টেম্পার বনাম সিম্বা: মাদকতা বনাম অতি-অভিনয়

‘সিম্বা’র আগে ‘টেম্পার’ আগে দেখে ফেলাটা ভুল ছিল সেটা ছবি দেখার সময় পদে পদে বুঝেছি। রনভীর সিং হতে পারে সুপারস্টার তবে অতিমাত্রার অতি-অভিনয়ের যে ভুত তার ওপর ভর করে মাঝে মাঝে, সেটা থেকে মুক্তি তাঁর আজও মেলেনি। ২০১৮ সালে পদ্মাবত দেখেও কয়েকজন সমালোচক তাঁর এই দিকটার ব্যাপারে পয়েন্ট আউট করেছিল যদিও দর্শকের অতিরিক্ত হাইপে সেই অভিযোগ পানি পায়নি।

টেম্পার হল ২০১৫ সালের তেলেগু ছবি। সেখানে জুনিয়র এনটিআরের মাচো লেভেলের একটা প্রেজেন্স আছে যা একপ্রকার মাদকতা সৃষ্টি করে দেখার সময়। একই সাথে দুর্নীতিবাজ এবং ভালোমানুষী সত্তার যুদ্ধ যখন চলতে থাকে নিজের ভেতর, সেটাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট অভিনয় দক্ষতার প্রয়োজন। বিরক্তিকর লেভেলের অতি অভিনয় দিয়ে সেটা পোষানো সম্ভব নয়।

আর নায়িকার ভূমিকা যতই কম থাকুক, কাজলের চরিত্রে সারা আলী খান-এর মতো পাথরের এক্সপ্রেশন দেখাটা রীতিমত অসস্তিকর। স্টার কিড হলেই রক্তে অভিনয় থাকবে, এমনটা সবসময় নাও হতে পারে। সাইফের অভিনয়ের গুণমুগ্ধ ভক্ত আমি।

তাঁর সাম্প্রতিক ছবি ‘বাজার’ দিয়ে সে আরও একবার তার জাত চিনিয়েছে। কি অকপট রাজকীয় অভিনয়! তার সন্তান তার মতোই হবে, এটা আশা করাটা হয়তো বাড়াবাড়ি, তবে দর্শক হিসেবে তুলনাটা না চাইলেও চলে আসে। এখানেই স্টার কিডদের চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়।

যদিও, সারা ‘কেদারনাথ’ ছবি দিয়ে ফিল্মফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন। তবুও বলতেই, তিনি সুপার স্টার হবেনই এমন আগাম বলে না দেওয়াই ভাল। আরো অনেক পরীক্ষায় পাস করতে হবে তাঁকে।

যাই হোক, বক্স অফিস হয়তো আমার ফিডব্যাকের উল্টোটাই বলবে। তবে এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মত। রোহিত মাল-মশলা দিয়ে ভালো খিচুড়ি রাধতে পারলেও মাঝে মাঝে লবনের পরিমাণ বেশী পড়ে যায়। সিংঘামকে নিয়ে এসে ইউনিভার্স তৈরি করা কিংবা ‘আখ মারে’ – এগুলো দিয়ে হয়তো খিচুড়ি খাওয়াতে পেরেছে দর্শকদের, তবে সেটা নিতান্তই বুঝ দেওয়ার মতো।

সত্যি বলতে, মূল অভিনেতার চাইতে অজয়ের ক্যামিওটাই বেশী উপভোগ্য ছিল শেষ বিচারে। এখানেই আসলে রণবীরের মূল ব্যর্থতা। কারণ, ছবির মূল আকর্ষণ আসলে এখানে অজয় দেবগন আর অক্ষয় কুমার। তবে, আবারো বলতে হয়ে রীতিবহির্ভূত কিংবা বলা যায় যায় অভিনব কায়দায় সিনেমাটির ইতি টেনে আবারো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন নির্মাতা রোহিত শেঠি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।