‘অবমূল্যায়ন’ ও সাকিব হওয়ার গুরুত্ব

অবমূল্যায়ন। সাকিব আল হাসানের সাথে দীর্ঘ সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দ – যিনি কিনা ক্রিকেটের দুটো ফরম্যাটে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার এবং অন্যটিতে তৃতীয় সেরা। সম্ভবত, এটি চলতি ২০১৮ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নিলামের সবচেয়ে বড় হাস্যকর ব্যাপার একটি হিসাবে বিবেচিত হবে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে ২ কোটি রুপিতে (৩১২৫০০ ডলার প্রায়) কিনেছে।

একজন জেনুইন  অলরাউন্ডার – যিনি যেকোনো একটা দক্ষতা দিয়েই একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন। যা ক্রিকেটে খুবই বিরল, আর একজন ভালো জেনুইন  অলরাউন্ডার তো আরো বিরল।

এ ধরনের কয়েকজনের মূল্য তালিকা হলো : বেন স্টোকস – ১২.৫০ কোটি  রুপি ( ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), আন্দ্রে রাসেল – ৮.৫০ কোটি রুপি  (১.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), হার্ডিক পান্ডিয়া – ১১ কোটি রুপি (১.৭২ মিলিয়ন মার্কিন  ডলার), ক্রুনাল পান্ডিয়া – ৮.৮ কোটি রুপি ডলার (১.৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। তবে সাকিবকে নিয়ে শুধু দু’টি দল – রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স আগ্রহ দেখিয়েছিলো। অবশেষে তিনি স্টোকস ও হার্ডিকের ছয় ভাগের এক ভাগ এবং নিকটতম রাসেল ও ক্রুনালের এক চতুর্থাংশ দামে দল পেয়েছেন।

মিডল অর্ডারে মানিশ পান্ডে, ইউসুফ পাঠান ও ঋদ্ধিমান  সাহা – প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, এবং রশিদ খান তার নিজের প্রতিভা থাকার পরও খুবই অভাবনীয় ও অস্বস্তিকর রকমের ব্যয়বহুল – ৭.২। সাকিবকে তাঁর নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য চমক সৃষ্টি করতেই হত। এবং তিনি সেটাই করে যাচ্ছেন।

রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২২ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার ছিল তাঁর গ্লানি মোছার চেষ্টা। এবং তিনি তার সাবেক দলের বিপক্ষেও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। সেখানে  ২৭ একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন রানের ২১ রানের বিনিময়ে  ২ উইকেট নেন।

মুম্বাই ইন্ডিয়ানের বিপক্ষও ১৬ রানে ১ উইকেট সংগ্রহ করেন যেখানে সাকিবদের  ১১৯ রানই করতে পারেনি মুম্বাই। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে বোলিং সহায়ক পিচে সাকিব দৃঢ় ব্যাটিং করেন ৩৫ (৩৫) ইনিংস খেলেন   এবং ৩৬ রানের   বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নেন।

অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন, পাওয়ার প্লেতে বোলিং নিয়ে সাকিবের হাতে বল দিত পছন্দ করেন, যদিও সেটা স্পিনারদের জন্য আদর্শ সময় নয়।

সানরাইজার্সে সাকিবের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণ কী? তাঁর বোলিংয়ে  উইকেট নেওয়ার কথা নয়। উইকেটের জন্য তো  ভুবনেশ্বর কুমার ও রশিদ আছে। সাকিবের কিপটে ইকোনমির  (৭.৭২) কারণে  এই মৌসুমে তাঁদের বোলাররা মধ্য ওভারগুলোদে ভালো করেছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবেও তাঁর অভিজ্ঞতা, উইলিয়ামসন এবং সানরাইজার্জের তরুণ যুবকের কিছুটা হলেও সাহায্য করেছে।

কম রান হজম করলে স্বাভাবিকভাবেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের কাছে সমীহ আদায় করা যায়। আর সাকিবের পাওয়ারপ্লে উইকেটগুলো সানরাইজার্সকে এই মৌসুমের সেরা বোলিং ইউনিট হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বিরুদ্ধে দেখিয়ে দিয়েছেন, তাদের টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে পরপর দু’বলে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে।

সর্বোপরি,  ৭.৮০ ইকোনমিতে তাঁর ১২ টি উইকেটের মধ্যে চারটি এসেছে পাওয়ার প্লেতে। যেখানে ৪১.৬৬  শতাংশই ডট-বল। প্রথম ছয় ওভারে সাকিবের বলে গড়ে প্রতি পাঁচ বলে একটি বলকে সীমানা পাড় করতে পেরেছেন ব্যাটসম্যানরা।

পরিসংখ্যান হয়তো বলে স্টোকস, হার্ডিক, ক্রুল এবং রাসেল এই মৌসুমে সাকিবের চেয়ে বেশি রান করেছেন। এখানে উল্লেখ করা দরকার, তিনি তাঁর দলের হোম ম্যাচ গুলো হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে খেলেছেন যা মূলত একটা বোলিং সহায়ক উইকেট। যেখানে অন্য দলগুলো তাদের অলরাউন্ডারদের যে ম্যাচ জয়ের প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করে, সেখানে সাকিবকে হায়দরাবাদ তাঁদের বিপদের সময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।