বিশ্বকাপ কাঁপানো সেই শাওন গাজী এখন বিক্রয়কর্মী!

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটার তিনি। ২০১৬ সালে দেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যে সেমিফাইনালে গেল তাতে সবচেয়ে বড় পারফরমারদের একজন সালেহ আহমেদ শাওন গাজী। বাঁ-হাতি এই স্পিনার ছয় ম্যাচে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট।

মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হাসান শান্ত কিংবা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনদের সাথে খেলা তরুণ সেই উদীয়মান ক্রিকেটার আজ হারিয়ে গেছেন বিস্মৃতির অতলে। জীবনের চরম নিষ্ঠুরতা দেখছেন তিনি। বাধ্য হয়ে ফ্যাশন হাউজ ‘ইজি ফ্যাশন’-এর শো-রুমে বিক্রয়কর্মীর কাজ করছেন তিনি।

কলাবাগান ক্রীড়াচক্র দলে শাওনের অধিনায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার সুপারিশেই চাকরিটা পেয়ে যান শাওন। শাওন কাজ করেন ‘ইজি ফ্যাশন’-এর মিরপুর ছয় নম্বর শো-রুমে।

২০১৬ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে নিয়মিতই ছিলেন। খেলেছেন ক্রিকেট কোচিং স্কুলের হয়ে। ২০১৭ সালে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রতে ছিলেন, যদিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন কেবল একটি ম্যাচে। আর সর্বশেষ আসরে কোনো দলই পাননি শাওন গাজী। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের গত আসরে তাঁকে দেখা গেছে বাংলাদেশ বয়েজের হয়ে খেলতে।

মিরাজ ও শান্তর সাথে

আটটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তাঁর দখলে আছে ১৩ টি উইকেট।  পাশাপাশি ২৩ টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৩০ টি উইকেট পেয়েছেন পটুয়াখালীর শাওন। এলাকার বড় ভাই ও জাতীয় দলের ক্রিকেটার সোহাগ গাজীর পরামর্শে হয়ে উঠেছিলেন বাঁ-হাতি স্পিনার, অনুপ্রাণিত হতেন মাশরাফিকে দেখে। চাইতেন, একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাশরাফির মত বড় ক্রিকেটার  হতে।

কিন্তু, সব কিছুই আজ হয়তো অতীত। এখনো কি স্বপ্ন দেখেন শাওন? বয়স তো খুব বেশি নয়, ২১ এর মত। তবে, আপাতত তাঁর জীবন আটকে গেছে ফ্যাশন হাউজের শো-রুমে, শার্ট-পাঞ্জাবির বোতামে, ১৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার জীবনে।

২০১৬ যুব বিশ্বকাপে

বছর খানেক আগেও একবার মাঠের বাইরের ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন শাওন গাজী। বাবার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় মারাত্মক আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সত্যি, শাওনের জন্য জীবনটা ‘ফুলসজ্জা’ নয়!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।