আমাদের কিংবদন্তি

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা, সবচেয়ে বড় ‘পোষ্টার বয়’।  বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া ‘সুপার হিরো’। বলা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘সুপারম্যান’ সাকিব আল হাসানের কথা। এই রকম নানা বিশেষনে ঢাকা হয় ‘বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রান’ সাকিব আল হাসানকে।

১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সাকিব আল হাসান (ফয়সাল)। ফুটবল প্রেমী পরিবারে জন্ম সাকিব প্রেমে পড়েন ব্যাট-বলের। বিকেএসপি’র প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্পে কোচ আশরাফুল ইসলাম বাপ্পির নজর কাড়েন সাকিব, তারপর বিকেএসপিতে সান্নিধ্য পান সাকিবের ক্রিকেট গুরু সালাউদ্দিনের।

অনুর্ধ্ব-১৫ দল ঘোষণা হয়, তাতে জায়গা হয়নি সাকিবের। কিন্তু পরবর্তীতে দলের নিয়মিত একজন খেলোয়াড়ের ইনজুরিতে হঠাৎ দলে সুযোগ পেলেন সাকিব। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, এগিয়ে গেছেন  বিশ্বসেরা হওয়ার পথে। সুযোগ পাওয়ার পর ভালো করতে থাকা সাকিবের নজর কাড়তে থাকেন তরুন ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করতে থাকা কোচদের।

তারপর সুযোগ এলো অনুর্ধ্ব-১৭, সেখানেও ব্যাট-বলে দারুণ পারফর্ম করতে থাকা সাকিবের পরবর্তীতে স্থান হলো অনুর্ধ্ব-১৯। উপরে ওঠার পথটা মসৃণই ছিলো এরপর, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সুযোগ পেলেন  বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গাঁয়ে দেয়ার।

২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিব আল হাসানের। ব্যাটে-বলে খারাপ করেননি একেবারে, বল হাতে ৩৯ রানে ১ উইকেট আর ব্যাট হাতে ৩০ রান। এরপর আর থেমে থাকেননি সাকিব, ক্রমাগত ছাড়িয়ে গেছেন নিজেকে

প্রতিটি জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন, বিশালত্বের পথে এগিয়েছেন এক এক পা করে; বসেছেন ইয়ান বোথাম, ইমরান খান, রিচার্ড হ্যাডলি জ্যাক ক্যালিসদের মত কিংবদন্তিদের পাশে, গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড! অবশ্য কিংবদন্তিদের পাশে থাকবেন তো আরেক কিংবদন্তি, পারফরমেন্স দিয়েই সাকিব এক কিংবদন্তি। শুধু বাংলাদেশের নয়, তিনি আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বমানের এক কিংবদন্তি।

২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি সাকিব আইসিসির ওয়ানডে অলরাউন্ডার হিসেবে র‌্যাংকিংয়ের নম্বর স্থানে উঠে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের তকমাটি নিজের নামের পাশে স্থান করে দেন সাকিব।

২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারিতে বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি, ক্রিকেটের প্রতিটি সংস্করণেই নাম্বার ওয়ান অল-রাউন্ডার হওরার গৌরব অর্জন করেন সাকিব; যা ১৪০ বছরের ইতিহাসে বিরল। এরকম অসংখ্য রেকর্ডের জন্মদাতা সাকিব, সাকিব আজ বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক ব্র্যান্ড।

শুভ জন্মদিন, সাকিব আল হাসান- রেকর্ডের বরপুত্র। বেঁচে থাকুন বাংলাদেশিদের হৃদয়ে রাজা হয়ে, ভরসা হয়ে, স্বপ্ন হয়ে! আপনার হাত ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট পৌঁছবে স্বপ্নের সর্বোচ্চ শিখরে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।