ভালোবাসা নেই, শুধু অভ্যাসের দায়

কলকাতার স্বস্তিকা মুখার্জি যে আবেদনময়ী সে তো কম বেশি আমরা সবাই জানি। এই মানুষটা একজন গৃহিণীর চরিত্র করছেন, যার অন্তর্বাসের ছেঁড়া স্ট্র্যাপ বা চোখের কোণে কালো দাগ দেখলেই ডোমেস্টিক অ্যাবিউজের গন্ধ পাওয়া যায়। মানা যায় বলুন, তার হাজবেন্ড এই লকডাউনের সময় ঘরে বসে পরনারীর কথা ভাবছে?

লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে অনেকেরই মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অথচ চারিদিকে শুনি দম্পতিদের জন্য তো মধুচন্দ্রিমা, দু’জন দু’জনকে সারাক্ষণ পাশে পাচ্ছে তো? কিন্তু স্বস্তিকা কিংবা গৃহিণী সুজাতার বড্ড অসহ্য লাগছে, শান্তিমত নিজের মতো একলা ঘরে থাকতে পারছে না যে, একটু পর পর হাসবেন্ডের নানাধরনের খায়েশ মিটিয়েও ছোটোখাটো ভুলের পরিণামে খেতে হচ্ছে বেদম মার।

তাসের ঘর যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু সুজাতার মতো হাজারো গৃহিণীর কথাই বলে এই ‘তাসের ঘর’ নামের ছোট্ট সিনেমাটা। ৪৭ মিনিটে পরিচালক সুদীপ্ত রায় ঘুরিয়ে আনলেন স্বস্তিকার অন্দরমহলে। তাঁর গল্প করার কেউ নেই, তাছাড়া মানুষজনের বকবক একদম সহ্য হয়না তার। আর সহ্য হয়না ঘরময় ঘুরে বেড়ানো অদৃশ্য ইঁদুরদের।

আর শুধু নাক জুড়ে গন্ধ লেগে থাকে – সেই গন্ধের বৈচিত্র্য নিয়েও বেশ আলাপ করতে পারে স্বস্তিকা। তাঁর ভুবন ভোলানো হাসি আর চমৎকার শারীরিক অভিনয় দেখতে হলেও এই সাইকোলজিক্যাল ড্রামাটি দেখতে পারেন।

শেষ অধ্যায়টুকু খানিকটা প্রেডিক্টেবল, গল্পের কিছু জায়গায় সূক্ষ্মতার কিঞ্চিৎ অভাব আর শুধু এক নায়িকা ছাড়া আর কোনোকিছুতে বিশেষ রঙ ঢালতে পারেনি বৈকি। তবে চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি, আবহ সঙ্গীত, ন্যাচারাল লাইটিং এর ব্যবহার শান্তিতেই রেখেছে আমাকে পুরোটা সময়।

সে সাথে আবারো প্রমাণ করেছে, এই লকডাউনে আপনার কাছে শুধু একটা কনসেপ্ট থাকলে আপনি চটপট ঘরে বসে দেখে ফেলার মতো ছোটখাটো মুভি বানিয়ে ফেলতেই পারেন।

এখানে, বরং আমার মনে হচ্ছে, যদি ছবিটাকে দু’ভাগে দেখানো যেত, প্রথম ভাগে ‘দ্য ওয়াইফ’ও দ্বিতীয়ত ‘দ্য হাজবেন্ড’। দু’জনের সাইকোলজি থেকে দেখানো দুই ভাগ। তাহলে শেষ অধ্যায়টা আরও থ্রিলিং হতো। জম্পেশ একটা ফিল্মের আইডিয়া ঘুরপাক খাচ্ছে, তাসের ঘর ফিল্মটি তাই ছোট হলেও রেশ কিন্তু ভালোই ছেড়ে গেলো। বুঝতে পারছেন তো?

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।