স্প্যানিশ দুর্গ পতনের ১০ কারণ

বিশ্বকাপে নিজেদের ছায়া হয়েই থাকলো স্পেন। ২০১৮ সালে রাশিয়াতে দ্বিতীয় গ্রুপের টিকেট পেলেও চার ম্যাচে দলটা জিতেছে মাত্র একটিতে। তাঁদের বিদায় করে দিল স্বাগতিকরা। কেন এই বিপর্যয়? চলুন কারণ অনুসন্ধান করা যাক।

  • ডি গিয়ার অধ:পতন

বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছিলেন ডি গিয়া। অথচ, বিশ্বকাপে দারুণ ভাবে ফ্লপ তিনি। প্রথম ম্যাচেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নিরীহ দর্শন একটা শট তাঁর গ্লাফস ফঁসকে চলে যায়। সেই বাজে ফর্মের আর কোনো উন্নতি হয়নি। ছয়টি গোল হজমের সাথে গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন মাত্র একটি।

  • কোচ বিষয়ক জটিলতা

বিশ্বকাপের মাত্র দু’দিন আগে বরখাস্ত হন কোচ জুলেন লোপেতেগুই। এটাই একটা কোচকে মানসিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফার্নান্দো হিয়েরো দলের টেকনিক্যাল হিসেবে কাজ করলেও কোচ হিসেবে তিনি পরীক্ষিত নন।

  • নিষ্প্রাণ তারকা

সম্ভাবনাময় তারকারা আলো ছড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ডেভিড সিলভা, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ড্যানি কারভাজালরা ব্যর্থ হয়েছেন গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে। ইসকো, ইয়াগো আসপাস ও রড্রিগো মোরেনাই কেবল পারফরম করতে পেরেছেন।

  • ডার্টি শিটস

লা রোজারা ২০০৮ থেকৈ ২০১২ সাল অবধি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপে যে ১৯ টি ম্যাচ খেলেছে তার মধ্যে ১৩ টিতেই কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর থেকে ১১ টি ম্যাচে তাঁরা হজম করেছে ১৭ টি গোল। সাথে জেরার্ড পিকের হ্যান্ডবল, ইনিয়েস্তা-রামোসদের গা ছাড়া মনোভাব তো আছেই।

  • উদ্দেশ্যহীন পাসিং ফুটবল

রাশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে ১,১১৪ টি পাস দিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবলাররা। এটা বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই রেকর্ড। তবে, কার্যকর পাসের সংখ্যা খুব কমই ছিলে। খেলায় গভীরতা ছিল না বললেই চলে।

 

  • প্ল্যান ‘বি’ এর অভাব

হিয়েরোর প্ল্যান ‘বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা ছিল না বললেই চলে। তিনি খুবই একগুয়েমি করে লোপেতেগুইয়ের ফর্মেশনেই দলকে খেলান, বাড়তি কোনো শৈল্পিক কৌশল দেখাতেও ব্যর্থ হন।

  • কৌশলের যুদ্ধে পরাজিত

এই বিষয়টা কোনো ভাবেই স্পেনের সাথে যায় না। বিপক্ষ দলের কৌশলে গড়বড় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেখানে একটা সময় স্পেনের জুড়ি খুঁজে পাওয়া যেত না, এখন সেখানে স্পেন রক্ষণাত্মক দলের বিপক্ষে নিজেদের খেই হারিয়ে ফেলে। কঠিন সময় থেকে বের হয়ে কখনোই গোল আদায় করে নিতে দেখা যায়নি তাঁদের।

  • নেতার অভাব

শক্ত সময়ে কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। অথচ, দলে অভিজ্ঞ ফুটবলারের কোনো অভাবই ছিল না। অল্প একটু জাদুকরী নেতৃত্বই দলকে এক মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারতো। কিন্তু, বাস্তবে সেটা হয়নি।

  • কোচের ধীরগতির মস্তিষ্ক

কোচ হিয়েরোর মস্তিষ্ক সম্ভবত দ্রুত কাজ করে না। রাশিয়ার বিপক্ষে যে ম্যাচ হেরে তাদের বিদায় হল সেই ম্যাচে প্রথম বদলী তিনি নামিয়েছেন ৬৭ মিনিটে। সিলভার জায়গায় নামেন ইনিয়েস্তা। পরিকল্পনাগুলো কাজে না লাগায় চাইলে আরো আগে ভাবেই বদলী নামিয়ে ফেলা উচিৎ ছিল হিয়েরোর।

  • অব্যবহৃত অস্ত্র

বিশ্বকাপের মত মঞ্চে অসংখ্য কার্যকর অস্ত্রকে ব্যবহারই করেনি স্পেন। সউল নিগুয়েজ, আদ্রিয়ান ওদ্রিওজোলা, সিজার আজপিলেকুয়েটা, কেপা আরিজাবালাগা ও নাচো মনরিয়েল একটা মিনিটের জন্যও রাশিয়া বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি। হিয়েরো কোনো ভাবেই ডি গিয়াকে বাদ দেননি। অন্যদিকে যেখানে কারভাজালের ফিটনেস জনিত সমস্যায় রিয়াল সোসিয়েদাদের ওদ্রিওজোলা প্রস্তুত ছিলেন, সেখানে কোচ প্রাধান্য দেন নাচো ফার্নান্দেজকে।

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।