টেস্ট ক্যাপ এত সস্তা!

অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের একটা বল ধাওয়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে দিলেন। যে শটটা খেললেন, সেটাও কোনো ভাবে টেস্টের সাথে যায় না। মাত্র চারটা বল খেলেই অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংস কাটালেন মোহাম্মদ মিঠুন।

রানের খাতাই খুলতে পারলেন না। আর যেভাবে আউট হয়েছেন তাতে একাদশে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক।

দলের কঠিন বিপদের সময় উইকেটে আসেন। স্কোর তখন দুই উইকেটে ১৬। সাজঘরে যখন ফিরলেন বিপদ তখন আরো প্রবল -২৬/৩।  এমন অভিষেক নিশ্চয়ই কারো কাম্য নয়!

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মিঠুনের সাথে টেস্ট ক্যাপ পেয়ে গেছেন আরো একজন। তিনি হলেন পেসার খালেদ আহমেদ। আগের টেস্টে খেলা আবু জায়েদ রাহির জায়গায় খেলতে নেমেছেন তিনি। খালেদের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারও খুব সমৃদ্ধ হয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০ টি ম্যাচ খেলে পেয়েছেন ৪৮ উইকেট।

সিলেটে বাংলাদেশ ফিরলেও আবু জায়েদ খুব খারাপ যে করেছিলেন তা নয়। তাই, তাঁর বাদ পড়ার কারণটা অজানা। আসলে, এক মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিলে বাংলাদেশে নিয়মিত টেস্ট খেলা পেসার নেই বললেই চলে।

কখনো রাহি, কখনো শুভাশীষ রায়, কখনো কামরুল ইসলাম রাব্বি – এই চলছে। এখন আবার খালেদকে দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। এদের সবার মধ্যে পার্থক্য আসলে ১৯-২০। লম্বা সময় সুযোগ না পাওয়ায় কেউ নিজেদের থিতুও করতে পারছেন না।

তাই তো অভিষেকের মিছিলটাই কেবল লম্বা হচ্ছে। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন ৯২। মাত্র ১১০ ম্যাচেই। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশে টেস্ট ক্যাপ পেয়ে যাওয়াটা খুব কঠিন নয়।

এখান থেকে জিম্বাবুয়ে অবশ্যে আরো এগিয়ে। ১০৭ টি টেস্টে তাঁদের হয়ে খেলেছেন ১০৭ জন। মানে প্রতি ম্যাচে গড়ে একজন করে ক্রিকেটারের হাতে টেস্ট ক্যাপ তুলে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে।  যদিও, এই সময়কালটা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে বয়স ২৬ বছর, আর বাংলাদেশের ১৮ বছর।

টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড় অভিষেকের দিক থেকে বাকিদের চেয়ে বাংলাদেশ বেশ এগিয়েই থাকবে। নিচের পরিসংখ্যানটা দেখলে বাকিদের সাথে পার্থক্যটা পরিস্কার হবে।

দল টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা অভিষিক্ত ক্রিকেটার
ইংল্যান্ড ১০০৫ ৬৮৯
অস্ট্রেলিয়া ৮০৪ ৪৫৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৩৭ ৩১৬
ভারত ৫২৯ ২৯৪
দক্ষিণ আফ্রিকা ৪২৭ ৩৩৪
নিউজিল্যান্ড ৪২৬ ২৭৩
পাকিস্তান ৪১৭ ২৩৫
শ্রীলঙ্কা ২৭৫ ১৪৭
বাংলাদেশ ১১০ ৯২
জিম্বাবুয়ে ১০৭ ১০৭

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।