রোম্যান্স কিং ইমতিয়াজ আলী: ছন্দপতন না চূড়ান্ত পতন?

বলিউডের রোম্যান্টিক ফিল্মের কিং খ্যাত পরিচালক ইমতিয়াজ আলীর সাম্রাজ্যে ধ্বস!

কার্তিক আরিয়ান ও সারা আলী খানের অভিনয়ে বহুল আলোচিত ‘লাভ আজ কাল ২’ (২০২০) এর ভরাডুবির পর চারিদিকে রব উঠে এসেছে যে হয়তো ইমতিয়াজের কিছু সোল-সার্চিং প্রয়োজন। না হলে ‘হাইওয়ে’ কিংবা ‘তামাশা’র মতো অসাধারণ ছবির পর লম্বা বিরতি নিয়েও এতো বাজে দু’টো ছবি কিভাবে করলেন? ‘জাব হ্যারি মেট স্যাজাল’-এর পর অনেকে ধরে রেখেছিলেন, এর চেয়ে নিচে যাওয়া সম্ভব না। কিন্তু এই ‘লাভ আজ কাল ২’ সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আমি কোনো ব্যবসায়িক লাভ-লোকসানের দিকেই আলোচনা নিতে চাই না। বক্স অফিস দিয়ে একটি ছবির সত্যিকারের মান যাচাই করা যায় না। এর চেয়ে বরং ইমতিয়াজ আলীর ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের আট ছবির আইএমডিবি রেটিংয়ে চোখ বুলাই –

  • ২০২০ সাল: লাভ আজ কাল ২ (১০-এ ৫.৩)
  • ২০১৭ সাল: জাব হ্যারি মেট স্যাজাল (১০-এ ৫.৩)
  • ২০১৫ সাল: তামাশা (১০-এ ৭.৩)
  • ২০১৪ সাল হাইওয়ে (১০-এ ৭.৬)
  • ২০১১ সাল: রকস্টার (১০-এ ৭.৭)
  • ২০০৯ সাল: লাভ আজ কাল (১০-এ ৬.৮)
  • ২০০৭ সাল: জাব উই মেট (১০-এ ৭.৯)
  • ২০০৫ সাল: সোচা না থা (১০-এ ৭.৫)

এই তথ্য গুলোই প্রমাণ করছে যে, ২০১৫ সাল অবধি মানে ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছরে তিনি যাই নির্মান করেছেন না কেন সবারই রেটিং পয়েন্ট ছিল সাত-এর ওপরে কিংবা নিদেন পক্ষে সাত ছুঁইছুঁই। তবে, শেষ পাঁচ বছরে সাত তো দূরের কথা, ছয়ই ছুঁতে পারেননি ইমতিয়াজ।

সবাই বলছে এখানে মূল সমস্যা ছবিগুলোর গল্পের গাঁথুনিতে, লেখকদের অদক্ষতায়। অভিনেতাদের দুর্বলতা পরে। কার্তিকের চরিত্র, রকস্টারের রণবীর আর তামাশার ভেদ – কোনো তুলনাই চলে না। আর, সারা আলী খানের চরিত্রের দুর্বলতার গভীরতা কতটুকু – সেটা লিখেও প্রকাশ করা যাবে না। দায়টা ইমতিয়াজকেই নিতে হবে। কারণ, তাঁর নিজের ছবির চিত্রনাট্য তিনি নিজেই লিখে থাকেন।

আমার ব্যক্তিগতভাবে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাভ আজ কাল’ ইমতিয়াজের সবচেয়ে দুর্বল ফিল্ম লাগতো। সেটাকেই যখন রিমেক করা হচ্ছে, শুনে অবাকই হয়েছিলাম। প্রায় নিশ্চিত ছিলাম, একদম ক্যাশ গ্র্যাব ছাড়া কিছু হবার নয়। কারণ, প্রজন্ম এই ১০ বছরে এমন কোনো বদলায় নি যে লাভ নিয়ে আরেকটা বানাতে হবে।

ধারণা করি, ইমতিয়াজ একটা রাইটার্স ব্লক-এ ছিলেন। তাকে জোর করে ধরে এনে এই দু’টো ছবি বানাতে দেয়া হয়। কারণ, তামাশা দেখেই মনে হচ্ছিলো উনি অন্য লেভেলে নতুন কিছু দিতে চাচ্ছেন। সেটা করতে না দিয়ে বলিউড হয়তো তার ক্ষতিই করলো।

এই অবস্থার দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে। টানা পাঁচ বছরের বাজে সময়কে যতটা ছন্দপতন বলা যায়, তার চেয়ে পতন কিংবা চূড়ান্ত পতন শব্দগলোই বেশি যুৎসই। একটা ভাল গল্পই ইমতিয়াজের এই দু:সময় কাটিয়ে দিতে পারে। সে পর্যন্ত না হয় অপেক্ষা করা যাক। না হলে, ক্ষণিকের বিশুদ্ধ বাতাস হয়েই একটা সময় বিলীন হয়ে যাবে ইমতিয়াজের প্রতিভা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।