এই থাই কিশোররাই নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থাইল্যান্ড। না, কোনো গালগল্প নয়, সত্যি। বিশ্বকাপ না খেলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন থাইল্যান্ড। আরো নির্দিষ্ট করে বললে ওয়াইল্ড বোরস ক্লাবের ১২ কিশোর ও তাঁদের কোচ।

এই কিশোররা গত ২৩ জুন থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহা কমপ্লেক্সে নেমে প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে আটকা পড়ে। দীর্ঘ ১৮ দিন কোচ সহ তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে নিরাপদে। বিশ্বকাপ জয় তো এই লম্বা যুদ্ধের সামনে কিছুই না!

তাদের উদ্ধারে তিনদিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযান মঙ্গলবার শেষ হয়। শেষদিন চার কিশোর ও তাদের কোচকে গুহা থেকে বের করে আনা হয়। থাই মিডিয়ায় এই খবর ব্যাপক গুরুত্বেও সাথে প্রচারিত হয়।

কিশোরেরা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এদিকে অন্ধকার গুহায় এতোদিন আটকে থাকার পরও ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী এসব কিশোর শারিরীক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছে এবং তারা স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছে। তারা বর্তমানে চিয়াং রাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার কয়েকশ স্কুল শিক্ষার্থী হাসপাতালের সামনে এসে ভিড় করে। তারা সমস্বরে উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানায়। গোটা থাইল্যান্ড জুড়ে আনন্দের বন্যা। থাম লুয়াং গুহা থেকে কিশোর ফুটবল দলের প্রত্যেকে সফলভাবে উদ্ধার হওয়ার পর তা উদযাপন করছে পুরো দেশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাই জনগণ মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহৃত ‘হুয়াহ’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। থাই নেভি সিল তাদের ফেসবুক পেজে গুহা থেকে উদ্ধার করে আনা ফুটবল দলের প্রত্যেককে ‘হুয়াহ’ শব্দ দ্বারা অভিনন্দন জানায়। এই সাইন পরে খুব দ্রুত হ্যাশট্যাগে পরিণত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিজান

উদ্ধারকাজ সফল ভাবে সম্পন্ন হলে পুরো দলটিকে মস্কোতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচটি দেখার আমন্ত্রন জানিয়েছিল ফিফা। এ ব্যপারে ফিফা, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব থাইল্যান্ডের সাথে সাক্ষাত করার পরে উদ্ধারকৃত ফুটবলাররা মস্কো যেতে পারবেনা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক বিবৃবিতে ফিফা বলেছে, ‘১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে সফলভাবে উদ্ধারের সংবাদে ফিফা অত্যন্ত আনন্দিত। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত প্রতিটি ব্যক্তিকে আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যদিও দূর্ভাগ্যজনকভাবে উদ্ধারকাজ চলাকালে একজন ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে। আমরা তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব থাইল্যান্ড আমাদের জানিয়েছে শারীরিক কারণে ছেলেরা মস্কো পর্যন্ত যাত্রা করার অবস্থায় নেই। ফিফা বিষয়টি ভালভাবেই বুঝতে পারছে। তবে ফিফার ভবিষ্যত কোন ইভেন্টে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি আমরা গভীরভাবে বিবেচনা করবো।’

বিশ্বকাপ ফাইনাল সরাসরি দেখতে না পারলেও বিশ্বকাপে ঠিকই আছেন এই থাই কিশোররা। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পাওয়া জয়কে গুহা থেকে জীবিত ফিরে আসা ১২ ফুটবলারকে উৎস্বর্গ করেছেন ফরাসি তারকা ফুটবলার পল পগবা।

জয়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার পগবা এক টুইটে লিখেছেন, ‘আজকের এই জয়টিকে গুহা ফেরত কিশোর হিরোদের উৎস্বর্গ করলাম। ছেলেরা দারুণ দেখিয়েছ। তোমরা খুবই শক্তিশালী।’

বিশ্বকাপটা তো তাই এই থাই কিশোরদেরই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।