নিশ্চয়েই রিয়েলিটি শো’র এই ‘রিয়েলিটি’গুলো আপনি জানেন না

টেলিভিশনের জগতে রিয়েলিটি শো যেমন জনপ্রিয়, নিয়ে অনেক রকমের তর্ক বিতর্ক প্রচলিত আছে। আদতে রিয়েলিটি শো’র সব কিছু রিয়েল নয়। এর পুরোটাই নির্মিত হয় একটা স্ক্রিপ্ট ধরে, এখানে প্রতিযোগীদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বাঁধানোও ওই স্ক্রিপ্টের অংশ। টেলিভিশন গবেষকরা বলেন, এসব না করলে নাকি টিআরপি পাওয়া যায় না রিয়েলিটি শো থেকে।

রিয়েলিটি শো’র এমন অনেক অজানা অধ্যায় আছে যেসব পড়লে যেকোনো পাঠকই রীতিমত আকাশ থেকে পড়বেন। সেসব নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

  • অনুষ্ঠান প্রযোজকই সর্বেসর্বা, বিচারকরা পুতুল

বিচারকরা নন, রিয়েলিটি শো-তে প্রযোজকরাই সর্বেসর্বা। বিচারকদের সাথে চ্যানেলের চুক্তিতেই এটা লেখা থাকে। বিচারকরা এখানে শুধু নিজেদের পছন্দটা বলেন। কে বাদ পড়বে, কে থেকে যাবে সেটা নিয়ন্ত্রন করেন প্রযোজকরা। প্রযোজক যদি বলে ফেলেন, ‘ওকে আমাদের দরকার নেই, ছুড়ে ফেলো…’ তাহলে বিচারকদের চুক্তি অনুযায়ী কিছু করার থাকে না। ওই অনুষ্ঠানের টিআরপি থেকেই তো তাঁদের পারিশ্রমিক আসে।

  • ত্রুটিপূর্ণ মানুষই প্রথম পছন্দ

রিয়েলিটি শো’র প্রযোজকরা দর্শকদের আবেগ নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন। তাই তো তারা এমন কিছু মানুষ সব সময়ই খুঁজেন যার কোনো শারীরিক সমস্যা আছে বা এমন কোনো ব্যক্তিগত অতীত আছে যা সাধারণ মানুষের আবেগকে নাড়া দিতে পারে।

  • বেয়ার গ্রিলসের ‘ধোঁকা’

‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’-এর সৌজন্যে আমরা বেয়ার গ্রিলসকে পর্দায় অনেক রকম দু:সাহসিক কাণ্ড ঘটাতে দেখা যায়। তবে, এর সবটা বাস্তব নয়। অনুষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক একবার বলেছিলেন, ‘আমরা যখন কোনো দুর্গম এলাকায় শ্যুটিং করতে যাই তখন সাথে করে পর্যাপ্ত পরিমান খাবার নিয়েই যাই। যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলা করার ব্যবস্থা থাকে আমাদের সাথে। বিপজ্জনক কোনো উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার আগেও সেটা অনেক ভাবে পরীক্ষা করে ঝুঁকিমুক্ত রাখা হয়।’

  • অনধিকারচর্চার ওস্তাদ

একটি রিয়েলিটি শো-এ অনেকরকম অনধিকার চর্চা হয়। অনেক সময়ই চ্যানেলের মালিকপক্ষ কিংবা তাদের মতাদর্শের পক্ষের লোকটিকেই তারা বিজয়ী হিসেবে দেখতে চায়। এক্ষেত্রে দর্শকদের পছন্দ কিংবা বিচারকদের সিদ্ধান্ত – কোনো কিছুকেই তাঁরা তোয়াক্কা করে না। অনেক সময় বড় তারকা বানিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক লেনদেনের খবরও পাওয়া যায়।

  • শুটিং ও ক্যামেরার কারসাজি

কিছু কিছু রিয়েলিটি শো-তে অনেক ফুটেজের শ্যুটিং করা হয়। তবে, সম্প্রচার করা হয় খুব সামান্য পরিমান। যেমন, ‘দ্য বিগেস্ট লুজার’ নামের একটি রিয়েলিটি শো-তে ১১ টি ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রতিদিন আটঘণ্টা করে শ্যুটিং করা হয়। মানে এক সপ্তাহ শেষে ৬১৬ ঘণ্টার ফুটেজ জমা হয়। যদিও সম্প্রচারিত হয় মোটে ৪২ মিনিট।

  • পুরোটাই একটা খেলা

টেলিভিশন গবেষকরা বলেন, রিয়েলিটি শো হল অনেকটা অভিনয় খেলার মত। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই এখানে সুনিপুণ ভাবে অভিনয় করেন। বিশেষ করে বিগ বসের মত শো গুলোতে নানা রকম ভিডিও ক্লিপিংস দেখানো হয় যেখানে ছবি স্পষ্ট না হলেও কথাগুলো স্পষ্টই দেখা যায়। একটা রহস্যের আবহ সৃষ্টি করে টিআরপি বাড়িয়ে নেওয়াই এর কাজ।

  • একবার না পারিলে দেখো শতবার

স্ক্রিপ্ট অনুসারে নির্মিত হয় বলেই কি না, প্রযোজকরা সব কিছু নিখুঁত ভাবে চান। এজন্যই প্রতিটি দৃশ্য প্রয়োজনে কয়েকদফা শ্যুট করে, এদের মধ্য থেকে সেরাটা বেছে নেওয়া হয়। এজন্য প্রতিযোগীদেরও খুব পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে যেতে হয়।

– রিডার্স ডাইজেস্ট ও ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।