রানী চাইলে কি না পারেন!

আদি সাম্রাজ্যবাদ এখন অতিত। রাজতন্ত্রের জায়গা নিয়েছে এখন গণতন্ত্র। তবে, আজো বিশ্বের অনেক জায়গায় টিকে আছে রাজারানীদের আধিপত্ত। তাঁদের সাম্রাজ্যগুলো আলঙ্করিক হলেও ক্ষমতা কিন্তু নেহায়েৎ কম নয়। এই যেমন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তিনি এমন সব ক্ষমতার অধিকারী যা শুনলে আপনি তাজ্জব বনে যেতে বাধ্য।

  • প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই
১৯৩৬ সালে ছোট বোন প্রিন্স মার্গারেটের (বাঁয়ে) সাথে।

রানীকে কখনো স্কুলেও যেতে হয়নি। এর মানে এই নয় যে, তিনি অশিক্ষিত। রাজবাড়িতে প্রাইভেট টিউটররা এসে তাঁকে পড়াতেন।

  • জোড়া জন্মদিন

রানীর দুটো জন্মদিন পালন করা হয়। একটা হল সত্যিকারের- ২১ এপ্রিল, এই দিনে তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন। দ্বিতীয়টি হল ১১ জুন। এটাই তাঁর আনুষ্ঠানিক জন্মদিন বলে পালিত হয় প্রতিবছর। এদিন ব্রিটেনের আকাশে বিমান থেকে আলোর গোলা ছোড়া হয়।

  • নিজস্ব এটিএম বুথ

রানীর নিজস্ব এটিএম বুথ আছে। বাকিংহ্যাম প্যালেসের বেজমেন্টে একটি এটিএম বুথ আছে, যেটা কেবল রাজ পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করতে পারেন।

  • বন্ড গার্ল

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন রানী এলিজাবেথ একজন বন্ড গার্ল। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনের সময় তিনি সম্মানসূচক বন্ড গার্লের দায়িত্ব পালন করেন। হেলিকপ্টার থেকে প্যারাসুটে করে মঞ্চ তাঁর অবতরণ হয়। বলাই বাহুল্য যে, তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেমস বন্ড, মানে ড্যানিয়েল ক্রেগ।

  • প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একজন

প্রথম দিককার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একজন হলেন রানী এলিজাবেথ। ১৯৭৬ সালে প্রথম রাজত্বের অধিকারী হিসেবে তিনি ‘HME2’ ইউজার নেম ব্যবহার করে ই-মেইল পাঠান।

  • ডলফিনের মালিকানা

তিনি ইংল্যান্ডের সকল ডলফিনের মালিক। এই নিয়ম সেই ১৩০০ শতকে বানানো। শুধু তাই নয়, তিনি এক ঝাঁক হাসেরও মালিক। টেমস নদীর সব হাসের মালিক রানী।  এই হাসের দেখ ভালের জন্য একটা পদও সৃষ্টি হয়েছে রাজপরিবারে – ‘দ্য কিপার অব দ্য সোয়ান’।

  • ব্যক্তিগত কবি

রানীর একজন ব্যক্তিগত কবি আছেন। কোনো স্মরণীয় অনুষ্ঠানে এই কবি রানীর হয়ে কবিতা রচনা করেন।

  • ৬৭ বছরের রাজত্ব

রানী হিসেবে চলছে এলিজাবেথের ৬৭ তম বছর। এই সময়ে ১৪ জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ১৩ জন আমেরিকা রাষ্ট্রপতি নিজেদের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ও নিয়েছেন।

  • অস্ট্রেলিয়ারও রানী

শুধু ইংল্যান্ড নয়, এলিজাবেথ একই সাথে অস্ট্রেলিয়ারও রানী। ১৯৫৩ সালে রয়্যাল স্টাইলস ও টাইটেল অ্যাক্টস এর মাধ্যমে তিনি এই ক্ষমতা পান। আর তিনি চাইলে যেকোনো সময় অস্ট্রেলিয়ান সরকার পরিবর্তন করে ফেলার ক্ষমতা রাখেন।

  • চাঁদে বার্তা

অ্যাপোলো ১১ ১৯৬৯ সালে চাঁদে পৌঁছায়। নিল আর্মস্ট্রঙ ও বুজ অলড্রিন সেখানে আমেরিকান পতাকার সাথে সাথে একটা সিলিকনের ডিস্কে কয়েকজন বিশ্বনেতার বার্তা গেঁথে দিয়ে আসেন। এই নেতাদের একজন ছিলেন স্বয়ং রানী এলিজাবেথ।

– কসমোপলিটন, স্কুপহুপ ও দ্য ইনসাইডার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।