ইমরুলের ‘ভাল’টা কেন চোখে পড়ে না!

শুরুতেই একটু পরিসংখ্যানে ডুব দেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচসহ নিজের শেষ ১৫ ওয়ানডেতে ৪৭.৯২ গড়ে ৬৭১ রান করেছেন। স্ট্রাইকরেট ৭৮.৪৭, একটা সেঞ্চুরি আর পাঁচটা হাফ সেঞ্চুরি।

এবার ওপেনিং পজিশনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থাটা দেখি।  দলের বাইরে থাকা এনামুল হক বিজয় শেষ ১৫ ম্যাচে ২৪.৭১ গড়ে ৩৪৬ রান করেছেন। স্ট্রাইকরেট ৭০.৭৫, হাফ সেঞ্চুরি আছে দু’টি।

ইমরুলের সাথেই দুবাই উড়ে আসা সৌম্য শেষ ১৫ ম্যাচে  ২১.১৫ গড়ে ২৭৫ রান করেন ৮৫.১৩ স্ট্রাইকরেটে। হাফ সেঞ্চুরি দু’টি। এবার নিয়মিত একাদশে খেলা লিটন দাসের প্রসঙ্গে আসা যাক। তিনি শেষ ১৫ ওয়ানডেতে ১৫.০৭ গড়ে ২২১ রান করেছেন কোনো হাফ সেঞ্চুরি ছাড়াই। স্ট্রাইকরেট ৭৫.৬২।

বাকিদের চেয়ে ইমরুল কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। বরং বিস্তর ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তবুও তিনি ব্রাত্য ছিলেন কেন!

কারণটা সহজ। ইমরুলের মধ্যে বাড়তি কিছু ছিল না। মানে ইমপ্যাক্টফুল কিছু ছিল না। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাঁর দু’টো সেঞ্চুরি। প্রথমটি আবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। কিন্তু, ব্যাপার হল ২০১০ সালের সেই ম্যাচটায় জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে, ইনিংসটা কোনো গুরুত্ব পায়নি।

এমনকি সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবরে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইমরুল, সেই ম্যাচেও বাংলাদেশ হেরেছিল ২১ রানের ব্যবধানে। ইমরুল গ্ল্যামারাস কোনো ব্যাটসম্যান নন, তাঁর হাতে ম্যাজিক্যাল কোনো শট নেই। এই জায়গাটাতেই তিনি বাকিদের চেয়ে পিছিয়ে গেছেন।

দলের জন্য অর্থবহ একটা ইনিংসের সন্ধানে ছিলেন ইমরুল। সেটা পেলেন আবুধাবীর মরুর বুকে। ৮৯ বলে ৭২ রান করেছেন তিনি। খুব স্ট্রোকের ফুলঝুঁড়ি ফুটিয়েছেন তা বলা যাবে না, কিন্তু অভিজ্ঞতার প্রমাণ রেখে সময়ের উপযোগী একটা ইনিংস খেলেছেন। ৮৭ রানে পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে ওই সময় ইনিংসের হাল না ধরলে তো ম্যাচটা জেতাই হয় না বাংলাদেশের।

অথচ, তিনটা দিন আগেও এই মঞ্চে খেলার কথা স্বপ্নেও ভাবেননি ইমরুল। খুলনায় হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের চারদিনের একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিলেন। শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই আসলো জাতীয় দলের ডাক।  খুলনা থেকে ঢাকা, ঢাকা থেকে দুবাই, সেখান থেকে আবুধাবী। ভ্রমণ ক্লান্তি তো ছিলই, এর সাথে অপরিচিত কন্ডিশন, অপরিচিত পজিশন তো আছেই। তারপরও ইমরুল যে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলেন সেটা স্রেফ অভিজ্ঞতার কারণেই।

আসছে অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ টি বছর কাটিয়ে ফেলবেন ইমরুল কায়েস। এই ১০ বছরে তামিম ইকবাল কতজন ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গীর সাথে ইনিংসের সূচনা করেছেন সেটা খুঁজে বের করতে হলে রীতিমত পরিসংখ্যান ঘাটতে হবে। তামিম এই সময়ে শাহরিয়ার নাফিস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাজিমুদ্দিন, এনামুল হক বিজয়, শামসুর রহমান শুভ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার এমনকি মুশফিকুর রহিম কিংবা নাঈম ইসলামের সাথেও ব্যাটিং উদ্বোধন করেছেন।

 

তবে, ইমরুল-তামিমের মত সফল উদ্বোধনী জুটি এর আগে-পরে কখনো পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে দু’জন জুটি ৫৪ ইনিংসে করেছেন করেছেন ১৭১৮ রান। অন্যদিকে সৌম্যর সাথে তামিম ২৩ ইনিংসে করেছেন ৯০৩ রান, এনামুল হক বিজয়ের সাথে ২৬ ইনিংসে করেছেন ৮৩১ রান।

আরো বলা উচিৎ যে, গেল ১০ বছরের ক্যারিয়ারে ইমরুল খেলেছেন মাত্র ৭১ টি ওয়ানডে। ব্যাটিং গড় একদম কাটায় কাটায় ৩০। বাকি প্রতিদ্বন্দীর তুলনায় এটা মোটেও মন্দ কিছু তো নয়!

তামিম যেদিন ইনজুরিতে পড়েছিলেন, কালক্ষেপন না করে সেদিনই বিকল্প হিসেবে ইমরুলের নাম ঘোষণা করে দেওয়া যেত। তখনই আরব আমিরাতে চলে যেতে পারলে এই ক’দিনে ম্যাচ না খেলুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগটা তিনি পেতেন। কোনো একটা অজানা কারণে অপেক্ষা করেছে বোর্ড। শেষে যখন পাঠানো হল, তখন ইমরুলের প্রত্যাবর্তনের চেয়েও বেশি আলোচিত ছিলেন বদলী ঘোষণায় বোর্ডের অপেশাদার দৃষ্টিকোণ।

ইমরুলের জন্য অবশ্য ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে এনামুর হক বিজয়ের ইনজুরিতে একদম বিশ্বকাপের মাঝপথে তাঁকে উড়িয়ে নেওয়া হয়। দল যেখানে মাসখানেক ধরে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে ক্যাম্প করছে সেখানে ইমরুল পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নামিয়েও দেওয়া হয়। সেই দফায় ইমরুল ব্যর্থ হন, তবে এবারের সুযোগটা তিনি অন্তত হাতছাড়া করলেন না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।