যে দেশে বাবা হওয়ারও ব্যাখ্যা দিতে হয়!

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, যে দেশে বাবা হওয়ার জন্যও ব্যাখ্যা দিতে হয়।

একটু ভেঙে বলি।

বাবা হয়েছেন ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে সদ্যোজাত শিশু ও মায়ের সাথে ছবি দিয়ে সুখবরও জানিয়েছেন। এমন একটা মুহূর্ত সবার সাথে শেয়ার করার জন্য পৃথিবীর প্রতিটা বাবাই মুখিয়ে থাকেন।

অথচ, আমরা কি করলাম? আমরা তাসকিনকে মনে করিয়ে দিলাম, তার বয়স এখন মাত্র ২৩। এই বয়সে গড়পরতা বাংলাদেশিরা বাবা হওয়া তো দূরের কথা, বিয়েও করে উঠতে পারেন না। তাসকিন সাধারণ মানুষের চেয়ে আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, অর্থ উপার্জন করেছেন, বিয়ে করেছেন, সন্তানের বাবা হয়েছেন তরুণ বয়সে, এই সামান্য ব্যাপারটা তাই একদল উগ্র সমর্থকদের সহ্য হচ্ছে না।

এখানেই শেষ নয়, অনেকে তো রীতিমত দাবী করে বসেছেন যে, বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট ছিলেন তাসকিনের স্ত্রী সৈয়দা রাবেয়া নাঈমা। আমরা কতটা নিচে নামতে পারি সেটার বড় পরিচয় হল এমন মন্তব্য।

তাই তো তাসকিন বাধ্য হলেন ব্যাখ্যা দিতে। ক্রিকেটার তো, মাঠের বাইরে থাকার সময় লড়াইয়ের মধ্যে তাকে সমর্থকদের এমন অযাচিত মন্তব্যের জবাব দেওয়াও শেখা হয়ে গেছে।

তাসকিন ওই ছবির কমেন্ট বক্সেই লিখেছেন, ‘সবার উদ্দেশ্যে একটা কথা বলি, কেউ মনে কিছু নিয়েননা, আমার বিয়ে হইসে ১১ মাস. দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে এসেই বিয়ে করলাম ৩১ অক্টোবর এবং বিয়ের বয়স হলো ১১ মাস, সাউথ আফ্রিকা ছিলাম ৪৮ দিন। সব মিলিয়ে হল ১২ মাস ১৮ দিন. আমার পুত্র সন্তান হইলো ৯ মাস ২৭ দিনে। যদি বিয়ের আগে আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হইতো তা হলে আমার বাচ্চা বিয়ের ৬ মাস এর মদ্দেই দুনিয়াতে থাকতো। যাই হোক যাদের ভুল ধারণা ছিল আমাদের প্রতি তাদের জন্যে এই মেসেজটি। ধন্যবাদ।

একবার ভাবুন তো, একজন বাবা কতটা মর্মাহত হলে নিজের এমন একটা আনন্দের মুহূর্তে এই কমেন্টটি করতে বাধ্য হন। এমন উগ্র সমর্থকদের লইয়া মোরা কি করিবো!

এর ব্যাখ্যা কি? অন্যকে ছোট করার মধ্যে কিসের আনন্দ? আমাদের সোসাইটির বড় একটা অংশের জীবনযাত্রা সাদামাটা। তারা তাঁদের ক্রিকেটাঙ্গনের তারকাদেরও সাদামাটা দেখতে পছন্দ করে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত জীবনের বিলাস তাদের চোখে সয়ে গেলেও তাদেরই দেশে থাকা আরেক তারকার জীবনের বিত্ত তারা পছন্দ করে না।

এজন্যই এরা নাসিরের বোনের নামে বাজে মন্তব্য করে। সাকিবের স্ত্রী-সন্তান বাদ পড়েন না। এমনকি মাশরাফির পরিবারকেও তারা ছাড়েন না। উপমহাদেশীয় সমর্থকদের মানসিকতা এমন কেন! কবে আমরা শুধরাবো। এই যে, তাসকিন বাধ্য হয়ে কমেন্ট করলেন, এটাই সমর্থক হিসেবে আমাদের ‘কোয়ালিটি’র মানদণ্ড!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।