিংয়ে তিনিই বাংলাদেশের নায়ক।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে উইকেট না পেলেও এবাদতও যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন রাহিকে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল এবাদত ছিলেন খুবই মিতব্যয়ী। ১৭ ওভার বোলিং করে আটটা মেইডেন পেয়েছেন তিনি। রান দিয়েছেন মাত্র ২৬ টি। তিনি একপ্রান্তে চাপ দিতে পেরেছেন বলেই আরেক প্রান্ত থেকে উইকেট পাওয়া সহজ হয়েছে রাহি, নাঈম কিংবা তাইজুলের।

দুর্ভাগ্য অবশ্য সঙ্গী হয়েছে রাহিরও। অল্পের জন্য তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট পাওয়ার মাইলফলক ছুঁতে ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ টেস্টে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম। কাকতালীয় ভাবে সেটাও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১৩ সালের এপ্রিলের সেই টেস্টটা হয়েছিল হারারেতে।

জিম্বাবুয়ের উইকেটে পেসাররা বরাবরই বাংলাদেশের ‍উইকেটের চেয়ে বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে, দেশের মাটিতে সর্বশেষ কোনো পেসারের পাঁচ উইকেট পাওয়ার নজীরটা ১০ বছরের পুরনো। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেন শাহাদাত হোসেন। ভারতের তখন কিংবদন্তিতুল্য এক ব্যাটিং লাইন আপ। দলে শচিন টেন্ডুলকার, বীরেন্দ্র শেবাগ, রাহুল দ্রাবিড়, গৌতম গম্ভীর – সবাই আছেন।

সেই পেস তাণ্ডব এখন অতিত। তবুও এর মাঝে রাহিরা আলো ছড়াচ্ছেন। এই আলোটা অন্তত দীর্ঘায়িত হোক। আর এই আলোর মিছিল লম্বা করার জন্য, নিয়মিত দেশের মাটিতেও টেস্টে স্পোর্টিং উইকেট রাখাটা জরুরী। অন্তত জিম্বাবুয়ের মত দলের বিপক্ষে সেটা তো করাই যায়। তাতেই, দেশের ক্রিকেটের চূড়ান্ত মঙ্গল!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।