জার্সির ইতিহাস, জার্সির বিবর্তন

চার বছর পর আসে বিশ্বকাপ, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার সবচেয়ে বড় আসর। এই বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে এসে অনেক তারকা পরিণত হন মহাতারকায়। তবে বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড় না, তাদের গায়ে জড়ানো পোশাকটাও অনেক সময় পেয়ে যায় ঐতিহাসিক খেতাব।

কিন্তু এরকম আন্তর্জাতিক ফুটবলের জার্সির ডিজাইন বা নকশা তৈরি করা চাট্টি খানি কথা নয়। কারণ এই পোশাক শুধু একটা দলের পরিচয় বহন করেনা বরং এটা এমন হতে হয় যেন তা একটা জাতির অতীত, বর্তমান – সবকিছুরই বার্তা দিতে পারে।

একটা দলের শার্ট, শর্টস কিংবা মোজা দেখতে কেমন হবে, এবং জার্সি বা কিট ঠিক কি রিপ্রেজেন্ট করবে সেটা ঠিক করতেই একটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস সময় ব্যয় করে। একটা নকশা কল্পনা করা শুধু সেই দেশের জাতীয় রঙ ব্যবহার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, বরং এর চেয়ে বেশি অনেক কিছু চলে আসে জাতীয় দলের জার্সির ক্ষেত্রে। কোন দেশ তাদের পতাকার রঙ ব্যবহার করে, আবার কোন কোন দেশ তাদের জার্সিতে এমন রঙ চায় যেটা তাদের ইতিহাস, রাজনীতি এমনকি ভৌগলিক তাৎপর্য বহন করে।

‘দলের পরিচয়টা উজ্জ্বল হতে হবে’ – জন ডেভলিন এর মত এটা। ভদ্রলোক হচ্ছেন একজন ফুটবল কিট ডিজাইনের এক্সপার্ট এবং ‘ফুটবল কিট (ট্রু কালারস)’ বইয়ের লেখক। সিএনএন এর সাথে সাক্ষাতে ফুটবল জার্সির ব্যাপারে তার অনেক কথা উঠে আসে।

তিনি বলেন, ‘আমার মতে, একটা সত্যিকার অসাধারণ জার্সির নকশা তৈরি করতে হলে আপনাকে ইতিহাস ঐতিহ্যকে মাথায় রাখতে হবে। এটা বুকে ধারণ করতে হবে, কিন্তু আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে সময়। জার্সিটা হতে হবে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, দেখতে এমন হতে হবে যেন এটা কোন একটা সময়ের কথা বলে।’

সবমিলিয়ে ফুটবল পোশাকের নকশা তৈরি করাটা বিশাল দায়িত্ব নিয়ে আসে ক্রিড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। এদের মধ্যে উল্লেখ্যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে অ্যাডিডাস, নাইকি, পুমা, আম্ব্রো এবং হুমেলস। এদের ডিজাইন করা বেশিরভাগ জার্সিই ভাল বলা যায়। কিন্তু বিশ্বকাপ একেবারে বিতর্ক ছাড়াও ছিলনা জার্সির ব্যাপারে, আবার অসাধারণ ডিজাইনের জার্সির জন্য অন্যমাত্রার জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেকগুলো ডিজাইন।

  • ঐতিহাসিক মুহুর্তের প্রতীক

‘বিতর্ক কিংবা জনপ্রিয়তার বিষয়টা মনস্তাত্ত্বিক। কেউ কোন একটা জিনিস দেখে বলে এটা সুন্দর, আবার অন্য কারো কাছে এটা বাজে দেখায়।’ – বিশ্বের সবচেয়ে বড় অরিজিনাল ফুটবল জার্সির সংগ্রহশালা ‘ক্ল্যাসিক ফুটবল শার্টস’ এর কো-ফাউন্ডার ডগ বিয়েরটনের মত এটি।

আর যেহেতু এটা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার তাই জার্সি দেখতে ভাল হোক বা খারাপ হোক, এটা যেকোন ঐতিহাসিক মুহুর্তের প্রতিক হয়ে উঠতে পারে। এই জার্সিই তাদের সবসময় স্মরণ করিয়ে দেয় একটা অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ মুহুর্তের। এটা যে শুধু মাঠের খেলার কথা স্মরণ করিয়া দেয় তা না, ব্যাক্তিগত মুহুর্তকেও নিয়ে আসে মনের ক্যানভাসে।

বিয়েরটন বলেন, ‘প্রতিটা শার্টই কারোনা কারো কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়, হতে পারে সেটা তার দেখা প্রথম ম্যাচ বা কোন স্মৃতি। জার্সির ক্ষেত্রে বিশ্বকাপটা একটা ভাল রেফারেন্স পয়েন্ট, কারণ এটি আসে চার বছর পর এবং এই সময়ে মানুষের জীবনের অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়।’

‘তাই ফুটবল শার্টটির দিকে তাকিয়ে আপনি সেই ম্যাচটির কথা ভাবতে পারেন – আপনি মনে করতে পারেন সেই মুহুর্তের কথা যেটা আপনি বারবার দেখতে চান।’ যোগ করেন তিনি।

  • নেদারল্যান্ডস, ১৯৮৮

সেরকম মনে রাখার মতো একটি শার্ট পড়েছিল নেদারল্যান্ডস। রাজপরিবারের অনুমোদনক্রমে সবসময় কমলা রঙ এর জার্সিতে অভ্যস্ত ডাচরা ১৯৮৮ ইউরোতে এসেছিল এডিডাসের জ্যামিতিক কিন্তু নান্দনিক এবং অবশ্যই প্রশংসনীয় ডিজাইনের পোশাকে।

ডেভলিন বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই সময়ের জন্য এটা ছিল একেবারেই নতুন। আমার মনে আছে, আমার বয়স ছিল ১৮-১৯ এবং দেখে মনে হলো -আরে, এটা কি। ডিজাইনটা সত্যিই অবাক করেছিল কিন্তু সাংঘাতিক ধরণের কিছু হলেও এটা আপনাকে কোননা কোন ভাবে আকর্ষণ করবে। ডিজাইনটা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অভিনব ছিল, এরকম কিছু করতে যাওয়াটা সত্যিই সাহসী পদক্ষেপ ছিল।’

এরপর নেদারল্যান্ড ছাড়াও আরো অনেক দলই একই নকশার শার্টটি পড়েছে কিন্তু ১৯৮৮ সালের ইউরোর নেদারল্যান্ডের জার্সির ডিজাইনটা অমর হয়ে থাকবে সেই আসরে ডাচদের অর্জনের জন্য। কারণ এই জার্সিতে ডাচরা ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর এটা পড়েই ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে মার্কো ভ্যান বাস্তেন করেছিলেন ইতিহাসের সেরা গোলগুলোর একটি ।

‘তারা এটি শুধু ওই টুর্নামেন্টেই পড়েছে, যেন একটা ধারাকে দুই ভাগ করে দেল এই কিট। এরপর এটা অমরত্ব লাভ করল এবং এর গল্প শেষ হলো কিংবদন্তি হিসেবে।’ যোগ করেন ডেভলিন।

  • জার্মানি, ১৯৮৮১৯৯১

ঐতিহাসিকভাবে জার্মানি বেশিরভাগ সময় সাদা-কালোর মিশ্রনে সাধারণ ডিজাইনের কিট পড়তো। রংটা এসেছে ১৮শ শতকের নর্দার্ন ইউরোপের শক্তিশালি একটা রাজ্য প্রুশিয়ার পতাকা থেকে। তবে আশির দশকে জার্মানির পতাকার রঙ তাদের কিটের ডিজাইনে যুক্ত হতে থাকে এবং জার্সির ডিজাইন সৌন্দর্যের দিক দিয়ে নতুন উচ্চতায় আরোহন করে। আর এর হাত ধরেই তৈরি হয় ফুটবলের জনপ্রিয়তম কিট গুলোর একটি: ‘৮৮ তে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত ইউরোতে অ্যাডিডাস এর ‘প্যাট্রিওটিক ওয়েস্ট জার্মানি’ কিট।

এই জার্সিটি অবশ্য সেবার জার্মানিকে ইউরো এনে দেয়নি, কিন্তু দুই বছর পর ১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে জার্মানির পতাকার রঙ সম্বলিত জার্সিটি বনে যায় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় একটি ফুটবল জার্সিতে। ঠিক এই ডিজাইনের জার্সিটিই আবার দুই জার্মানির এক হবার পর খেলা প্রথম ম্যাচে পরিধান করে খেলোয়াড়রা।

ডেভলিন বলেন, ‘এই কিটটাও একেবারে মৌলিক ডিজাইনের ছিল। বেকেনবাওয়ের ছিলেন সেই সময়ের ম্যানেজার, তিনি চাইলেন যেন জার্মানির পতাকার রঙ জার্সিতে থাকে। কিন্তু সত্যিকারভাবে পতাকাকে শার্টের উপর অলংকৃত করাটা যেকোন কিছু করার চায়তে ভিন্ন কিছু ছিল। অ্যাডিডাস যেন উড়ছিল সেই সময়ে, এটা আসলেই সাহসি এবং কঠিণ সীদ্ধান্ত ছিল। জার্সির ক্ষেত্রে এটা প্রায় পরবর্তি সময়ের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যখন আপনি ডাচ কিংবা জার্মান কিটের কথা বলবেন, এটা অত্যন্ত বিপদজনক পদক্ষেপ ছিল কিন্তু অ্যাডিডাস সেটা সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। ক্লাস বলেন কিংবা গভীরতা – তারা সফল। অনেক দলই এই কাজটি করতে চায় – কিন্তু তারা হয় অনেক বেশি কিছু করে ফেলে অথবা এটা সেরকম আবেদন তৈরি করেনা।’

এই বিশ্বকাপে জার্মানি শার্টের ব্যাসিক ডিজাইনটা আবার ফিরে এসেছে তবে এবারের নকশায় তিন রঙ এর পরিবর্তে এক রঙ ব্যাবহার করা হয়েছে। ১৯৯০ এর মতো আবারো কি এই ডিজাইনের কিটে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবে জার্মানি।

  • ব্রাজিল

সময়ের সাথে সাথে ব্রাজিলের সোনালি হলুদ জার্সিটা শুধু তাদের দেশের না, ফুটবলের প্রতিকেই পরিণত হয়েছে। ডেভলিন তার বইয়ে লেখেন, ‘যখন একটি রঙ এর কথা উঠে আসে যেটা ফুটবলের মহিমা এবং আবেদনকে একসাথে উপস্থাপন করে, তখন সবার আগে মাথায় আসে হলুদ, সবুজ, নীল আর সাদা রঙ এর প্যালেটের কথা – অর্থাৎ ব্রাজিলের রঙ এর কথা।’

এগুলা অবশ্য সবসময়ই ব্রাজিলের জার্সির রঙ ছিলনা, কিন্তু ১৯৫৩ সালে কোরিও দে মানহা পত্রিকা একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যেখানে তারা জাতীয় পতাকার রঙ ব্যাবহার করে দেশকে উপস্থাপন করে এমন একটা জার্সির ডিজাইন তৈরি করার আহবান জানায়। পতাকার সবুজ অংশ দেশের সব মাঠ আর বনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে, সোনালি রঙ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে উপস্থাপন করে ; আর স্বর্গীয় নীল রঙ এর বৃত্ত ব্রাজিলের নীল আকাশের প্রতিক বহন করে। ব্রাজিলের জার্সিটা ফুটবল ভক্তদের পেলে, গারিঞ্চা, জিকো থেকে শুরু করে রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা হালের নেইমারদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

  • ইংল্যান্ড, ১৯৬৬

ডেভলিনের মতে, যে ব্যাপারটা ইংল্যান্ডের জার্সিকে আলাদা করে সেটা হচ্ছে ইংল্যান্ড দলকে তাদের ট্রেডিশনাল লাল এওয়ে জার্সিতে তাদের সাদা জার্সির মতোই মানায় যেটি সচরাচর তাদের প্রথম পছন্দ। ডেভলিন বলেন, ‘এটা অনেকটা দ্বৈত পরিচয়ের মতো। তারা সৌভাগ্যবান যে তারা দুই জার্সিতেই তাদের পরিচয় বহন করতে সক্ষম।’

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের লাল জার্সিটা তাদের রুপকথার অংশ হয়ে যায় কারণ সেবছর ঘরের মাঠে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে তারা। এরপর থেকে ইংল্যান্ডের জার্সি ডিজাইনের ক্ষেত্রে লাল রঙ এর প্রভাব বাড়তে থাকে।

তিনি আরো বলেন, ‘লাল রঙ এ বিশ্বকাপ জয়ের পর একজন ভক্তের রঙ এর বাক্সে লাল এর জায়গাটা পাকাপুক্ত হয়ে যায়। একটা জিনিসের অভাব ছিল আইকনিক হওয়ার জন্য – সেটা হচ্ছে সাফল্য, আর সাফল্য আসার পর তাই হলো।’

এই বছর রাশিয়াতে ইংল্যান্ড প্রায় ১৯৬৬-র ডিজানের জার্সি পড়বে, কে জানে – হয়তো জার্সির সাথে সাফল্যও ফিরে আসতে পারে।

  • ক্রোয়েশিয়া, ১৯৯৮

এরপর ক্রোয়েশিয়ার সেই লাল সাদা চেক এর জার্সির কথা এসেই যায় – কারণ এটা সহজেই আলাদা করা যায়, এরকম ডিজাইনের জার্সি ফুটবল দুনিয়াতেও আরেকটা নেই।

ক্রোয়েশিয়ার সব জার্সির ডিজাইনেই তাদের ‘কোট অফ আর্মস – দ্যা স্যাহোভনিচা’ অর্থাৎ তাদের জাতীয় প্রতিক যুক্ত থাকে কিন্তু ১৯৯৮ এ লোট্টোর করা জার্সিটা দর্শকদের হৃদয়ে স্থা পেয়েছে। এটা শুধুমাত্র সবচেয়ে নবীন দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার জন্যই নয়, একই সাথে সেই বিশ্বকাপে দেভর সুকেরের অসাধারণ নৈপূণ্যের জন্যও স্মরণীয় যিনি সেবার সাত ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বকাপ শেষ করেন।

ক্যামেরনের কুখ্যাত পোশাক

বিগত বছরগুলোতে ফিফা অনেকগুলো জার্সির ডিজাইনই নিষিদ্ধ করেছে যেগুলা ফিফার ‘ইকুইপম্যান্ট রেগুলেশন গাইড’ এর ১০৪ নাম্বার পেইজে উল্লেখিত সীমা অতিক্রম করেছে। এদের মধ্যে ২০০৪ আফ্রিকান নেশন কাপে পুমার ডিজাইনে তৈরি ক্যামেরুনের পুরা ডিজাইনটিই বাতিল হয়ে যায়।

ফিফার মতে, পোশাকের ক্ষেত্রে শার্ট এবং শর্টস আলাদা না করাটা অবৈধ, এজন্য ওদের আউটফিটটা নিষিদ্ধ হয়। ক্যামেরুন ফিফার নির্দেশ অবহেলা করে নাইজেরিয়ার সাথে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলে, যেটার মাশুল দিতে হয় ছয় পয়েন্ট কর্তনের মাধ্যমে মাশুল এবং ১৫৪,০০০ ডলার জরিমানা দিয়ে।

অবশ্য পুমা এরপর ফিফাকে কোর্টে নিয়ে যায় যেটা তাদের ছয় পয়েন্ট ফিরিয়ে দেয় কিন্তু জার্সির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে, এরপর সেই এক পীসের কিট তারা ব্যাবহার করেনি। অবশ্য পুমা এবং ক্যামেরুনের ফিফা রুল অমান্য করে জার্সি বানানোর ঘটনা সেটাই প্রথম ছিলনা। এর আগে ২০০২ সালে তারা হাতা ছাড়া শার্টের ডিজাইন নিয়ে এসেছিল, অবশ্য সেটা মাঠে পড়ার আগেই ফিফার নির্দেশে নিয়ম অনুসারে পরিবর্তন আনে।

  • রাশিয়াতে পূর্ববর্তী জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর উপলক্ষ্য

ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এডিডাসের ডিজাইন ডিরেক্টর ইউর্গেন র‌্যাংকের মতে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত অসংখ্য জনপ্রিয় জার্সি উপহার দিয়েছে যেগুলা নজড়কাড়া ডিজাইনের কারণে সত্যিকার আইকনিক ফুটবল জার্সি হিসেবে সমাদৃত। সেইসব জার্সিকে সম্মান জানানোর লক্ষ্যে পুরনো ডিজাইনগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এবছর বেশ কিছু কিট ডিজাইন করেছে অ্যডিডাস।

তিনি বলেন, ‘দর্শকদের কাছে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার চাহিদা রয়েছে। তারা এমন কিছু চায় যেটা সহজে তারা চিনতে পারে কিন্তু সেটায় অবশ্যই আধুনিক উদ্ভাবন আর প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকতে হবে। আমরা খেলোয়াড় এবং দর্শকের চাহিদা একসাথে পূরণ করতে কাজ করেছি।’

উদাহারণ স্বরূপ বলা যায়, এবার স্পেনের কিটটা তাদের ১৯৯৪ বিশ্বকাপের জনপ্রিয় জার্সিটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি করা। যদিও সেবছর উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য আসেনি তাদের কিন্তু হলুদ আর নেভি ডাইমন্ডের তিনটা স্ট্রাইপে অলঙ্কৃত শার্টটির ছিল আলাদা যেটা পড়ে খেলেছেন পেপ গার্দিওলা, মিগুয়েল নাদাল আর লুইস এনরিকের মতো খেলোয়াড়। এবছর এডিডাস সেই জার্সিকে আবার পুনরুজ্জীবিত করেছে, তবে সেটা একেবারে বিতর্কহীন ছিলনা।

এইবারের জার্সিতে পাতলা লাল স্ট্রাইপও যুক্ত করা হয় যেটা দৃষ্টিভ্রম তৈরি করে ফলে নেভি রঙ কে পার্পেলের মতো দেখায়। অনেকের মতে এটি হচ্ছে রিপাবলিকান পতাকার প্রতিচ্ছবি যেটা রাজতন্ত্রের বিরোধীরা ব্যাবহার করতো। তবে স্পেনিশ কতৃপক্ষ এধরণের সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়।

এবছর ফিরে আসা জার্সির মধ্যে আরেকটি হলো বেলজিয়ামের জার্সিটা। বিভিন্ন সময়ে বেলজিয়াম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জার্সি তৈরি করেছে, কিন্তু ডেভলিনের মতে এডিডাসই তাদের জন্য সবচেয়ে স্টাইলিশ জার্সির নকশা তৈরি করেছে। সাদা প্যানেলের উপর দেশটির লাল, কালো এবং হলুদের একটি ডায়মন্ড এর ডিজাইন ছিল ১৯৮৪ ইউরোর জার্সিতে, এটার ভিন্ন ধাচের ডিজাইনের জন্য ইতিহাসের সেরা একটা কিট এর মধ্যে পড়ে যায়।

এই বছর জার্সিটি ফিরে এসেছে তবে সাদা প্যানেলটা বাদে। ডেভলিনের মতে, সুন্দর জার্সি সবসময় ভাল পারফর্মেন্সের দলকে উজ্জীবিত করতে পারে, সেবার ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়।

  • কোটি মানুষের প্রেরণার উৎসহোক সেটা দর্শক কিংবা খেলোয়াড়

একটা অসাধারণ ডিজাইন শুধু প্লেয়ার কিংবা দর্শককে অনুপ্রেরণা দেয় না, ডেভলিনের মতে একটা জার্সি একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ডেভলিন বলেন, ‘জার্সি আন্তর্জাতিক সম্মান নিয়ে আসে। এটা এমন ব্যাপার যা পুরা জাতিকে এক জায়গায় নিয়ে আসে এবং যখন দল ভাল খেলে, সেখানে ফুটবল উন্মাদনা বিরাজ করে – তখন সর্বব্যাপী এই ফুটবল শার্ট দেখা যায়। একটা জাতিকে একত্রিত করার জন্য এটা একটা শক্তিশালী উপকরণ।’

সিএনএন অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।