শিল্পা শেঠি: বলিউড আকাশের হারিয়ে যাওয়া তারকা

সেই ২০০৮ সালের কথা। মুক্তি পায় জন আব্রাহাম ও অভিষেক বচ্চনের আলোচিত ছবি ‘দোস্তানা’। বেশ দর্শকপ্রিয়তা পায়। সেখানেই ‘শাট আপ অ্যান্ড বাউন্স’ আইটেম গানে একেবারে নতুন রূপে হাজির হয়েছিলেন শিল্পা শেঠি।

মনে করা হচ্ছিল, বেশ ধুমধামের সাথে বলিউডে নিজে  নতুন ইনিংস শুরু করলেন শিল্পা। কিন্তু, সেই মনে করাটা স্রেফ মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপরের ছয়টা বছর আর কোনো সিনেমাতেই হাজির হননি তিনি।

মাঝে ২০০৯ সালে ব্যবসায়ী রাজকুন্দ্রাকে বিয়ে করেন পরিবারের ব্যবসা আর সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। এরপর ২০১২ সালে তার কোল আলো করে পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়ার পর তো তার আর দম ফেলারও ফুরসৎ ছিল না।

২০১৪ সালে প্রযোজক হিসেবে ‘ডিশকিয়া’ সিনেমার ‘তু মেরে টাইপ কা নেহি’ গানে অল্প কিছুক্ষণ থাকলেও সেটা লোকের মুখে মুখে আলোচিত হয়নি। এরপর আবারো বলিউডে অনুপস্থিত শিল্পা। সেই অনুপস্থিতি এখনো চলছে।

সব মিলিয়ে ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির আকাশে-বাতাসে একটা কথাই ঘুরে ফিরছে – তাহলে কি হারিয়েই গেলেন শিল্পা শেঠি? হারিয়ে গেলেন সেই ১৯৯৩ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে বাজিগরের মত সুপারহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে আসা এই ‘বোল্ড উইদ দ্য বিউটি’?

শিল্পা নিজেও এই গুঞ্জন, এই প্রশ্নবান নাকোচ করে দেওয়ার মত অবস্থাতে নেই। মাঝের কিছুটা সময় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তাঁর দল রাজস্থান রয়্যালসকে নিয়ে তার সময়টা ভালই কাটছিল। এর মধ্যেই উদয় হয় ফিক্সিং-স্পট ফিক্সিংয়ের আনাগোনা।

একটা সময় শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হত। এমনকি বেশ কয়েকবার পুলিশের জেরার মুখেও পড়েছিলেন। কালক্রমে আইপিএলে নিষিদ্ধ হয়ে যায় এক সময়কার চ্যাম্পিয়ন দল রাজস্থান রয়্যালস। আইপিএলে রাজস্থান ঠিকই ফিরেছে, কিন্তু মালিকানা পাল্টে যাওয়া শিল্পা-কুন্দ্রাদের ফেরা হয়নি।

আস্তে আস্তে করে নিজেকে আরো ‍গুটিয়ে নেন নব্বইয়ের দশকে আগ, ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি, আও প্যায়ার কারে, হাতকড়ি, ধারকানের মত সিনেমা উপহার দেওয়া শিল্পা।

বাজারে এসেছে তাঁর রান্নার বইয়ের নাম ‘‌দ্য ডায়েরি অফ আ ডমেস্টিক ডিভা।’‌এই রান্নার বইয়ে শিল্পা শেঠির নিজস্ব ৫০টি রেসিপি দেওয়া হয়েছে। ইউটিউবে তাঁর রান্নার চ্যানেলটাও বেশ জমে উঠেছে।

এর আগে যোগ ব্যায়ামের সিডি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে, বলিউড থেকে হারিয়ে গেলেও শিল্পার ব্যস্ততা একেবারে কমে যায়নি।

এবার একটা ভিন্ন আলোচনায় আসি। অভিনেত্রী বা তারকা হিসেবে শিল্প শেঠি আসলে কেমন ছিলেন? শিল্পা এমন কেউ ছিলেন না, যার ওপর একটা সিনেমার সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করতো।

কখনোই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বা ফিল্ম ফেয়ার পাননি তিনি। যদিও, ফিল্ম ফেয়ারের মঞ্চে সেরা নবাগত অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব-চরিত্র ও সেরা অভিনেত্রী- তিনটি ক্যাটাগরিতেই একবার করে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।

যদিও, ২০০৭ সালে বৈশ্বিক ভাবে প্রভাব রাখার কারণে আইফা জিতেছিলেন তিনি। কারণ সে বছরই ব্রিটিশ রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর পঞ্চম আসরে বিজয়ীর ‍মুকুট পরেছিলেন তিনি। সেবার শিল্পাকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই বছরই ‘লাইফ ইন আ… মেট্রো’ ও ‘আপনে’ নামের দু’টি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন তিনি। তবে, এই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

কালক্রমে তাই বড় পর্দা থেকে হারিয়ে যান। এখন কেবল তাই ছোট পর্দায় নানা রকম রিয়েলিটি  শো-তে বিচারক হয়েই টিকে আছেন শিল্পা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।