দ্য ইমরুল কায়েস ডিলেমা

ইমরুল কায়েসের প্রেস কনফারেন্স ট্রান্সক্রিপ্ট পড়লাম, একটা অদ্ভুত খারাপ লাগা কাজ করে, মানি আমি সৌম্য-লিটনের ফ্যান তবু ইমরুল বাংলাদেশের শেষ নিউজিল্যান্ড সফরের ওয়ানডে ফরম্যাটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

আগে আমি পরিসংখ্যান দিয়েই বিচার করতাম অনেক কিছু, কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও খেলা আছে, এইটা মানতে হয়, বাংলাদেশের সেরা টেস্ট জুটি বোধকরি পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম-ইমরুল, ২০১৫, খুলনায়, প্রায় হারতে বসা টেস্ট বাঁচিয়েছিলেন এ দুজন।

বাংলাদেশের ছোট বড় অনেক রেকর্ডে তামিম ইকবালের বড় ভাগ আছে।

কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের মানদণ্ডে একজন ইমরুল কায়েস কোথায় দাঁড়ান?

জিম্বাবুয়ে প্রতিপক্ষ বাদে, ইমরুলের শতকের অধিকাংশ ম্যাচেই পরাজিত দল বাংলাদেশ। শুধু তাই না, তামিমও কখনো শ্লথ করে দেন ইনিংস, আর স্ট্রাইক রোটেশনে দুইজনই একটু কাঁচা না বেশ দুর্বল।

ইমরুলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি সে দলে থাকার জন্য খেলে, এইটা অনেক জাজমেন্টাল একটা কথা, কিন্তু সত্য কথা। দলের মোমেন্টাম আর প্রয়োজন বুঝে খেলা অনেক বড় ত্যাগ, যেটা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে থেকেও চেষ্টা করেছেন আগেও, এখনও।

তামিম নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান, ধারাবাহিকভাবে রান করেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বড় ম্যাচ জিতিয়েছেন ক’টা কেউ বলতে পারবেন?

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে তামিমের একটা অনবদ্য সেঞ্চুরি ছিল। এছাড়া?

বিশ্বকাপে তামিমকে নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে ছিলো, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০ এর কাছাকাছি করেছিলেন। এরপরের তামিম ক্ষুরধার ছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে, টানা দুই শতক।

কিন্তু এরপরেও তামিম ইকবালকে প্রয়োজন হয়েছে, প্রয়োজন হয়েছে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, যেখানে তার পারফরমেন্স ওমান আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

এশিয়া কাপে, যেখানে মুশফিক, রিয়াদ সাব্বির আর সাকিবই সামলেছেন ব্যাটিং।

ইমরুল অধ্যায় অনেক লম্বা হতেই পারতো, কিন্তু সৌম্য-লিটনের স্ট্রাইক রেট দেখলে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের বাদ দেয়া কঠিন, হয়তো বড় কিছু করবে না ৩৫ বলে একটা ৫০ বা ১৫ বলে ২৫-২৮, টোন সেট করে দিবেন।

যেখানে বাকিরা নিজেদের উইকেট সামলাতে সময় নেন ৫০ বল, আমি কাউকে বঞ্চনা বা কোনো সহানুভূতি না দেখিয়েই বলি, করুণ নায়ারের শেষ টেস্ট ইনিংসে নামের পাশে ৩০৩, কিন্তু রাহানে পুজারার ইফেকটিভনেস ইন্ডিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট জানে, আরিফুল হক বাংলাদেশের ঘরোয়া ফরম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান, কিন্তু লোকে জানে সে হার্দিক পান্ডিয়া না।

শুধুই প্রয়োজন বলেই দলে রাখা না, দলের প্রয়োজনে কাজে লাগা গুরুত্বপূর্ণ, দেখুন হার্দিক আজ খারাপ করলে নানা দোহাই তৈরি ছিলো, মানসিক অবস্থা, চাপ, কিন্তু সে চাকুরিজীবি, ক্রিকেট শুধু দর্শকদের কাছেই খেলা, বাকিরা পেশাদার চাকুরিজীবি, আপনি একদিন বিনোদন না পেলেই মন খারাপ করেন, আর ওনারা দল থেকে বাদ পড়লে ভবিষ্যত গন্তব্য ভেবে উদ্বিগ্ন হন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।