১১ টি ‘মাস্ট ওয়াচ’ কোরিয়ান ছবি

কোরিয়ান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অনেকদিন হল বেশ সুনাম কুড়াচ্ছে। বিশ্বজুড়েই তাই তাদের বানানো ছবির ভক্তের কোনো অভাব নেই। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। কোরিয়ার সেরা ১১ টি ছবি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। হলফ করে বলা যায়, ছবিগুলো দেখলে আপনি পস্তাবেন না।

  • আ ম্যান হু ওয়াজ সুপারম্যান (২০০৮)

এই ছবিটার গল্প প্রত্যেকটা মানুষের ভিতরে বসবাস করা সুপারম্যানের গল্প। আমরা চাইলেই আমাদের ভিতরে সুপারম্যান কে সামনে নিয়ে আসতে পারি। আমরা চাইলেই ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারি আমাদের ভিতরে বসবাস করা সুপারম্যানের শক্তি দিয়ে। ছবিটার প্রথম এক ঘণ্টা আপনি অনেক হাসবেন। আর শেষ ৪০ মিনিট আপনি জীবনবোধের নতুন গল্পের সন্ধান পাবেন। সেই সাথে আপনি অনেক কাঁদবেন।

ছবিটার একটা সংলাপ না বললেই নয় – ‘শক্তি দিয়ে আপনি সাফল্যের দরজা খুলতে পারবেন না। কিন্তু সামান্য একটা চাবি দিয়ে সে দরজা আপনি খুলতে পারবেন আর এই চাবিটা আমাদের সবার ভিতরেই আছে যা ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দেয়।’

  • স্নোপিয়ার্সার (২০১৩)

ছবিটির গভীরতা অনেক। এটা শুধু একটা ছবিই না এটা আমাদের জীবন ও সমাজ ব্যবস্থার ধনী বৈষম্যের গল্প, যেখানেই প্রতিদিনই ধনীরা গরিবদের প্রতি অন্যায়-অত্যাচার করে থাকে ঠিক একইভাবে ছবিটাতে রূপক অর্থে ধনীদের বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠে।

  • সানি (২০১১)

এই ছবিটা একটা বন্ধুত্বের গল্প বলে। এটা একটা এর বলিউডের ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মত সেভেন ইডিয়টসের গল্প। এটা মানুষের হারানো সময়ের গল্প, প্রতিটা মানুষের একটা সময়ে এসে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার গল্প।

  • প্যান্ডোরা (২০১৬)

কোরিয়ান ছবির ইতিহাসে আমার দেখা অন্যতম ভয়ঙ্কর ছবিগুলোর একটা হলো প্যান্ডোরা। এখানে উঠে আসে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধ্বংস হওয়ার ভয়াবহতা। ছবির শেষ ১০ মিনিট যেকোনো দর্শকের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবে।

  • ১৯৮৭: হোয়েন দ্য ডে কামস (২০১৭)

এখন পর্যন্ত কোরিয়াতে যত সমাজতান্ত্রিক অপবাদ, ইতিহাস,-ঐতিহ্য, ছাত্র আন্দোলন  এর উপর ভিত্তি করে যত ছবি হয়েছে তার ভিতরে এটাই সেরা। এই ছবিটার মাধ্যমে কোরিয়ার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।

  • আ ব্রাদারহুড অব ওয়ার (২০০৪)

যুদ্ধের ময়দানে ছোট ভাইকে বুকে আগলে রেখে বড় ভাইয়ের শত্রুর বিপক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ার নামই হল ‘আ ব্রাদারহুড অব ওয়ার’, যেখানে ছোট ভাইকে মানুষের মত মানুষ করার জন্য, বিপদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য, বড় ভাইয়ের মর্মান্তিক, নিশংস যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে। এটা যেকোনো দর্শকের মনে অন্যরকম এক অনুভূতির জন্ম দেবে।

  • আ ট্যাক্সি ড্রাইভার (২০১৭)

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গুয়াংজু শহরে যে ছাত্রবিক্ষোভের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সেটা বহির্বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য একজন জার্মান সাংবাদিক এসেছিলেন শহরে। তার সঙ্গী হন একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক ছবিটি।

  • ব্যাটলশিপ আইল্যান্ড (২০১৭)

এই ছবিটাতে কোরিয়ার কয়লা শ্রমিকদের ওপর জাপানিরা যে বর্বর ও নৃশংস নির্যাতন করেছে তার বাস্তব চিত্র ফুঁটে উঠেছে।

  • ওডে টু মাই ফাদার (২০১৪)

১৯৫০ সালের যুদ্ধে চীনা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য উওর কোরিয়ার থেকে পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া আসার সময় বাবার কাছে পরিবারের বড় ছেলে কথা দেয় – সব সময় আগলে রাখবে পরিবারকে। শত সংগ্রামের মাঝেও ছেলে সেই কথা রাখে। এটা সম্প্রতি অফিসিয়ালি রিমেক করে বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘ভারত’।

  • প্যারাসাইট (২০১৯)

সংসার সাগরের এক পরজীবির গল্প। সংসার সাগর যেমন আনন্দ বেদনা হাসি, কান্না, অভাব অনটন, দুঃখ নিয়ে গঠিত ঠিক তেমনি ভাবে এই ছবিটাতে সংসারের অভাব অনটনকে দূর করার জন্য আরেকটা সংসারের ভেতরে ঠাই নেওয়ার কথা বলা হয় এই ছবিতে।

  • মিরাকলস সেল নম্বর সেভেন (২০১৩)

সেই ১৯৩৭ সালে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ নামে কালজয়ী ইতালিয়ান এক ছবি মুক্তি পায়। হিটলারের নির্দেশে জার্মান বাহিনীর অত্যাচারের মুখে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক ও আবেগী গল্প দেখানো হয়। এটাই ২০১৩ সালে কিছুটা পরিবর্তিত করে কোরিয়ায় বানানো হয় ‘মিরাকলস সেল নম্বর সেভেন’ ছবিটি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।