ক্রিকেট খেলাটা হ্যাডমেরও!

১৯৮১ সালের কথা। অস্ট্রেলিয়া সফরে আম্পায়ারের দেওয়া আউটের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সুনীল গাভাস্কার এতটাই ক্ষেপে গিয়েছিলেন যে রীতিমত অন্য ব্যাটসম্যানকে নিয়ে বের হয়ে আসা শুরু করেছিলেন। ম্যানেজার কোনোক্রমে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলেন। ম্যাচের কোনো টানটান উত্তেজনার মুহূর্তও ছিল না সেটা। ইউটিউব ঘাটাঘুটি করে সেই ভিডিওটা পাবেন।

সেই গাভাস্কার যখন এবার সাকিব আল হাসানের তীব্র নিন্দা করে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন, তখন বিষয়টাকে হাস্যকর মনে হয়। বলা হয়, প্রেম আর যুদ্ধে নাকি সবই সঠিক। ফাইনালে ওঠার লড়াইটা তো যুদ্ধই। ক্রিকেটের সব কিছু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করা যায় না। সাকিব যা করেছেন সেটা ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হয়তো অনুচিত। তবে, এই বিষয়টা দরকার ছিল।

যেমনটা দরকার ছিল অর্জুন রানাতুঙ্গারও। বিশ্বকাপ জয়ী এই লঙ্কান অধিনায়কই তো চাকিংয়ের দায়ে মুত্তিয়া মুরালিধরণকে ‘নো’ ডাকায় খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠ ছেড়ে বের হয়ে গিয়েছিলেন। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। তবে, এখানে ‘হ্যাডম’ দেখানোও জরুরী। এর জন্য রানাতুঙ্গারা স্যালুট পাবেন, আর সাকিবকে ক্রিকেট স্পিরিট নিয়ে সমালোচনা শুনতে হবে, তা  ঠিক মেনে নেওয়া যায় না।

আর একই সাথে এই মাঝপথে খেলা ছেড়ে বের হয়ে আসার ‘কলিজা’ দেখানোটা কিন্তু যুদ্ধ জয়েও ভূমিকা রেখেছে। এমন অভাবনীয় কিছু না করলে হয়তো ওই অবস্থায় লঙ্কানদের ঘাবড়ে দেওয়া যেতো না, হয়তো নায়ক হয়ে ওঠা হত না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। হয়তো কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে হটিয়ে দিয়ে ফাইনালে চলে যেত শ্রীলঙ্কা।

আর বাংলাদেশ কিংবা সাকিবের দাবি তা তো অবিশ্বাস্য ছিল না। টানা দুই বাউন্সোরের পর আম্পায়ার নো বলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু, পরক্ষণেই চট করে হাত নামিয়ে নেন। বাংলাদেশ নো পায়নি, ফ্রি হিটও না। এই ঘটনা তো পাড়ার ক্রিকেটে ঘটে। সাকিবদের ক্ষোভ তাই অহেতুক নয়!

রানাতুঙ্গার সেই ঘটনায় তাঁকে নায়ক বানানোর শুরুটা কিন্ত লঙ্কানরাই করেছে। আমরা করতে পারি না। কারণ, যেকোনো ইস্যুতে দুই ভাগ হয়ে যাওয়াই তো আমাদের রীতি। আর বিষয় যখন ক্রিকেট কিংবা সাকিব তখন তো এটা হওয়ারই ছিল।

ম্যাচটায় যেখানে বোলারদের অতিমানবীয় সূচনা, রিয়াদের ইনিংস, ছক্কায় জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাওয়ার টুকরো টুকরো বীরত্বের কথা মনে রাখার কথা আমাদের সেখানে একটা অংশ সাকিবের সমালোচনা করে অহেতুক মজা পাচ্ছে। জয় বাদে বাকি সবই মনে রেখেছি আমরা!

সেই নো

__________

ড্রেসিংরুমের কাচের গেট ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারটাকে সাকিবের সাথে মেলানো যাবে না। যেই ব্যাপারটার সাথে জড়িত হউন না কেন, এখানে বাংলাদেশের কেউ জড়িত থাকুক বা নাই থাকুক – যা হয়েছে ভাল হয়নি। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড সিসি টিভির ফুটেজ দেখেছেন, ক্যাটারিং সার্ভিসের লোকদের সাথে আলোচনা করেছেন। নিশ্চয়ই পুরো ব্যাপারটা শিগগিরই জানা যাবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।