বৈচিত্র তাঁর চুম্বকের মত কাছে টানে

‘চিনি কম’ ছবিটার কথা মনে আছে? ছবিতে টাবুর প্রিয় খাবার থাকে চিকেন বিরিয়ানি। অমিতাভ বচ্চন থাকেন পুরোপুরি নিরামিষভোজী। এই নিয়ে দু’জনের মাঝে দুষ্ট-মিষ্টি খুনসুটিও বাঁধে।

বাস্তবে অবশ্য টাবু পুরোদস্তর নিরামিষভোজী। অথ, টাবুর মা নাকি দারুণ বিরিয়ানি রান্না করেন। বুঝে নিন তাহলে, কতটা অধ্যাবসায় থাকলে এই ‘ঘাস-ভুস’-এর জীবন বেছে নেন টাবু।

টাবুর ব্যাপারে প্রথমেই যে কথাটা বলা হয় – তা হল তিনি বৈচিত্রময় একজন অভিনেত্রী। ভিন্নধর্মী চরিত্র করেন – সেটা বানিজ্যিক ছবিতে হোক, কিংবা হোক বিকল্প ধারার ছবিতে। ‘চাঁদনী বার’, ‘মকবুল’, ‘হায়দার’ ইত্যাদি ছবিতে যেমন তিনি ফিট হয়েছেন, তেমনি  একালের ‘আন্ধাধুন’ বা ‘গোলমাল এগেইন’-এ হয়েছেন হিট। নেতিবাচক কিংবা ইতিবাচক – যে কোন চরিত্রেই মানানসই তিনি।

বলিউডের শক্তিশালী এই অভিনেত্রীর আসল নাম তাবাস্সুম ফাতিমা হাশমি। যদিও, সেটা খুব কম লোকই জানেন। মিডিয়া পাড়ায় ‘টাবু’, ‘টাবস’, টিউবস’ নানা নামে পরিচিত তিনি।

টাবুর জন্ম ১৯৭১ সালের চার নভেম্বর, কলকাতায়। বাবা জামাল হাশমি ও মা রিজওয়ানা। যদিও, শিশু বয়সেই বাবা-মা’র বিচ্ছেদ দেখেন তিনি।

টাবু হলেন আরেক কালজয়ী অভিনেত্রী শাবানা আজমীর ভাগ্নী। টাবুর বড় বোন ফারাহ নাজও অভিনেত্রী ছিলেন। কোরিওগ্রাফার বাবা আজমী হলেন তাঁর চাচা। বোঝাই যাচ্ছে, মোটামুটি ফিল্মি পরিবার থেকেই তাঁর আগমন।

মা ছিলেন স্কুল টিচার। টাবু হায়দারাবাদের সেইন্ট অ্যান্স স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৩ সালে তিনি মুম্বাই চলে আসেন। সেইন্ট জ্যাভিয়ার্স কলেজে ছিলেন ছিলেন দু’বছর। এরপর আসেন সিনেমায়। যদিও শিশুশিল্পী হিসেবে মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৮২ সালে তিনি ‘বাজার’ ছবিটি করেছিলেন।

‘হাম নওজোয়ান’ – ১৯৮৫ সালের সিনেমাটিতে কিংবদন্তি দেব আনন্দের তরুণ কন্যার চরিত্রে কাজ করেন টাবু। নায়িকা হিসেবে তাঁর অভিষেক হয় অবশ্য তেলেগু ছবিতে। ১৯৯১ সালের ছবিটির নাম ছিল ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’। ১৯৯৫ সালে গোবিন্দ ও কারিশমাকে নিয়ে এই ছবিটিই রিমেক করেছিলেন ডেভিড ধাওয়ান। সামনে একালের ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’ও নাকি আনছেন এই নির্মাতা। সেখানে থাকেন বরুণ ধাওয়ান ও সারা আলী খান।

বলিউডে টাবুর অভিষেকটা স্মরণীয় ছিল। ১৯৯৪ সালে তিনি দু’টি ছবি করেন। ঋষি কাপুরের সাথে ‘প্যাহলা প্যাহলা প্যায়ার’ ফ্লপ হলেও অজয় দেবগনের সাথে ‘বিজয়পথ’ সে বছরের অন্যতম বড় হিট ছিল। এর সুবাদে ফিল্মফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কারও জিতে যান টাবু। ছবিতে ‘রুক রুক রুক’ গানটা আজো সমান জনপ্রিয়।

যদিও, বলিউডে তিনি প্রথম চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ‘প্রেম’ সিনেমায়। বনি কাপুরের প্রযোজনায় ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সঞ্জয় কাপুর। আট বছর লাগে ছবিটির নির্মান শেষ হতে । যদিও, ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর বোঝা গেল সেটা আহামরী কিছু ছিল না।

টাবু দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। দু’টোই সেরা অভিনেত্রী হিসেবে। সিনেমা দু’টি হল – ‘মাচিস’ ও ‘চাঁদনী বার’ ছবির জন্য। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার জিতেছেন ছয়বার, দক্ষিণের ফিল্মফেয়ার জিতেছেন একবার। চারবার স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড, দু’বার করে জি সিনেমা ও আইফা অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। সিনেমায় অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালে পান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী।

আজ অবধি বিয়ে করেননি টাবু। তবে, প্রেম তাঁর জীবনেও এসেছে। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকবে প্রযোজক-নির্মাতা সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার নাম। সাজিদের জীবনের সবচেয়ে বড় ‘শক’ স্ত্রী ও নব্বই দশকের সুপার স্পার দিব্যা ভারতীর হঠাৎ মৃত্যু। সেই মৃত্যু এখনো রহস্য। কেউ বলে খুন, কেউ বলে আত্মহত্যা, কেউ বা বলে দুর্ঘটনা। এমন একটা ঘটনার পর যেকোনো স্বামীরই ভেঙে পড়া স্বাভাবিক। তাই সাজিদও নিজের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তখনই দৃশ্যপটে আসেন টাবু। দু’জনের মধ্যে ভাল একটা বোঝাপড়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে থাকেন। যদিও, টাবু সরে আসেন এক সময়। কারণ তিনি ‍বুঝে যান যে, সাজিদ কখনোই দিব্যাকে ভুলতে পারবেন না।

গুঞ্জন আছে নাগার্জুনার সাথেও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন টাবু। নব্বই দশকে দক্ষিণের কিংবদন্তিতুল্য এই নায়কের সাথে কয়েকটি সিনেমা করেছিলেন টাবু। এর মধ্যে আছে ‘আভিদা মা আভিদে’ ও ‘নিনে পেল্লাদাথা’। ওই সময় দু’জনের বেশ রোম্যান্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেটা এখন না থাকলেও দিব্যি বন্ধুত্বটা টিকে আছে এখনো।

বিয়ের প্রসঙ্গ এলেই পেশাদারদের মত বিষয়টা এড়িয়ে যান টাবু। কেন? কেউ জানে না। টাবু এই মধ্য বয়সেও পুরোদমে নিজের একাকী জীবন উপভোগ করে চলেছেন। সেটাই বা ক’জন পারে!

টাবুর ব্যাপারে অজানা একটা চরিত্র দিয়ে ইতি টানি। টাবু নিজের চুল নিয়ে খুব খুঁতখুতে। অন্য অভিনেত্রীরা যেমন কেশবিন্যাস নিয়ে পর্দায় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, টাবু মোটেও তা করেন না। তাঁর চুল বরাবরই লম্বা আর কালো। অভিনয়ের মত এটাও তাঁর ট্রেডমার্ক।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।