দ্য কিউরিয়াস কেস অব শাহেদ

‘৫১বর্তী’ ধারাবাহিকের বাড়ির ছোট ছেলে ফাহিম। বেকার হলেও সর্ব কাজে কাজী। বাড়ির সব সমস্যা সমাধান তাঁকে দিয়েই করা হয়। ২০০০ সালে প্রাণোচ্ছল এই চরিত্রে অভিনয় করেছিল শাহেদ। আনিসুল হকের লেখা গল্পে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নির্মিত ৫১বর্তীর আগে পারিবারিক কমেডি নাটক ‘এবং বিয়ে’তেও অভিনেতা হিসেবে নজর কেড়েছিলেন।

পুরো নাম শাহেদ শরীফ খান। আলোচনায় আসেন মডেলিং এর সুবাদে। নব্বই দশকের একদম শেষ থেকে নতুন শতকের শুরুর দিকে হয়ে উঠেন অন্যতম জনপ্রিয় মডেল, টিভি বিজ্ঞাপনের নিয়মিত মুখ। ব্যক্তিজীবনে আলোচনায় চলে আসেন আবুল হায়াতের ছোট কন্যা নাতাশা হায়াতকে বিয়ে করে। এখন তারা এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা-মা।

তখনকার দাপুটে অভিনয়শিল্পীদের ভিড়ে অভিনেতা হিসেবে অত মেলে ধরতে পারেননি ঠিকই তবে অনেক কাজ করেছেন। একক নাটকের মধ্যে দূরত্ব, সুইট ফ্যামিলি, শেষ রাতের পাখি, এক জীবনে, বিবাহ বিভ্রাট, হৃদয় বিলাস, এক ঠুকরো ভালোবাসা, দিল দরিয়া, আজ কিছু হতে চলেছে, ইন্টারভিউ অন্যতম, নুরুল হুদা একদা ভালোবেসেছিল ধারাবাহিকেও ছিলেন।

দেখতে সুদর্শন, জনপ্রিয় মডেল। ওই সময় শাহেদের একটা ভক্ত মহল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে ডাক পেলেন চলচ্চিত্রে। অকাল প্রয়াত তারকা তিন্নী হোসেনকে সাথে নিয়ে প্রথম সিনেমা ‘প্রিয়সাথী’। কিন্তু বিধিবাম, শ্যুটিং শুরুর আগেই খুন হন  তিন্নী, সেই জায়গায় এলেন রত্না। তবে সিনেমা আর মুক্তি পায় না, যতদিনে মুক্তি পেল ততদিনে এই সিনেমার আমেজ একেবারেই শেষ, স্বভাবতই সুপারফ্লপ হল।

সিনেমায় থিতু হতে চেয়েছিলেন শাহেদ। সেজন্যই ‘হৃদয় শুধু তোমার জন্য’র মত স্থুল ছবিতে দ্বিতীয় নায়ক হয়েছিলেন। এখানেও ভাগ্য সহায় হয় নি। স্ত্রী নাতাশা হায়াতই এই ছবি সিনেমা হলে পুরো দেখতে পারেন নি। তবে তৌকীর আহমেদের প্রথম সিনেমা ‘জয়যাত্রা’তে আলো ছড়িয়েছিলেন। যদিও, শাহেদ ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে।

২০০৪ সালে মুক্তি পায় ‘জয়যাত্রা’। এরপর নয় বছর বিরতি দিয়ে তিনি সাইফ চন্দন পরিচালিত ‘ছেলেটি আবোল তাবোল, মেয়েটি পাগল পাগল’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে ফিরেন। ছবিটিতে কাজ করেন নেতিবাচক চরিত্রে। তবে, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবি কোনো আলোচনার রসদ যোগাতে পারেনি।

এরপর শুধু নিকট আত্মীয়ের অনুরোধে ‘অজ্ঞাতনামা’য় একেবারেই স্বল্প সময়ের জন্য ছিলেন। কলকাতাতেও একটা ছবি করেছেন। রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্মানে ছবিটি হল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘সেনাপতি’। শাহেদের সাথে আছেন রিয়া সেন ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যা। এছাড়া দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত টেলিছবি ‘টক ঝাল মিষ্টি’তেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।

একটা সময় পর নাটক নির্মাণ ও করেছিলেন। বছর কয়েক আগে প্রশংসিত নাটক ‘সারফেস’ এর প্রধান অভিনেতা ছিলেন। ২০১৭ সালের বই মেলায় শাহেদের লেখা ‘তোমার জন্য’ নামে একটি কবিতার বই বের হয়।

শাহেদের বাংলাদেশের বিনোদন জগতের খুবই ইন্টারেস্টিং একটা চরিত্র। তিনি খুব সুদর্শন বলে আলোচিত ছিলেন। ধূমকেতুর মত গ্ল্যামারাস অভিনেতা হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন। কিন্তু, যখন যেটা করেছেন, কোনোটাতেই খুব বেশি স্থায়ী হতে পারেননি। একটা সময় তাই হারিয়েই গেছেন। সহজেই তাই দর্শকরা তাঁকে ভুলে গেছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।