দ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট

একজনের পাঁজরের নয় নাম্বার হাড়ে চিড়। বড় শটস খেলতে গেলেই চোট লাগে। ম্যাচে খেলবেন কিনা তা নিয়ে ছিল ঘোর সংশয়। সিদ্ধান্তটা নিলেন নিজেই। চোটকে সঙ্গী করে ব্যাট হাতে নামলেন, ব্যথা উপেক্ষা করে মাঠে কখনো ডিফেন্স করলেন, কখনো বড় শটস খেললেন, করলেন সেঞ্চুরি, করলেন রেকর্ড।

আরেকজনের বাঁ হাতের তর্জনীতে ব্যথা। ম্যাচে খেলবেন কি খেলবেন না তা নিয়ে শঙ্কা। যদিও সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ব্যথা নিয়েই ইনিংস ওপেন করলেন। খুব বেশি না, মাত্র ৩ বল মোকাবিলা করে একটা বাউন্সারে বাঁ হাতের কব্জিতে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর জানা গেল ৬ সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।

কিন্তু ছয় ঘন্টাও মাঠের বাইরে রইলেন না। দলের প্রয়োজনে শেষ উইকেটে সবাইকে অবাক করে বীরদর্পে আবারো মাঠে নামলেন। অবিশ্বাস্যভাবে এক হাতে ব্যাট করে নিজের নিবেদনের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। সবাইকে কাঁদালেনও। ক্রিকেট ইতিহাসেই যে এমন নজীর আছে হাতে গোনা কয়েকটা।

আরেকজন তো সবশেষ সিরিজই খেললেন ব্যথানাশক ইঞ্জেকশন দিয়ে। পরে অপারেশনের সুযোগ থাকলেও দলে নিজের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করে আজ আবারো একটি টুর্নামেন্ট খেলতে নেমেছেন ইঞ্জেকশন দিয়ে। কারণ দলের জন্য তাকে সমানতালে লড়াইটা যে চালিয়ে যেতে হবে ব্যাটে ও বলে।

আর বাকি একজনের কথা নতুন করে বলারই বা কী আছে! সাতবার ছুরি-কাচির নিচে গিয়েও নি-ক্যাপ পরে সেই কত্ত বছর ধরেই তো দৌঁড়াচ্ছেন। পা একটু বাঁকা করলেই সেই নি-ক্যাপ চোখে পড়ে। এবারো সেইভাবেই দৌঁড়ালেন। শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার ছিড়ে-ফুঁড়ে দিলেন। বল হাতে তাঁর দারুণ শুরু মানেই তো বাংলাদেশের অবধারিত জয়।

লাল সবুজের প্রতি আমাদেরই মত রক্ত মাংসে গড়া চারজন মানুষের নিবেদনের দৃষ্টান্ত এগুলো। এগুলোই বাংলাদেশের ক্রিকেটের চরিত্র, এসবই বাংলাদেশ – দ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট। নিজেদের দিনে এই ব্র্যান্ড কতটা প্রতাপশালী হতে পারে সেটাই তো প্রমাণিত হল আরেকবার।

স্রোতের বিপরীতে গা ভাসিয়ে দেশের জন্য, দেশের মানুষদের জন্য বাইশ গজে লড়ে যাওয়া এই যোদ্ধাদের প্রতি নিরন্তর ভালবাসা আর শ্রদ্ধা। মুহূর্তে মুহূর্তে আমাদের গর্বিত করার জন্য লাল সেলাম।

সবশেষে একটাই কথা বলব, তাদেরকে গালি দিতে নয়; তাদেরকে জানতে হয়, বুঝতে হয়, অনুভব করতে হয়, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় সিক্ত করতে হয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।