তামিম ও বিরিয়ানির মাঝে এসেছিলেন যিনি

একটা সময় ছিল, যখন  বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ফিটনেস ছিল তথৈবচ, জার্সির আড়ালে উঁকি দেয়া মেদবহুল পেট নিয়ে বিভিন্ন লোকে বিভিন্নভাবে বিদ্রূপও করেছে যথেচ্ছ। সেই সমালোচনা আজকাল মোটামুটি কমের দিকে এসেছে বলা চলে। এই রূপান্তরের পেছনে যদি কাউকে বিশেষভাবে কৃতিত্ব দিতে হয়,  তবে তার দাবিদার মারিও ভিলেভারায়ণ।

জাতীয় দলের সদ্য সাবেক বনে যাওয়া এই শ্রীলঙ্কান ফিটনেস ও কন্ডিশনিং ট্রেইনার ২০১৪ সাল থেকে যোগদান করে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নবউত্থানের পেছনে যথেষ্ট কাজ করেছেন। তিনি মার্চের শেষে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলে যোগ দিতে টাইগার-পর্বের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের কাজের জায়গা ছেড়ে যাবার আগে ডেইলি সানের আতিফ আজমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে গেলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে অনেক কথা।

আপনার বাংলাদেশে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন।

মারিও ভিলেভারায়ণ: ছেলেদের নিয়ে আমার এ ছয় বছরের যাত্রা খুবই দারুণ কেটেছে। আমি যদি একটু পিছনে ফিরে তাকাই, আমি যে অবস্থা থেকে তাঁদের নিয়ে শুরু করেছি এবং এখন যেরকম রেখে যাচ্ছি, আশা করছি তাঁরা আমার কাজকে ধরে রাখবে এবং আরও কাজ করবে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে, এই যাত্রা সফল ছিল।

আমরা কোথা থেকে শুরু করেছিলাম এবং বর্তমানে আমরা যেখানে রয়েছি, এটি দারুণ অগ্রগতি প্রকাশ করছে।

তবে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। এখন তাঁদের পরবর্তী স্তরে উঠতে হবে।

ব্যাপারটা এমন না যে, আমি চলে গেলেই তাঁদের কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবেনা। এজন্য আমি আশা করি যে, আমি তাঁদের যা শিখিয়েছি তা নিয়ে কাজ করবে এবং এগিয়ে যাবে। যেই আসুক না কেন, উনাকে নিয়ে তাঁদের কাজ করতেই হবে। যিনি আসবেন, আশা করি ছেলেদের সাথে উনার কাজ করা সহজ হবে, কারণ তাঁরা জানে যে কি করতে হবে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কী?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আমি মনে করি,  সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যেটা হয়েছে তা হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

আমি যা বুঝলাম, তাঁরা দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পেরেছিল কারণ লম্বা সময় ধরে চলে আসা সমস্যাগুলির মূল তাঁদের আগে থেকেই জানা ছিল। তাঁরা এক সিরিজের জন্য ট্রেইনিং করত এবং সিরিজ শেষ হলে পরের সিরিজের আগপর্যন্ত সময়টায় ব্যায়ামগুলিও ভুলে যেত। তবে এখন সেরকম আনফিট প্লেয়ার জাতীয় দলে নেই কারণ তাঁরা নিজেরাই সচেতন হয়ে উঠেছে। বাড়িতে গেলেও তাঁরা ডায়েট মেনে চলছে। মনোভাব বদলানোর সাথেই এগুলো চলে এসেছে, আমি ফিটনেসের প্রতি তাঁদের মনোভাব পরিবর্তন করতে সাহায্য করতে পারায় খুব আনন্দিত।

আপনি কীভাবে তামিমকে বিরিয়ানি থেকে সরিয়ে আনতে পেরেছেন?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আমি তামিমকে নিয়ে খুব খুশী। আমি আসলেই স্বস্তি পেয়েছি এটা দেখে যে, তিনি ছিলেন দলের কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম একজন, যিনি খেতে ভালবাসেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি যদি পারফর্ম করতে চান এবং আরও ভাল কিছু করতে চান তাহলে তাঁর ডায়েটে পরিবর্তন করা দরকার। আমি তাকে বলি কী করতে হবে এবং সে এটি করেছে। তাই এক্ষেত্রে  কৃতিত্বটা তাঁরই।

এই পরিবর্তনের পিছনে আপনার মূল মন্ত্রটি কী ছিল?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আমি সাবেক ক্রিকেটার ছিলাম বলে আমার জন্য কাজটি কঠিন ছিল না।

আমি প্রত্যেককে বুঝতে চেষ্টা করেছি। আমি কাজের ধরণ হচ্ছে প্রত্যেক ব্যক্তিত্বকে আলাদাভাবে চিন্তা করা। তামিম ইকবালের জন্য যা কাজ করল , তা সাকিব আল হাসানের জন্য কাজ নাও করতে পারে। আবার লিটন দাস বা মুশফিকুর রহিমের জন্য এটি যথেষ্ট না হতে পারে। আমি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি, ব্যক্তিগতভাবে সবার সাথে কাজ করে যাওয়া।

তবে এটি দল ছিল, কিন্তু তাঁদের মনোভাব পরিবর্তনে আমি সবার সাথে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেছি। আমি পৃথকভাবে প্রত্যেকের সাথে আলোচনা করেছি।

দলে সবচেয়ে অলস কে?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আমি অলস বলতে চাইনা। সবারই কাজের প্রতি মনোযোগ ছিল। কিন্তু তাঁদের মনোভাব ঠিক ছিল না। তাঁদের চিন্তা ছিল, ‘আমি যথেষ্ট মেধাবী, আমার ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করার দরকার নেই। আমার প্রতিভা আমাকে সেরা করে তুলবে’ এই মনোভাব পরিবর্তন করাই আমার কাজ ছিল।

আপনি কীভাবে তাঁদের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন?

মারিও ভিলেভারায়ণ: এখানেও তাদের মনোভাব পরিবর্তন করাটা দরকার ছিল। তাঁরা কেন কাজটি করবে তা নিয়ে আমি তাঁদের বিরাট বক্তব্য দিতে পারতাম। কিন্তু তাতে লাভ কি হত? যখন তাঁরা ফিরবে, কোন পরিবর্তন হবে?

আমি কিন্তু বলছি না, যখন আপনার মা আপনার জন্য রান্না করবেন তখন আপনি সেটা খাবেন না।

আপনি যখন বাড়িতে যাবেন, এবং আপনার মা আপনার জন্য রান্না করে, আপনি বলতেও পারবেন না যে আপনি সেটা খেতে পারবেন না। আমি উপমহাদেশের সংস্কৃতি জানি। আমি সেই পরিস্থিতিতেও পড়েছি। যখন আপনার মা এত কষ্ট করে আপনার জন্য রাঁধবেন তা আপনার খেতে হবে নয়তো সে মন খারাপ করে। আপনিও চান খেতে, কারণ এই খাবার খেয়েই আপনি বড় হয়েছেন। তবে পরদিন ব্যায়াম করুন, ঘাম ঝরান।

এখন প্রত্যেকের অবস্থা আরও ভাল অবস্থায় রয়েছে কারণ তাঁরা জানে- আপনি বাড়িতে যে খেয়েছেন তাঁতে অতিরিক্ত ওজন না বাড়তে দেওয়ার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত অনুশীলন করতে হবে।

সুতরাং, ফিটনেসের প্রতি সবার মনোভাব বদলেছে এবং যা যা করা হলো  যা সত্যিই ভাল।

ফিল্ডিংয়ে ভাল করার জন্য বাংলাদেশের কী করা দরকার?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আমি জানি না এটি শুধু ফিল্ডিং, ব্যাটিং বা বোলিংয়ের ব্যাপার কিনা। এটা সামগ্রিক ইস্যু।

ব্যাটিং কিংবা বোলিং আমরা যাই করি না ফিটনেসের একটা প্রভাব আসবেই এবং ফিল্ডিংয়েও চলে আসে। এটি সামগ্রিক জিনিস। এজন্য সবক্ষেত্র একসাথে ভাবতে হবে এবং রুট লেভেল থেকেই শুরু করতে হবে।

কারণ হঠাৎ দলে এসে এসব দক্ষতা বাড়ানো কঠিন কাজ।

মুশফিকুর রহিমের নিয়মতান্ত্রিকতা নিয়ে কিছু বলুন?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আপনি যদি মুশিকে যা বলবেন, সে তাঁর বেশি করে ফেলবে। সুতরাং আমার কাজ, পিছন থেকে তাঁর পথপ্রদর্শক হয়ে থাকা। কারণ কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন এতটা তীব্র যে সে চেষ্টা করতেই থাকে। আবার তামিমের কথা আসলে সে কিছুটা আলাদা। সুতরাং আমাদের সম্ভবত তাকে কিছুটা চাপ দেওয়া দরকার ছিল। যদিও তা ছয় বছর আগের কথা, এখন তিনি নিজের ট্রেনিং নিজেই নিতে থাকেন।

আগে, সম্ভবত তিনিই আসতেন শেষ ব্যক্তি হিসেবে। কিন্তু তাঁর মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি কোথায় থাকতে চান এবং কী অর্জন করতে চান তা এখন তিনি তা জানেন। ফিটনেসের ট্রেনিং আসলে বিভিন্নভাবে হতে পারে ব্যক্তিভেদে। সুতরাং, তামিমের জন্য একরকম, সাকিব আরেকরকম আবার লিটন আলাদা। আমার কাজই ছিল বাছাই করা।

যার যে টোটকা প্রয়োজন তাঁকে সেটাই দিতে হতো। তাঁরা সকলেই প্রত্যেকেই গায়ে শক্তি রাখেন। তাই তামিমের প্রয়োজন এবং মুশির প্রয়োজন আলাদা। এটি বোঝাই একজন ট্রেনারের কাজ। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাংলাদেশী, এশিয়ান।

আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের মতো গায়ের জোরে বড় ছক্কা মারতে পারি না। আমরা নির্ভর করি দক্ষতায়, টেকনিকে। আমাদের উপমহাদেশীয় জিন তাঁদের থেকে আলাদা। আমাদের যা আছে তা দিয়ে আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে।

আমরা কখনই আন্দ্রে রাসেলের মতো বড় ছক্কা মারতে পারব না। শ্রীলঙ্কা একটি টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে, আরেকবার ফাইনালে উঠেছে সেধরণের শারীরিক শক্তিসম্পন্ন প্লেয়ার ছাড়াই।

বাংলাদেশের পেসারদের কি পাঁচ দিন ধরে বল করার ফিটনেস আছে?

মারিও ভিলেভারায়ণ: আপনি যদি এক্ষেত্রে দ্রুতগতির বোলারদের কথা ভাবেন,  তবে তাঁদের আরও ফিটনেস প্রশিক্ষণ নিতে হবে। যদি তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে পর্যাপ্ত বোলিং না করে, মাঠে ছয় ঘন্টা ব্যয় না করে এবং প্রতিদিন বিশ ওভার নিয়মিত বোলিং না করে, তাহলে তা কাজ করবেনা। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদিন বিশ ওভার বল করে একজন পেসার ম্যাচ ফিটনেস অর্জন করে। মাঠে ছয় ঘন্টা ব্যয় করে তাঁরা পরেরদিনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারে।

আগেকার ফাস্ট বোলাররা কীভাবে এতটা ফিট থাকতে পেরেছিলেন?

মারিও ভিলেভারায়ণ: তারা অনেক বল করত। আপনি কোর্টনি ওয়ালশকে জিজ্ঞাসা করুন। তারা প্র্যাকটিসে অনেক বোলিং করত। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর বোলিং করত। আপনি ডেল স্টেইনকে জিজ্ঞাসা করুন, সুযোগ সুবিধা থাকুক না থাকুক, তাঁরা প্রচুর বোলিং করত। আপনি যাকেই জিজ্ঞাসা করেন তাঁরা বলবেন যে তারা অনুশীলনে এবং ম্যাচগুলিতে প্রচুর বোলিং করত। এটাই দরকার উইকেটের জন্য।

সবচেয়ে ধারাবাহিক ফিট ক্রিকেটার কে?

মারিও ভিলাভারায়ণ: মুশফিককে এগিয়ে রাখব। তিনি ধারাবাহিকভাবে ফিট ছিলেন।

তবে, লিটন সমসাময়িকদের তুলনায় অনেক উন্নতি করেছে। এখন তারা নিজেরাই কাজ করছে। কিছুদিন ধরে আমি দেখছি লিটন আমাকে না বলেই তার নিজের জন্য অনেক ট্রেনিং কৌশল আয়ত্ব করছে। এটিই আমার সফলতা। তারপর সৌম্য, সাইফ এই ছেলেরা অনেক উন্নতি করেছে।

আপনি কি বিপ টেস্ট এবং অন্যান্য ফিটনেস টেস্ট সম্পর্কে আমাদের জানাতে পারেন?

মারিও ভিলেভায়রান: বিপ টেস্ট হল সেরা ফিটনেস পরীক্ষা।

আপনি কীভাবে এটিকে দেখেন তা গুরুত্বপূর্ণ।

তামিমের জন্য আমরা তাঁর হাঁটুর কারণে বিপ পরীক্ষা করিনা। আমরা তাঁর জন্য দুই কিলোমিটার দৌড়েছি কারণ তাঁর সমস্যা বলতে কষ্ট হয়। সুতরাং বীপ পরীক্ষা আপনার ফিটনেসের কেবল একটি দিক। দুই কিলোমিটার দৌড় অনেকের সমস্যা ধরতে এবং কাজ করতে ফল দিয়েছে। কিন্তু এটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে আলাদা হয়। আমরা সবাইকে এগুলি করতে বলিনা।

নাসির বারো বছর ধরে খেলছেন। কিন্তু তাঁর বেশ কয়েকটা ইনজুরি আছে।

সুতরাং, আপনি যখন একজনকে মূল্যায়ন করছেন সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে নিতে হবে।

ইয়ো ইয়ো টেস্ট নিয়ে কিছু বলুন…

মারিও ভিলেভারায়ণ: দুইটিতেই খুব মিল। তবে আমার পছন্দ হলো,  নিরবিচ্ছিন্ন বিপটেস্টে সবার অবস্থা দেখা। ইয়ো ইয়োতে, প্রতিটি শাটল (রাউন্ড) পরে কিছুটা বিশ্রাম রয়েছে।

বিপ পরীক্ষা আমাকে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তথ্য দেয়। ইয়ো ইয়োতেও আমাকে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য দেয়। আপনি কীভাবে এই তথ্যটি গ্রহণ করেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করেন সেটাই এর সার্থকতা। হয়তো নতুন ট্রেনার ইয়োইয়োতে ফোকাস করতে পারে। আমি এটা ভুল বলছি না।

মাশরাফি বিন মুর্তজার মানসিক শক্তি সম্পর্কে নিয়ে কিছু বলুন।

মারিও ভিলেভারায়ণ: তাঁর হাঁটুর উপরে সাতটি সার্জারি হয়েছে তবু তিনি যা করছেন তা অবিশ্বাস্য। আমি তাঁকে ড্রেসিংরুমে দেখেছি, তাঁকে যে টেপিংটা করতে হয় আরও যা করতে হয় তা থেকেই প্রমাণ হয়,  তিনি প্রচুর চেষ্টা করেন। তিনি যা অর্জন করেছেন তা অর্জন করতেও বড় হৃদয় লাগে।

আপনি ক্রিকেটারদের কীভাবে অনুপ্রাণিত করেন?

মারিও ভিলেভারায়ণ: একজন কোচ হিসাবে এটি আমার দায়িত্বের একটি অংশ। আপনি তাঁদের সাথে কঠোর হতে পারবেন না বরং অনুপ্রাণিত করে কাজ করতে পারবেন।

যখন কেউ খারাপ সময় পার করছে, কোনকিছুতেই মন বসাতে পারছে না তখন আমি এগিয়ে যাই তাঁর কাছে। আমাকে এগুলো বুঝতেই হবে এবং সেই সময়গুলিতে এই খেলোয়াড়দের কাছে নিজেকে মেলে দেওয়া উচিত।

আপনি পরিবারসহ প্রায়শই সেই জায়গায় যেতেন, সেই হলি আর্টিজান হত্যা আপনাকে কতটা প্রভাবিত করেছিল?

মারিও ভিলেভারায়ণ: হ্যাঁ, সময়টা খুব কঠিন ছিল কারণ কেউই এরকম আশা করেনা। এতে খানিকটা ধাক্কা লেগেছিল। সবাই ফিরে এসেছিল বলে আমরাও ফিরে এসেছি। এটি কেবল আমার জন্য নয়, খেলোয়াড়দের জন্যও একটি ধাক্কা ছিল, সবার জন্য এটি ছিল বিশাল শক। তাই এটি সবার জন্যই মর্মান্তিক শুধু আমি না।

আপনি কি আইপিএলে (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) কাজ করার জন্য উদগ্রীব?

মারিও ভিলেভারায়ণ: ২০১১ সালে আইপিএলে আমি কোচি টাস্কার্সের সাথে কাজ করেছি।

সুতরাং আমার জন্য এটা নতুন অভিজ্ঞতা না। তবে বাংলাদেশের সাথে সর্বোপরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজ করার পর হঠাৎ সেই পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত। আমি এরআগেই ডেভিড ওয়ার্নার, জনি বেয়ারস্টো এবং ভুবনেশ্বর কুমারদের সাথে কাজ করেছি। তাঁরা কিভাবে কাজ করছে এবং আমি কীভাবে তাদের সহায়তা করতে পারি তাই দেখতে চাই। আমি সেদিকে নজর দিচ্ছি।

ড্রেসিংরুমের তুলনায় এটি বেশ দ্রুততর পরিবেশ হবে না?

মারিও ভিলেভারায়ণ: এটিই হলো আমাদের কাজের প্রকৃতি। খেলোয়াড়দের মতো আমাকেও সেই পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই হবে। আমাকেও একই কাজ করতে হবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।