মধুর মাধুরী

১৯৮৪ সাল। ‘অবোধ’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটে এক মারাঠি কন্যার। মায়াবী চেহারার সেই মেয়েটি তাঁর ভুবনজয়ী হাসি ও স্নিগ্ধ সৌন্দর্যতায় হয়েছেন বহু তরুনের স্বপ্নচারিনী। বলিউডে রাজত্ব করেছেন প্রায় এক যুগের ও বেশি সময় ধরে। তিনি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকা – মাধুরী দীক্ষিত।

প্রথম চার বছরে মুক্তি পাওয়া কোনো ছবিই পায়নি হিটের তকমা। এরপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।  ১৯৮৮ সালে অনিল কাপুরের বিপরীতে ‘তেজাব’ সিনেমা দিয়ে পান প্রথম ব্যবসাসফল সিনেমার খেতাব। ‘এক দো তিন’-এ নাচের ঝলকে ‘মোহিনী’ রুপে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

এরপরে শুধু এগিয়ে যাবার পালা। ১৯৮৯ সালে রাম লক্ষণ, প্রেম প্রতিজ্ঞা, ত্রিদেব, জামাই রাজা, পারিন্দা দিয়ে হয়ে ওঠেন বছরের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। এর পরের বছর দিল(১৯৯০) সিনেমাটি ক্যারিয়ারে আরো গতিশীল করে। যুক্ত হয় নতুন পালক।

১৯৯১ সালে সঞ্জয় দত্ত ও সালমান খানের বিপরীতে জনপ্রিয় সিনেমা ‘সাজান’ দিয়ে হয়ে ওঠেন তখনকার বলিউডের এক নম্বর নায়িকা। পরবর্তী বছর গুলো ছিল দর্শকদের আস্থা রাখার প্রতিদান। বেটা (১৯৯২) ও খল নায়ক (১৯৯৩) সিনেমা ছিল সেই আস্থার এক নতুন ঝলক। অভিনয়, নৃত্যে, সৌন্দর্যতা দিন দিন হয়ে উঠেন অনন্য। হালের আইটেম সং এর ধারাটা এইখান থেকেই অন্যমাত্রা পায়।

নব্বই দশকের সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন (১৯৯৪)’ এর নায়িকাও তিনি। সালমান খানের বিপরীতে তাঁর ‘দিদি তেরা দেবর দিওয়ানা’য় নতুন ভাবে বিমোহিত হলেন দর্শকরা। তাঁর অভিনয়, নাচ, সৌন্দর্যতা সিনেমাটিকে এনে দেয় ভিন্নমাত্রা।

১৯৯৭ সালে প্রখ্যাত পরিচালক যশ চোপড়ার সাথে কাজ করেন ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমায়। শাহরুখ খানের বিপরীতে এই ছবিটিও এনেছিল ভিন্নমাত্রা। ২০০২ সালে আবার প্রতিভার ঝলক দেখান মাধুরী দীক্ষিত। সঞ্জয় লীলা বানসালির শরৎ সাহিত্য নিয়ে সিনেমা ‘দেবদাস’-এ চন্দ্রমুখী চরিত্রে আবির্ভূত হয়ে দর্শকদের বিমোহিত করেন। এই ছবিতে পন্ডিত বিরজু মহারাজের পরিচালনায় নৃত্যে পারদর্শিতা দেখান।

মাধুরীর এই বর্ণিল ক্যারিয়ারে আরো মুক্তি পায় আনজাম (১৯৯৪), রাজা (১৯৯৫), ইয়ারানা (১৯৯৫), কয়লা (১৯৯৭), বড় মিয়া ছোট মিয়া (১৯৯৮), লজ্জা (২০০১) ও বেশ কয়েক বছর বিরতি দিয়ে আজা নাচালে (২০০৭), ঢেড় ইশকিয়া (২০১৪), গুলাব গ্যাং (২০১৪) এর মত দর্শক নন্দিত সিনেমা।

বিখ্যাত চিত্রকর মকবুল ফিদা হুসেন তাঁর সৌন্দর্যতায় মুগ্ধ হয়ে তাকেই নিয়ে সিনেমা বানান গজগামিনী (২০০০)। বিখ্যাত নৃত্যপরিচালক সরোজ খানের কাছে সেরা নৃত্যপটীয়সী মাধুরীই। অনিল কাপুর, মাধুরীর সাথে জুটি বেঁধেই ক্যারিয়ারকে আরো বর্ণিল করেছেন। সঞ্জয় দত্ত তো রুপে মুগ্ধ হয়ে মাধুরীকে মন দিয়েই বসে ছিলেন। সালমান খান এখন পর্যন্ত অনেক নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন, তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা নায়িকা মাধুরী দীক্ষিতই।

শাহরুখ খান বলেন, মাধুরী হলো সেরা সুন্দরী রমনী, সে অনন্য। মাধুরী যেমন বিনোদ খান্নার সাথে রোমান্স করেছেন,তেমনি অক্ষয় খান্নার হাতে হাত ও রেখেছেন। একালে নায়ক রনবীর কাপুর ও বাবা ঋষি কাপুরের মত ঘাগড়া পড়ানোর ছলে রোমান্স করতে দ্বিধা করেন না। তাঁর চেহারা ও হাসির কারনে দর্শকরা তাকে তুলনা করেন সুচিত্রা সেন ও মধুবালার সঙ্গে।

বর্ণিল ক্যারিয়ারে পেয়েছেন, পদ্মবিভূষণ, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার,ফোর্বসের জরিপে সেরা পাঁচ প্রভাবশালী ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকাদের একজন। শতবর্ষের ইতিহাসে পেয়েছেন সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়িকার খেতাব।

১৯৯৯ সালে ঘর বাঁধেন ডা. শ্রীরাম নেনের সঙ্গে। বলিউডে আগ্রহ ছিল না নেনর। বিয়ের আগে তাই মাধুরী নামের কাউকে চিনতেন না তিনি। তাঁর ছবি দেখার তো প্রশ্নই ওঠে না। মাধুরীও এমন কাউকেই চাইছিলেন যিনি পর্দার নয়, বাস্তবের মাধুরীকে ভালবাসবে।

সেই ঘরে দুই সন্তান নিয়ে সাজানো সংসার। মাধুরী নিজেকে যুক্ত করেছেন বিভিন্ন সমাজসেবার সংগঠনে। অনেকদিন বাদে এই বছর ‘ডাবল ধামাল’ ও ‘কলঙ্ক’ সিনেমা দিয়ে সেলুলয়েডের পর্দায় ফিরছেন। বলা যায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হতে যাচ্ছে মাধুরীর সেকেন্ড ইনিংস। যাত্রা শুভ হোক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।