বিউটি সার্কাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি একই মোহনায় মিলবে তো?

সরকারী অনুদানে ২০১৬ সালে শুরু হয়েছিল শুটিং। কিন্তু নানা বিপত্তির কারণে সংশয় জেগেছিল এটির মুক্তি নিয়ে। তবে সংশয় কাটিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে টিজার। ব্যস, তাতেই ‘বিউটি সার্কাস’-কে ঘিরে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটলো। ছবির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ছাড়াও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ফেসবুক পেজে প্রকাশ হয়েছে টিজারটি। টিজার রিলিজ দেবার পরে মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসায় ভাসছে সিনেমার পুরো টিম।

সিনেমার গল্প সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় যে, একটি জনপ্রিয় সার্কাসের প্রধান নারী যাদুশিল্পী বিউটির যাদু প্রদর্শনীর কারিশমা আর রূপে পাগল এলাকার তিন প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই তালিকায় আরো আছেন সার্কাসের মালিক স্বয়ং। সুন্দরী এবং বুদ্ধিমতি বিউটিকে নিজের করে পাবার প্রতিযোগিতায় নামে তারা। এতে এক সময় হুমকির মুখে পড়ে যায় পুরো বিউটির সার্কাসটি।

কিন্তু, কৌশলী বিউটি হাল ছাড়বার পাত্রী নয়। বুদ্ধির জোরে সে শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে ওঠে গভীর সংকট। সিনেমায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সার্কাস শিল্প, এই শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন, তাদের জীবন যুদ্ধ, প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক নানা ব্যক্তিদের প্রাভাব বিস্তার, গ্রামীন এবং সামাজিক নানা পরিস্থিতি এসব নানা কিছু নিয়েই আবর্তিত হয়েছে এই সিনেমার গল্প।

‘বিউটি সার্কাস’ পরিচালনা করেছেন মাহমুদ দিদার। টিজার রিলিজ দেবার পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ‘যেহেতু আমার টাকা নাই , তাই বুস্ট করতে পারবোনা! মানুষের কাছে পৌছোনোর জন্যে ভালো লাগাটাই প্রধান নিয়ামক। খুব কৃতজ্ঞ আমি , যারা ভালোবেসে আমাকে পাত্তা দিয়ে গেছেন। এখোনো দিচ্ছেন। যেহেতু লাইক, কমেন্ট, শেয়ার খুবই গুরত্বপূর্ণ সেহেতু অনুরোধ  রইলো, আমরা আমাদের টিজারটা আরো মানুষের কাছে নিয়ে যাই।’ এরকম একটি স্ট্যাটাস লিখে সিনেমার প্রচারনা করেন।

নির্মাতা মাহমুদ দিদার মনে করছেন, ‘বিউটি সার্কাস’ বাংলা সিনেমায় একটা নতুন মাত্রা যোগ করবে। ‍তিনি বলেন, ‘সার্কাসের সঙ্গে আমাদের একটা প্রজন্মের শৈশব-কৈশোর জড়িয়ে আছে। এই জায়গা থেকে কাজটা করা আমার জন্য সহজ ছিল না। চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে শেষ দৃশ্যধারণ পর্যন্ত খুব যত্ন করে কাজটা করেছি। আশা করছি কেউ হতাশ হবেন না। নওগাঁ ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে সিনেমার শুটিং হয়েছে।’ খুব শ্রীঘই সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই গুনী নির্মাতা।

এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে জয়া আহসান অভিনয় করেছেন একজন সার্কাস কর্মীর চরিত্রে। টিজারেই আঁচ পাওয়া গেছে, নতুন এই চরিত্রেও বাজিমাৎ করবেন দুই বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। জয়া ছাড়াও ফেরদৌস, এবিএম সুমন, শতাব্দী ওয়াদুদ ও তৌকীর আহমেদের দেখাও মিলেছে টিজারে।

কিছুদিন আগে জয়া ‘দেবী’ সিনেমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং প্রশংসার পরে ‘বিজয়া’ সিনেমাটিও ব্যাপক সাফল্য লাভ করে। সম্প্রতি কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে তার ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’। সেই সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে সবার। আর এবার ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমা সম্পর্কে জয়া আহসান বলেন, ‘আসলে সার্কাস আমাদের বাঙালি জীবনের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। তবে এখন এটি বিলুপ্তপ্রায়। সিনেমাতে আমি একজন সার্কাসকর্মীর ভূমিকায় রয়েছি। চরিত্রটি আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আশা করছি নতুন এ চরিত্রটি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

ঢাকা অ্যাটাক সিনেমায় আশফাক চরিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং প্রশংসা পাবার পরে লম্বা গ্যাপের পর বড় পর্দায় আসছেন এবিএম সুমন। মাঝে ‘আদি’ সিনেমা মুক্তি পাবার কথা থাকলেও নানা কারণে সেটা বিলম্বিত হচ্ছে। এবার ‘বিউটি সার্কাস’ সিনেমার টিজারে তার লুক, ড্রেসআপ নজরে এসেছে সবার। যথারীতি এই সিনেমাতেও তিনি তার অভিনয় দিয়ে জয় করতে চলেছেন সবার মন এমনটা বলা খুব একটা ভুলের কিছু হবেনা।

কিছুদিন আগে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ সিনেমায় পরিচালক হিসেবে নিজের মেধা এবং দক্ষতার পরিচয় নতুন করে দিয়েছেন নব্বই দশকের এই গুনী অভিনেতা। অজ্ঞাতনামা, হালদা র পরে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ দিয়েও নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এই গুনী পরিচালক ‘কমলা রকেট’ এর পর আবার আসছেন সিনেমার পর্দায়। টিজারে অল্প সময় হলেও তিনি নজরে এসেছেন সবার।

গত ডিসেম্বরে ‘পোস্ট মাষ্টার ৭১’ মুক্তির পরে এই বছরে তার প্রথম সিনেমা ‘বিউটি সার্কাস’ নিয়ে হাজির অভিনেতা ফেরদৌস। তার অভিনয় ঝলক এবং ভিন্নধর্মী লুক প্রশংসা পাচ্ছে ভালোই।

টিজার দেখে যতটুকু বলা যায় বাংলাদেশেরে নান্দনিক সিনেমার ছোট্ট তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘বিউটি সার্কাস’। দক্ষ পরিচালক মাহমুদ দিদারের ব্যতিক্রমী পরিচালনা এবং জয়া আহসান, ফেরদৌস, এবিএম সুমন, তৌকির আহমেদ বা শতাব্দী ওয়াদুদের মতো দক্ষ এবং মেধাবী অভিনেতাদের শক্তিশালী অভিনয়, অসাধারণ এক ভিন্নধর্মী কনটেন্ট, বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনে ‘বিউটি সার্কাস’ জয় করবে বক্স অফিস থেকে শুরু করে সমালোচক এবং দর্শকদের মন এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।