বিশ্বকাপের বাঁশি হাতে প্রথম নারী

ম্যাচ পরিচালনায় রেফারি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মত এই বিশ্বকাপেই ব্যবহৃত হচ্ছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি।

রেফারিংয়ের আরেকটা ব্যাপারেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে রাশিয়া। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের মঞ্চে বাঁশি হাতে দেখা যাবে এক নারীকে। তিনি হলেন ২৬ বছর বয়সী ফার্নান্দা কলম্বো উলিয়ানা। লাইন জাজ হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ মানেই খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ। একই সাথে চাপ থাকে রেফারিদের ওপরও। আর প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বলে ফার্নান্দার ওপরও চাপ থাকছেই।

যদিও এই তরুণী চাপ জয় করতে প্রস্তুত। খেলাধুলা বিষয়ক স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে তিনি বলেন, ‘এতটুকু রাস্তা এগিয়ে আসা আমার জন্য যথেষ্ট কষ্টকর ছিল। তবে আমি সব সময়ই ফুটবল ভালবসি। যখন খেলতাম, খুব ভাল খেলোয়াড় ছিলাম না। এরপর শারীরিক শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রী নেই। সব মিলিয়ে আমার লড়াইটা সহজ ছিল না। এতদূর যখন আসতে পেরেছি, বাকিটা রাস্তা নিয়ে আর কোনো ভয় নেই।’

ফার্নান্দার জন্ম ব্রাজিলের সান্তা ক্যাটারিনায়। এই রাজ্যটা ব্রাজিলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপ চলাকালেই তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। সেবার ব্রাজিলের ‘সি’ ডিভিশনে সাও পাওলো ও সিআরবি’র মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে লাইন জাজের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর কালক্রমে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ডিভিশনে পদোন্নতি হয় তাঁর।

যাত্রাটা তাঁর জন্য মোটেই সহজ ছিল না। ব্রাজিলিয়ান সিরি ‘এ’-তে তাঁর অভিষেকটাই অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়। ক্রুজেইরো আর অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর মধ্যকার ম্যাচে তাঁর অভিষেক। ম্যাচে একটা অফসাইড ধরতে পারেননি তিনি। আর এর মাশুল দিয়ে ক্রুজেইরো ২-১ গোলে হেরে যায়।

সমর্থকদের অনেক দুয়ো শুনতে হয়েছিল সেদিন। এমনকি ক্রুজেইরোর স্পোর্টিং ডিরেক্টরও বাজে মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘অ্যাসিন্ট্যান্টটি যথেষ্ট সুন্দরী। তবে, এই কাজের জন্য ও এখনো প্রস্তুত নয়। সমর্থকরা চিৎকার করেছে, ও ভুল করেছে। আপনি সুন্দরী হতে পারেন, তবে নিজের কাজেও আপনাকে ভাল হতে হবে। এর চেয়ে বরং ও প্লে-বয় ম্যাগাজিনের হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে ভাল করতো।’

ফার্নান্দা মনে করেন, কেবল নারী বলেই নয়, যোগ্যতা আছে বলেই তিনি আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি যথেষ্ট যোগ্য না হতাম তাহলে এতদূর আসা হত না। এখানে সবাই পেশাদার, যোগ্যতা ছাড়া কিছুই মেলে না।’

নি:সন্দেহে ফিফার এই সম্মাননা ফার্নান্দার ক্যারিয়ারে বাড়তি এক অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে। পুরুষদের জগতে তাঁর আগমণের হাত ধরেই হয়তো বাঁশি হাতে বাড়বে নারীদের সংখ্যা।

এর আগেও অবশ্য ফিফা বিশ্বকাপে নারী রেফারি দেখা গেছে। গত বছর ভারতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে সুইস নারী রেফারি এস্টার স্টাউবিল দায়িত্ব পালন করেন। তবে, বড়দের বিশ্বকাপে ফার্নান্দাই প্রথম।

 

– দ্য কোয়াইন্ট অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।