আঁতুড়ঘরনামা

১.

দেশের অভিষেক টেস্টে একমাত্র জয়ী দল অস্ট্রেলিয়া। ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি অবশ্য ক্রিকেট ইতিহাসেরই প্রথম টেস্ট। সে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দলীয় ২৪৫ রানের মধ্যে চার্লস ব্যানারম্যানের ১৬৫ (রিটায়ার্ড হার্ট) এখনো ব্যাক্তিগত রানের পার্সেন্টেজে বিশ্ব রেকর্ড হয়ে আছে (৬৯.৬%)। একই সাথে দলের অভিষেক টেস্টে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

২.

দেশের হয়ে অভিষেক টেস্টে ড্র করা একমাত্র দল জিম্বাবুয়ে, ভারতের বিপক্ষে ১৯৯২ সালে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে প্রথম ইনিংসে পাক্কা ২১৪.২ ওভার খেলে ৪৫৬ রান করে। জবাবে ১৬৯.৪ ওভারে ৩০৭ রানে অলআউট হয় ভারত। অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের লিডটিও তাই জিম্বাবুয়ের। এমন মন্থরগতির ব্যাটিং-এর পর জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শেষই করতে পারেনি।

ওই পুরো ট্যুরটি স্মরণীয় এই কারণে যে নিষেধাজ্ঞা উঠার পর প্রথম কোন বিদেশি দল আফ্রিকা সফর করে সেবার।

৩.

এ পর্যন্ত চারজন ব্যাটসম্যান দেশের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন; চার্লস ব্যানারম্যান, ডেভ হটন, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও কেভিন ও ব্রায়েন। রানের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে ব্যানারম্যান, তবে বলের হিসাবে দীর্ঘতম ইনিংস আমিনুলের (৩৮০ বল)। এদের মধ্যে একমাত্র কেভিন ও ব্রায়েনের সেঞ্চুরি এসেছে দ্বিতীয় ইনিংসে।

৪.

অভিষেক টেস্টে এক ইনিংসে সেরা বোলিং অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি বোলার টম কেন্ডালের, ৫৫ রানে ৭ উইকেট। দ্বিতীয় স্থানে নাঈমুর রহমান দুর্জয়, ১৩২ রান দিয়ে ৬ উইকেট।

৫.

দক্ষিণ আফ্রিকা আর ভারতের ডেব্যু টেস্টটি ছিল তিন দিনের। তবু দুদলই হেরে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা হারে দেড় দিনে, ৮ উইকেটের ব্যাবধানে। পাকিস্তানের অভিষেক ম্যাচটি ছিল চারদিনের।

৬.

অভিষেক টেস্টে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয় পাকিস্তানের; ১৯৫২ সালে ভারতের বিপক্ষে ইনিংস ও ৭০ রানে হেরে যায় তারা।

৭.

জিম্বাবুয়ের হয়ে তাদের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে ৫ উইকেট নেন জন ট্রাইকোস। তখন তার বয়স ৪৫ বছর। দলের আর সবার অভিষেক টেস্ট হলেও জন ট্রাইকোসের ছিল সেটি চতুর্থ টেস্ট। মিশরে জন্মানো এই অফ স্পিনারের টেস্ট অভিষেক হয় ২২ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিষেধাজ্ঞায় পড়ায় টেস্ট ক্যারিয়ার থেমে যায়। সেসময় জিম্বাবুয়ের নাম ছিল রোডেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রদেশ। জিম্বাবুয়ে যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পায় সেসময় এতো বয়সেও দেশের সেরা স্পিনার ছিলেন তিনি।

পাকিস্তানের অভিষেক টেস্টেও দলে দুজন ছিলেন যারা আগে ভারতের হয়ে টেস্ট খেলেছেন; আব্দুল কারদার ও আমির ইলাহি।

৮.

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের অভিষেক টেস্টে দুদল মিলিয়ে (প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড) সতের জন ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ভারতের তিন জন ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়।

৯.

ছয়টা দেশের অভিষেক টেস্টে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, তিনটি দলের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, চতুর্থবারের মত আফগানদের অভিষেক টেস্টে প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে তারা। আইরিশদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, এটা তো জানাই আছে।

১০.

ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের টেস্ট অভিষেক হয় প্রতিপক্ষের মাটিতে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।