বেকহ্যামের বাবার আশীর্বাদ সঙ্গী ছিল তপুর

তপু বর্মন – সাফ সুজুকি কাপের পর পর দুই ম্যাচে গোল করা এই ফুটবলারটির নামটা এখন ঘুরছে সমর্থকদের মুখে মুখে। এই তপুর খেলোয়াড় হয়ে ওঠোর সূচনা নারায়নগঞ্জে।

বাবা দয়াল বর্মন নারায়নগঞ্জেই মাছের ব্যবসা করেন। মা ঠাঁকুর দাসী বর্মণ গৃহিনী। বড় ভাই দিপু বর্মন ফুটবল খেললেও তপুর মতো বড় মঞ্চে কখনোই খেলার সুযোগ পাননি। তাতে নিয়ে অবশ্য দিপুর কোনো আফসোস নেই, বরং ছোট ভাই যাতে খেলাটা চালিয়ে যেতে পারেন, সেই চেষ্টাটা করে গেছেন বরাবরেই।

নারায়নগঞ্জে গোদনাইল হাজারীবাগে তপুদের বাসা। এখানেই তপুর বেড়ে ওঠা। লক্ষ্মী নারায়ন কটন মিলের মাঠে খেলে বড় হয়েছেন তপু। বাবা দয়াল বর্মনই বলেছিলেন বড় ছেলে দিপুকে বলে রেখেছিলেন, ‘ছোটটাকেও মাঠে নিয়ে যাও। খেলাটা শিখুক।’

তপু এবং দিপু দুজনেই সেখানকার স্থানীয় কোচ জাকির হোসেনের কাছে প্রশিক্ষন নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢাকার ফুটবলে পা রাখেন তপু। ওয়ারী ক্লাব মোহামেডান আবাহনীর হয়ে ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন। সেখান থেকে জাতীয় দল। ঘরোয়া ফুটবলে খেলেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের হয়ে।

তপু যুক্তরাজ্যের ক্যানেরি ওয়ার্ফের অধীনে প্রশিক্ষন নিতে এক সপ্তাহের জন্য লন্ডনে বেকহ্যাম ফুটবল একাডেমিতে গিয়েছিলেন প্রশিক্ষণের জন্য। ২০০৫ সাল থেকে কাজ করছে এই অ্যাকাডেমি। তারই সুবাদে বেকহ্যামে বাবা টেড বেকহ্যাম এসেছিলেন বাংলাদেশ।

কমলাপুর স্টেডিয়ামে তপুর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে নারায়নগঞ্জে তপুর বাসায় গিয়েছিলেন। তপুর সঙ্গে বেকহামের বাবা অনেকক্ষণ কথা বলেন। বড় ফুটবলার যাতে হতে পারেন, সেই আশীর্বাদও করেন। সেই স্মৃতি এখনো মনের কোনো জমিয়ে রেখেছেন তপু। তাই তো মাঠে এমন ঝাঁঝালো পারফরম্যান্স!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।