বড় প্রতিভার ছোটবাবু

বুড়ো নামে বিখ্যাত হলেও তিনি আজও ছোটবাবু। দাদার ছোটভাই। এক বিরল উৎকৃষ্টমানের অভিনেতা। কিন্তু তাঁর প্রতিভার মূল্য বাঙালি কই? উত্তমকুমারের পাশে নিজের ক্যারিশমা কমেডি অভিনয় মুন্সিয়ানা বজায় রেখে দর্শকের খুব কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন তরুণ কুমার।

দুই ভাই স্ক্রিনশেয়ার করলে সে হত এক একটা অসাধারণ দৃশ্য। তরুণ কুমার তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর জাত চিনিয়ে দেন। উত্তম কুমার মহানায়ক হলেও উত্তম কুমারের আগে তরুন কুমার জাতীয় পুরস্কার পান ‘দাদা ঠাকুর’ ছবির জন্য।

সুব্রতা-তরুণ: রাজঘোটক দম্পতি

উত্তমের ছায়াসঙ্গী ছোটোভাই তরুণ। উত্তমের অভিনয় ভালো লাগলে যেমন উত্তমকে প্রণাম করতেন তেমনি ভালো না লাগলে উত্তমের মুখের ওপর বলতেন । যেমন ‘অমানুষ’ ছবিতে উত্তমকুমারের অভিনয় দেখে বলেছিলেন তরুনকুমার ‘তোমার অভিনয় আমার একদম ভাল লাগেনি। এমন অভিনয় তোমার কাছ থেকে আশা করিনি। এমন প্রগলভতা তোমাকে মানায় না দাদা।’

‘বিকেলে ভোরের ফুল।’

উত্তম তরুণকুমারকে বললেন, ‘কী ছোটবাবু, এ বার পেরেছি তো?’

তরুণ কুমার শ্রদ্ধায় দাদার দিকে তাকিয়ে, একটা প্রণাম করলেন!

তিন ভাই

মহানায়কের মহাপ্রয়ানের পর তরুণ কুমার তাঁর নিজের পরিচালিত ছবির চিত্রনাট্যে সুচিত্রা সেনকে নায়িকা ভাবেন। ম্যাডামের বাড়ি যান তরুন কুমার। সুচিত্রা সেনের চিত্রনাট্য পছন্দ হয়। কিন্তু সুচিত্রা সেন বলেন, ‘নায়ক কাকে করবি? বুড়ো তোর দাদাকে একটিবার এনে দে।’

তরুনকুমার বলেন, ‘রমাদি, দাদাকে কি করে আনবো?’

সুচিত্রা বলেন, ‘তাহলে আর এ ছবি করিসনা’।বাইরের আকাশের দিকের তাকিয়ে থাকেন আশির দশকের অন্তরালপ্রিয়া সুচিত্রা সেন।

কিশোর কুমার (বাঁয়ে) ও তরুণ কুমার

দক্ষিন কলকাতায় বিখ্যাত ‘উত্তম মঞ্চ’ গড়ার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন তরুণ কুমার।

অন্যদিকে স্বামীর জন্মদিনেই স্বামীর কাছে  চলে যান সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়।

উত্তমকুমার সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়ভাসুর বলেই হয়তো ওনার উত্তম নায়িকা হওয়া হলনা। সুচিত্রার ছোটো বোন, সুপ্রিয়া দেবীর ছোটো জা, অপর্ণা সেনের মেজদি হয়ে থাকতে হল ওনাকে। কিন্তু অসম্ভব প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী।

স্ক্রিনশেয়ার করছেন দুই ভাই

‘মেঘ কালো’য় সুচিত্রা-সুব্রতার একটা মারপিঠের দৃশ্য ছিল যা দেখে তৎকালীন সমাজের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। ‘মেঘ কালো’ ছবিতে সুব্রতা চট্টোপাধ্যায়ের ঠোঁটে আশা ভোঁসলের মোহিনীমায়া গান ‘রাত যে মধুমতী’ মনে পড়ে।

‘মেঘ কালো’, ‘পিতা পুত্র’, ‘মেমসাহেব’ ছবিতে সুব্রতা চ্যাটার্জ্জী কতরকম স্টাইল সেটমেন্ট করতেন কখনও বুফো খোঁপা তো কখনও স্টেপ কাট, কালো চশমা ত সানগ্লাস। গলায় ঝলমলে হার। ওয়েস্টার্ন পোশাকেও সাবলীল ছিলেন। নায়িকাদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন।

(বাঁ-থেকে) তরুণ, সুব্রত, সুপ্রিয়া ও উত্তম

যাদের আরও অনেক ভালো চরিত্রে চরিত্রায়ন করা যেত। উত্তম প্রয়ানের পর আরও এই জুটিকে ইন্ডাস্ট্রি ভালো সুযোগ দিলনা। দু’জনেই বিরাট মাপের অভিনেতা অভিনেত্রী। রাজজোটক দম্পতিকে শ্রদ্ধা জানাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।