ভিগোরো: ভুতুড়ে এক খেলা

একটি বালতিতে প্রথমে ক্রিকেট নিন, এরপর টেনিস। এর সাথে সম পরিমাণে গাঁজা ও কাঁঠাল পাতা যোগ করুন। এবার স্বাদমত লবণ যোগ করে দিন ঘুটা… ঘুটা… ঘুটা। ব্যাস, পেয়ে গেলেন নতুন একটি খেলা!

১৯০৬ সালের একটি প্রদর্শনী ম্যাচে খেলাটি হাতে কলমে বুঝিয়ে দিচ্ছেন একজন খেলোয়াড়।

ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার জন্য জন জর্জ গ্রান্ট নামক এক ইংরেজ ভদ্রলোক ১৯০১ সালে এরকম একটি অদ্ভূত খেলার প্রচলন করেন। খেলাটির নাম দিলেন ভিগোরো (Vigoro)। ভদ্রলোকের প্রভাব, প্রতিপত্তি মনে হয় বেশ ছিল। এ কারণে রীতিমত লর্ডস এ একটি প্রদর্শনী ম্যাচের ব্যবস্থা করতেও সমর্থ হন।

ম্যাচটি খেলার জন্য তিনি ছয়বারের গ্র্যান্ডস্ল্যাম বিজয়ী ব্রিটিশ টেনিস তারকা লরি ডোহার্টি, অলিম্পিকের টেনিস তারকা হ্যামিল্টন মাইলস, সারের ব্যাটসম্যান ববি অ্যাবেলকে নিয়ে আসলেন। টেনিস র‌্যাকেট দিয়ে ক্রিকেট খেলা, পেছনে ৬ টি স্ট্যাম্প দিয়ে বানানো উইকেট… রীতিমত এক সার্কাস!

খেলাটিকে জনপ্রিয় করতে নিয়মকানুনসহ এমন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছিল।

ফলে যা হবার তাই হল! পাবলিক খেলাটি কোনমতেই খেলো না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত দুই একটি প্রদর্শনী ম্যাচ হলেও এরপর টিকতেই পারল না। মজার ব্যাপার হচ্ছে সাত-সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে সুদূর অস্ট্রেলিয়ায় খেলাটি মোটামুটি জনপ্রিয় হয়ে উঠল।

কুইন্সল্যান্ডে আধুনিক যুগের ভিগোরো

তাসমানিয়া, সাউথ ওয়েলস এবং কুইন্সল্যান্ডে এটি এখনও খেলা হয়। কালের বিবর্তনে এটি শুধুই মেয়েদের খেলায় পরিণত হয়েছে। নিয়মকানুনও বেশ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে খেলাটিকে ক্রিকেট ও বেসবলের মিশ্রণ বলা যায়। ‘ব্যাট’ এর আকার-আকৃতি ছাড়া টেনিস অংশটুকু হারিয়ে গেছে।

 

ফলাফল এবং পদ্ধতি যাই হোক না কেন ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার এই প্রচেষ্টা সত্যিই বাহবা পাবার যোগ্য। বর্তমান আধুনিক ক্রিকেটের শক্ত অবস্থানের পেছনে জন জর্জ গ্রান্টের মত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন লোকজনের অবদান অনস্বীকার্য।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।