তানিয়া আহমেদ: বর্ণাঢ্য অতীত, সাদামাটা বর্তমান

ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন মডেলিং দিয়ে। এরপর অভিনয় জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বাংলাদেশের বিনোদন জগতের ইতিহাস বলে – যারা মডেলিং নিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে অভিনয় জগতে আসেন, তারা সেভাবে মেলে ধরতে পারেন না নিজেদের। তবে এখানে তিনি ব্যতিক্রম।

‘লোনলি ডে, লোনলি নাইট’ – শিরোনামে আজাদ প্রোডাক্টসের বিজ্ঞাপনে যেমন মাত করেছেন, তেমনি ‘রঙের মানুষ’ ধারাবাহিকে ‘মাঞ্জেলা’ কিংবা ‘কৃষ্ণপক্ষ’-এর ‘জেবা’ চরিত্রে অভিনয় করে হয়েছেন দর্শকনন্দিত। তিনি বাংলা নাট্যাঙ্গন ও বিজ্ঞাপন জগতের সুপররিচিত তারকা শিল্পী তানিয়া আহমেদ।

বাংলা চলচ্চিত্রের দুই স্বনামধন্য নায়ক সোহেল রানা ও রুবেলের আপন ভাগ্নী হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই মিডিয়া জগতের সাথে পরিচিতি ছিল। একদিন নিতান্তই খেয়ালের বশে মডেলিংয়ের জন্য বিনোদন দুনিয়ার কিংবদন্তি আফজাল হোসেনের কাছে অডিশন দিতে যান। সেখানেই অফার পান ‘ডায়মন্ড তেল’-এর বিজ্ঞাপনে মডেল হওয়ার জন্য।

সেটাই তানিয়ার শুরু। প্রথম বিজ্ঞাপনেই সাড়া ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন মডেলিং জগতের প্রিয় মুখ। যদিও, তিনি বড় বিস্ময়টা জমা রেখেছিলেন অভিনয়ের জন্য। তাই তো মডেল হিসেবে যতটা না, তার চেয়েও বেশি অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

প্রথম নাটক ১৯৯৫ সালে নির্মিত ‘সম্পর্ক’। তবে তিনি নাট্যজগতে বেশি আলোচিত হয়ে আছেন মূলত তিনটি ধারাবাহিক নাটকের জন্য। ‘রঙের মানুষ’ ও ‘ভবের হাট’-এ যেমন কৌতুক প্রবণ চরিত্রে তিনি খুব জনপ্রিয় হয়েছিলেন অন্যদিকে ‘সাপলুডু’ ধারাবাহিকে খল চরিত্রে অভিনয় করে। পুরো নাটকে যেন তিনিই ছিলেন প্রধান আকর্ষণ।

পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের সাহচর্য পেয়ে নিজেকে করেছেন আরো নন্দিত। এছাড়া ক্যারিয়ারে রয়েছে বৃষ্টির কান্না, না, বাকাট্টা, লোভ, ব্যাংক ড্রাফট, গোলাপ কেন কালো, প্রজেক্ট হিমালয়, অচেনা প্রতিবিম্ব, বীরপুরুষ বশীকরণ, ইবলিশ, শোধবোধ, রুপালি রাত্রি-সহ আরো বহু নাটক। এখনো তিনি নাটক করছেন, পাশাপাশি পরিচালনা বিভাগেও নিজেকে চিনিয়েছেন।

মডেলিং জগতে জনপ্রিয়তা পাবার পরপরেই চলচ্চিত্রের অফার পেয়েছিলেন এই গ্ল্যামারাস তারকা। সুপারহিট ছবি ‘স্বজন’ সহ বহু ছবির অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তখন। পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্যামল ছায়া’ দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় শুরু করেন।

এরপর ‘নয় নম্বর মহা বিপদ সংকেত’ ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’-এর পর সর্বশেষ অভিনয় করেন ‘কৃষ্ণপক্ষ’তে। এই সিনেমায় তিনি অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে পেয়েছেন প্রথমবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ‘ভালোবাসা এমনই হয়’ শিরোনামে একটি ছবি পরিচালনা করেছেন, তবে সেটা ছিল হতাশাজনক।

তানিয়ার জন্ম ১৯৭২ সালের পাঁচ জুন। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ডতারকা, প্লে-ব্যাক কন্ঠশিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক এস আই টুটুল কে। রয়েছে দু’টি সন্তান।

বর্তমান সময়ে তানিয়া বিস্তর নাটকে অভিনয় করেন। তবে, খুব একটা আলোচিত হন না। খুব জনপ্রিয় চরিত্রে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে দেখা যায়নি বলেই চলে। বোঝাই যাচ্ছে, এখনই স্ক্রিপ্ট নির্বাচনে আরো মনোযোগী হওয়ার কোনো বিকল্প পথ তাঁর জন্য খোলা নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।