বলিউডের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’

২০০৮ সাল। পরপর বেশ কয়েকটি ফ্লপ সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার প্রায় থেমেই যাচ্ছিল। অনেকেই বলেছিল বলিউড ছেড়ে বোধহয় চলেই যাচ্ছেন সময়ের এই আলোচিত অভিনেত্রী। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়ে যাননি তিনি।

থমকে যাওয়া ক্যারিয়ারে শারদ প্রভাতের এক পশলা বৃষ্টি হয়ে নেমে এসেছিল ‘ফ্যাশন’ ছবিটি। মধুর ভান্ডারকরের এই ছবিতে এক সুপার মডেলের চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। ঠিক আগের বছর যেখানে ‘সালাম ই ইশক’ ছবির জন্য দূর্বল অভিনেত্রী হিসেবে সমালোচিত হয়েছিলেন, সেখানে পরের বছরই এক ‘ফ্যাশন’ ছবি দিয়েই অর্জন করে নিয়েছিলেন বছরের সব পুরস্কার।

এমনকি প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর বহু আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় পুরস্কারও। এমনি আরো বহুরুপে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন কখনো ‘ঝিলমিল’ হয়ে, আবার বক্সার মেরি কম হয়ে। পাড়ি দিয়েছেন হলিউডেও। তিনি বলিউডের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রী, সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

২০০০ সালে পড়েছিলেন বিশ্বসুন্দরীর মুকুট। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা বলিউড পাড়ায়। এক সাথে অনেকগুলো ছবিতে সাইন করে ফেললেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু শুরুতেই বিধি বাম। বাদ পড়ে গেলেন আব্বাস- মুস্তানের হিট ছবি ‘হামরাজ’ থেকে।

অভিষেক হলো তামিল ছবি ‘থামিজান’ দিয়ে। বলিউডে প্রথম ছবি সানি দেওলের সাথে ‘দ্য হিরো’ দিয়ে ফ্লপের তকমা পেলেও অক্ষয় কুমারের সাথে ‘আন্দাজ’ দিয়ে পেলেন প্রথম হিটের দেখা। যদিও দুই সিনেমাতেই ছিলেন পার্শ্ব চরিত্রে।

প্রধান নায়িকা হিসেবে প্রথম সাফল্য পান ‘মুঝছে শাদি কারোগি’ ছবি দিয়ে। গানগুলোও খুব চলেছিল। এছাড়া একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘অ্যায়েতরাজ’ ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক থেকে সমালোচক সবার মন জয় করে নেন। কিন্তু ফ্লপ যেন তাঁর পিছু ছাড়ে না, মাঝে কৃষ ও ডন সুপারহিট হবার পর আলোচনায় এলেও আবার সেই ফ্লপের ধাক্কা।

অবশেষে ‘ফ্যাশন’ ছবি দিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন। না, ব্যবসায়িক হিসাব মতে এই ছবিও মোটে হিট নয়। তবে সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেলেন এই বিশ্ব সুন্দরী, একই বছর ‘দোস্তানা’ ছবিটিও ছিল স্বস্তির নি:শ্বাস।

পুরো ক্যারিয়ারেই বেশ উত্থান- পতন থাকলেও বেশ কিছু ছবিতে ভালো অভিনয়ের জন্য তিনি সারাজীবন দর্শকনন্দিত হয়ে থাকবেন, তাঁর মধ্যে অন্যতম ‘বারফি’। অনুরাগ বসুর এই ছবিতে নাম ভূমিকায় রনবীর কাপুর থাকলেও ‘ঝিলমিল’ চরিত্রে তিনি ছিলেন অনেক সমুজ্জ্বল।

মূক ও প্রতিবন্ধী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে রনবীরের সাথে সমান পাল্লা দিয়েছেন। জাতীয় পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার ছিলেন সেই বছর। বক্সার মেরি কমের চরিত্রেও নিজেকে মেলে ধরেছেন, নিজের মেধাকে কাজে লাগিয়ে তুলে ধরেছেন বিশাল ভরদ্বাজের সাত খুন মাফ ও কামিনে ছবিতেও। সঞ্জয় লীলা বানশালীর ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ছবিতেও প্রধান তারকাদের মাঝেও ‘কাশিবাঈ’ চরিত্রে মোটেও ম্লান হয়ে যাননি।

এছাড়া ক্যারিয়ারে রয়েছে ডন ২, অগ্নিপথ, কৃষ ৩-এর মত সুপারহিট ছবি। তবে এই ছবিগুলোতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরার সুযোগ পাননি। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে নির্মাতারা তাকে আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করলেও, ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন পরিনত অভিনেত্রী।

বলিউডে কাজ করার সুবাদেই ডাক পেলেন হলিউডে। কাজ করেছেন ‘কোয়ান্টিকো’ সিরিজে, ‘বেওয়াচ’ ফ্র্যাঞ্চাইজিরি সিনেমায়। সাফল্য হয়তো এসেছে, তবে বলিউড থেকে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিলেন। শেষ সিনেমা ‘জয় গঙ্গাজল’-এর পর সামনের বছর সালমান খানের সাথে আসছেন ‘ভারত’ সিনেমা। কথা হচ্ছে আরো অনেক বলিউড সিনেমা নিয়েও। অভিনয়ের বাইরে গায়িকা হিসেবেও বেশ সুপরিচিতি আছে। তাঁর গাওয়া গান টপচার্টেও থাকে।

বর্ণিল ক্যারিয়ারে ২০১৬ সালে পেয়েছেন ‘পদ্মশ্রী’। ২০০৮ সালে জাতীয় পুরস্কার। ভারতের বেসরকারী ভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় পুরস্কার ফিল্মফেয়ারে করেছেন অনন্য রেকর্ড। দারুন অভিনয়ে পাঁচটি বিভাগে অভিনেত্রী হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন। এই রেকর্ড আর কেউ এখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেন নি,ভবিষ্যতেও সম্ভাবনা কমই।

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হয়ে অল্প কয়েকদিন আগেই ঘুরে গেছেন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তিনি বিচরণ করেন এখন বিদেশ বিভুঁইয়ে। রয়্যাল ওয়েডিংয়ে হাজির হন, হলিউডে কাজ করার প্রস্তাব পান। বিদেশি পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে লেখালিখি হয়। তিনি আক্ষরিক অর্থেই এখন বিশ্ব ময়দানে বলিউডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।

ব্যক্তিজীবনে তাঁর ভালোবাসা পেতে চেয়েছিলেন একাধিক নায়ক। তবে কারো সাথেই সেই সম্পর্ক বেশদূর এগোয়নি। বিনোদনের জগতে জোর গুঞ্জন নিজের চেয়ে ১১ বছরের ছোট আমেরিকান গায়ক নিক জোনাসের সাথে চুটিয়ে প্রেম করছেন। খবরটা সত্যি বলে প্রমাণিত হলে, নি:সন্দেহেই কোটি কোটি উপমহাদেশীয় পুরুষের হৃদয় ভাঙতে বাধ্য!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।