আনুশকা শর্মা: দ্য ব্র্যান্ড

তাঁর বাকেট লিস্টটা খুব বড় ছিল না। মাত্র তিনটা – একটা ডিজাইনার ব্যাগ, নিজের একটা বাড়ি আর একটা রেঞ্জ রোভার গাড়ী। সব স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। ফলে, আক্ষরিক অর্থেই তাঁর জীবনে অপূর্ণতা বলে কিছু নেই।

না, এখানেই গল্পটা শেষ নয়। কারণ তিনি যে হলেন বলিউডের এই সময়ের অন্যতম সেরা নায়িকা। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির স্ত্রী হওয়ার পরও এখনও তিনি নিজের পরিচয়েই বেশি পরিচিত। তিনি হলেন আনুশকা শর্মা!

বিরাট কোহলি  কি করে এত বড় ক্রিকেটার হলেন? এর অনেকগুলো কারণের একটা বড় কারণ হল ‘শৃঙ্খলা’। বিরাট প্রতিভার সাথে শৃঙ্খলার সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে পেরেছেন। একই কথাটা আনুশকা শর্মার ক্ষেত্রেও সত্যি। কে জানে, হয়তো এই ‘কমন’ ব্যাপারগুলোই দু’জনকে এক করেছে।

আনুশকার জন্ম ১৯৮৮ সালের এক মে, ব্যাঙ্গালুরু। শৃঙ্খলার শিক্ষাটা শৈশবে পরিবার থেকেই পান তিনি। কারণ, বাবা ছিলেন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল অজয় কুমার শর্মা। বড় ভাই কার্নেশ মার্চেন্ট নেভি হলেও একটা সময় রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেট খেলেছেন।

ব্যাঙ্গালুরুর মাউন্ট ক্যারমেল কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর তিনি নিজের জন্য দু’টি ক্যারিয়ারের কথা ভাবেন – হয় সাংবাদিকতা, নয় মডেলিং। ঠিক এই সময়ই আনুশকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা।

ব্যাঙ্গালুরুর এক শপিং মলে তাঁকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেন খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার ওয়েন্ডেল রডরিক্স। প্রস্তাব দিয়ে ফেলেন। আনুশকা সেই সুযোগটা হাতছাড়া করেননি।

ব্যাঙ্গালুর থেকে চলে আসেন মুম্বাই। শুরু হয় যুদ্ধ। এটা নিশ্চয়ই কারো অজানা নয় যে সেই যুদ্ধে পুরোপুরি সফল আনুশকা। ভাগ্যিস, তিনি সাংবাদিকতার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন। এখন তাই সাংবাদিকরাই তাঁকে একটু পাওয়ার জন্য আকুতি-মিনতি করে।

বলিউডে আনুশকার অভিষেক হয় ২০০৮ সালে, ‘রাব নে বানা দি জোড়ি’ সিনেমায় তাঁর বিপরীতে ছিলেন স্বয়ং শাহরুখ খান। সেটাও আবার যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারের ছবি। এটা তো স্বপ্নের মত এক অভিষেক। অথচ, শুরুতে আনুশকাকে একদমই পছন্দ হয়নি আদিত্য চোপড়ার।

আনুশকা তখন আদিত্য চোপড়াকে বলেছিলেন, ‘আমি হয়তো অনেক বেশি সুন্দর কেউ নই, কিন্তু এটুকু বলতে পারি সবার মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশি প্রতিভাবান।’ ব্যাস, আদিত্য চোপড়া এই আত্মবিশ্বাস দেখেই সুযোগটা দেন আনুশকাকে।

আনুশকার প্রিয় অভিনেতা শাহরুখ খান। সেই শাহরুখের বিপরীতেই প্রথম সিনেমা, প্রথম দৃশ্য, স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যান আনুশকা। ব্যাপারটা ধরতে পারেন কিং খান। তিনি আনুশকাকে বলেন, ‘আমি জানি তুমি খুব ভাল অভিনেত্রী। তবে, এখন অভিনয় করতে হবে না, শুধু স্বাভাবিক থাকো।’

শাহরুখের এতটুকু কথা উবে যায় আনুশকার নার্ভাসনেস। বাকিটা স্রেফ ইতিহাস!

সময় যত এগিয়েছে তত ব্যস্ততা বেড়েছে আনুশকার। পরিচালক-প্রযোজকদের চাপ, দর্শকদের এত প্রত্যাশার পরও আনুশকা খুবই বেছে বেছে কাজ করেন। বাকিটা সময় ব্যয় করেন নিজের পেছনে। সুযোগ পেলেই অবসরে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হন, স্বামীর খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত থাকেন। তবে, সবচেয়ে বেশি যে কাজটা করেন সেটা হল ‘ঘুম’। এটাই আনুশকার সবচেয়ে পছন্দের কাজ।

এর বাদে প্রচুর বই পড়েন। সিনেমা দেখেন। আনুশকার পছন্দের সিনেমার মধ্যে আছে শশাঙ্ক রেডেম্পশন, লাইফ ইস বিউটিফুল, ইন দ্য মুড ফর লাভ, ফিশ ট্যাংক, জাব উই মেট, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, চাক দে! ইন্ডিয়া ও দিল সে। আনুশকা রোম্যান্টিক সিনেমার পোকা।

বলিউডের কোনো অভিনেত্রীকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন না আনুশকা। বরং তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেন নিজেকেই। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আসলে প্রত্যেক অভিনেত্রীর সাথেই প্রতিনিয়ত প্রতিযোগীতা করতে হয়। ফলে, আলাদা করে কারো নাম বলার নেই। আমি বরং বলি আমি প্রতিটা মুহূর্ত নিজের সাথে প্রতিযোগীতা করছি। কিভাবে নিজেকে আরো দক্ষ করা যায় সেটা নিয়ে কাজ করছি। কারণ, এখন সবাই সেরা চরিত্রটাই চায়। এর জন্য তো নিজেকেও সেরা করাটা জরুরী।’

শেষ করছি ভিন্নধর্মী একটা তথ্য দিয়ে। বিখ্যাত ভারতীয় চিত্রশিল্পী মকবুল ফিদা হুসেইন মৃত্যুর আগে মাত্র তিনজন ভারতীয় অভিনেত্রীর পোট্রেট এঁকেছেন। তাঁরা হলেন মাধুরী দিক্ষিত, অমৃতা রাও ও টাবু। আরেকজনের ছবি আঁকার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। যদিও, এর আগেই ডাক আসে ওপর থেকে। তিনি হলেন আনুশকা শর্মা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।