তামিম হতে কলিজা লাগে

একটু আগেই এসেছে দু:সংবাদ। যে এশিয়া কাপের মঞ্চে তাঁর সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার সুযোগ ছিল, সেটাই আর খেলা হবে না। আঙুলের ব্যাথা নিয়েই খেলতে এসেছিলেন, সুরঙ্গ লাকমলের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ঠিক সেখানেই বল লেগেছে।

ব্যস, মাঠ ছেড়ে তাঁকে যেতে হল হাসপাতালে। স্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে। স্বপ্ন ভেঙে গেল তামিম ইকবাল খানের। বাংলাদেশের কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজটা আরো বড়। যে টুর্নামেন্টে দলটা খেলতে এসেছিল অধরা শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে সেখানেই তাঁরা পাবে না নিজেদের সেরা ব্যাটসম্যানের সার্ভিস।

টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দু:স্বপ্ন বুকে চাঁপা দিয়েই খান বাড়ির ছোট ছেলে আবারো সবাইকে চমকে দিলেন। না, এই অবস্থায় বড় কোনো সেঞ্চুরি করে ফেলেননি তিনি। কিন্তু, যা করেছেন সেটা সেঞ্চুরির চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।

২২৯ রানের মাথায় যখন রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজু রহমান, তখনও ইনিংসে বাকি ১৯ টা বল। একটা প্রান্ত তখনও আগলে রেখেছেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। তামিম তখন টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার আগে শেষ ছাপটা রেখে দিতে চাইলেন। হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই মাঠে নেমে গেলেন।

উদ্দেশ্য আর কিছুই না, স্রেফ মুশফিককে সঙ্গ দেওয়া। সেই লাকমলের একটা বলই আবার খেলতে হল। তামিম খেললেন, এক হাতে। আর এটাই সাহসিকতার নতুন নজীর হিসেবে ক্রিকেটের ইতিহাসে জায়গা করে দিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যানকে।

১৯৮৪ সালে এমন কাজ করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যালকম মার্শাল, হেডিংলি টেস্টে। ২০০৯ সালে সিডনিতে গ্রায়েম স্মিথ করেছিলেন। ২০০২ সালে সেন্ট জোন্সে ভাঙা চোয়াল নিয়ে ব্যাটিং-বোলিং দু’টোই করেছিলেন অনিল কুম্বলে। ২০১০ সালে ব্রিস্টলে বাংলাদেশের সেই বিখ্যাত পাঁচ রানে  জয়ের দিনে ম্যাচ বাঁচাতে নেমেছিলেন ইয়ান বেলও। এবার সেই তালিকাতে যোগ হল বাংলাদেশের তামিম ইকবালের নাম।

তামিমকে সাথে নিয়ে ওই ১৯ টা বলের মধ্যে ১৬ টা ব্যবহার করতে পারে বাংলাদেশ। ১৫ টাই খেলেন মুশফিকুর রহিম, এতে করেন ৩২ রান। রান গুলো পরিসংখ্যানে মুশফিকের নামের পাশেই যোগ হবে। কিন্তু, বাস্তবতা হল এর পেছনে তামিমের অবদানটাও কম নয়।

রোববার হয়তো দেশে ফিরে আসবেন তামিম। বিমানবন্দরে তাঁর হাতে কোনো ট্রফি থাকবে না, থাকবে ব্যান্ডেজ। মুখে হয়তো হাসি থাকবে না, থাকবে হতাশার ছাপ। কিন্তু, কলিজার জোরে তিনি যে ট্রফি আর ভালবাসা জিতে ফেলেছেন তার সাথে আর কোনো কিছুরই তুলনা চলে না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।