দ্য কিস অব লাইফ

কৈশোর বেলার কৌতুহলে লুকিয়ে দেখা ‘আশিক বানায়া আপনে’র গানের নায়ক তিনি। গানটি নিয়ে যতই মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকুক না কেন, তিনি যে পারফর্ম ভালো করেছিলেন সেটা এক বাক্যে মেনে নেন সবাই। তারপর পেরিয়ে গেছে কিছুটা সময়। ততদিনে পেয়ে গেছেন ‘সিরিয়াল কিসার’ এর খেতাব। ‘জান্নাত’ সিনেমায় দেখালেন তিনি শুধু ‘কিস’ই নয়, প্রোপোজ ও করতে পারেন।

‘জারা সা’ গানে গাড়ির ব্রেক কষে নায়িকার সামনে হাঁটু গেড়ে প্রোপজ করাটা বেশ অভিনব। বলিউডে অন্যতম সেরা প্রোপজ সিন হয়ে আছে এটি। এক সময় ছিল তাঁর সিনেমা মানেই জনপ্রিয় সব গান। বলিউডে তিনি হয়তো মহাতারকা হতে পারেননি। তবে সফল নায়ক বলাই যায়, দক্ষ অভিনেতা হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ইমরান হাশমি।

বিখ্যাত নির্মাতা মহেশ ভাটের ভাগ্নে তিনি। মামাদের পরিবারের ছবি ‘রাজ’ এর সহকারী পরিচালক ছিলেন। ২০০৩ সালে একই প্রযোজনার ‘ফুটপাত’ সিনেমা দিয়ে অভিনয় জগতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্রথম সিনেমা ফ্লপ হলেও প্রশংসিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় সিনেমা অনুরাগ বসুর ‘মার্ডার’ এ এসে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাঙলেন, ভিন্নপথে হাঁটলেন।

ছবি হলো দুর্দান্ত হিট। এর ঠিক পরের ছবি ‘আশিক বানায় আপনে’ ফ্লপ হলেও এই ছবির টাইটেল সং হয়েছিল সুপারহিট। পরপর দুই ছবির বদলৌতে দর্শকদের মাঝে ‍সিরিয়াল কিসার নামে পরিচিত হলেন। বলিউডের ও কিছু পরিবর্তন হলো। এরপর একে একে জ্যাহের, গ্যাংস্টার, আকসার, দিল দিয়া হ্যায়, আওরাপান- এর পর ২০০৮ সালে করলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা ‘জান্নাত’। প্রথমবারের মত জায়গা করে নিয়েছিলেন বলিউডের বছরের সেরা পাঁচ নায়কের মধ্যে।

একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমা বললেই এসে যাবে ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’ ছবির কথা। মিলন লুথারিয়ার এই ছবিটিতে পার্শ্ব চরিত্র করেও মূল চরিত্রের কাছে ম্লান হয়ে যাননি, ‘ডার্টি পিকচার’ সিনেমায় এসেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে। সফল ও হয়েছেন।

দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি, মার্ডার ২, জান্নাত ২, রাজ ৩-এর সাফল্যের পর সাংহাই, এক থি ডায়ান ও ঘনচক্কর ফ্লপ হলেও প্রশংসিত হয়েছিল। নিজের নামের পাশে যে তকমাটা লেগেছিল, সেটা মুছতেই হয়তো করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটার আজহার উদ্দিনের বায়োপিক ‘আজহার’ সিনেমাটি। কিন্তু সারা পেলেন না।

চিত্রনাট্যের দোষে ছবিটা হল ফ্লপ। একই কথা বলা যায় তার আগের ছবি ‘হামারা আধুরি কাহানি’র বেলায়ও। গত বছর ‘বাদশাহো’ করেও বিশেষ লাভ হয়নি। পরপর বেশ কয়েকটি ফ্লপ ছবি পেলেন। ক্যাপ্টেন নওয়াব ছবিটা ঝুলে গেছে, চিট ইন্ডিয়াও ফ্লপ। সামনেই হয়তো নতুন কোনোছবির মাধ্যমে আবার সমুজ্জ্বল হবেন। এখন শুধু সেটারই অপেক্ষা।

পর্দায় যাই করুন না কেন, ব্যক্তিজীবনে তিনি বেশ পরিচ্ছন্ন মানুষ। দীর্ঘদিনের ভালোবাসার মানুষ পারভীন সাহানিকে বিয়ে করেছেন। রয়েছে একটি সন্তান আয়ান হাশমি। মাত্র চার বছর বয়সেই ছেলের ধরা পড়লো ক্যান্সার। শুরু হল ছেলেকে বাঁচানোর বাবার যুদ্ধ। সফল ও হয়েছেন। ছেলের সাথে ক্যান্সারের যুদ্ধ জয় নিয়ে লিখেছেন ‘দ্য কিস অব লাইফ’ নামের একটি বই।

এমন একজন মানুষের কাছে ক্যারিয়ারের যুদ্ধ তো কোনো ব্যাপারই নয়!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।