কুত্তার পেটে ঘি হজম হয় না!

তামিম ইকবাল তার ফেইসবুক লাইভের প্রতিটি পর্বে বলেছেন, এই অস্থির সময়ে মানুষকে কিছুটা স্বস্তির সময়, কিছুক্ষণ আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন। আর কিছু নয়।

অথচ কিছু লোক এটাকে কাঁটাছেড়া করে রীতিমতো গবেষণাপত্র বের করে ফেলছে – ‘এটা উচিত হয় নাই’, ‘ওটা করতে পারতো’, ‘তার ক্যাপ্টেন্সিতে প্রভাব পড়বে’, ‘সে তো এখনও ক্যাপ্টেন্সিই করে নাই’, ‘অমুক খুশি হবে না’, ‘তমুকের ভালো লাগবে না’, ‘অমুক-তমুকের বন্ধু না শত্রু’ – আরও কত কী!

তামিম ক্যাপ্টেন না হলে কি এই শো করত না? সে কি দলের সবাইকে এনে তার ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে জ্ঞান দিছে এখানে। কোহলি-রোহিত-উইলিয়ামসনরা এক কথায় রাজী হয়ে গেছে কি সে ক্যাপ্টেন বলে? মোটেও তো নয়! দুনিয়া জুড়ে অসংখ্য ক্রিকেটার এই সময়টায় লাইভ করছে, অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। তারা সবাই ক্যাপ্টেন? অন্য কোথাও এসবের উদ্দেশ্য-বিধেয় নিয়ে কাঁটাছেড়া হয়েছে বলে মনে হয় না।

কিছু মানুষের জীবনে বিনোদন বলে কোনো শব্দ নাই। কিছু মানুষ কোনো কিছু স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। কিছু মানুষ দুনিয়ার সবচেয়ে ইতিবাচক কিছুর ভেতর থেকেও নেতিবাচকতা খুঁজে বের করার অদ্ভূত ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।

কালকে শেষ শোর শেষ দিকে চার ক্রিকেটার মিলে মিনতি করলেন, ইয়ান-বিয়ান হয়ে পরস্পরকে আক্রমণ না করতে। অথচ শো শেষ হওয়ার পর থেকেই কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। কে কার বন্ধু, কে কার শত্রু – এক পক্ষ জোর করে, পারলে কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে অমুককে তমুকের বন্ধু বানিয়ে ছাড়বে, আরেক পক্ষ শত্রু প্রমাণিত করতে যা-তা করবে। সেই উত্তেজনায় বারুদ সরবরাহ করতে শুরু করেছে সংবাদমাধ্যম।

মানুষজন এত অসুস্থ মানসিকতার হয় কী করে!

অথচ এই দুঃসময়ে অমন বিনোদনটুকুর জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকার কথা। মাত্রই শেষ হলো, এখনও ভালো লাগায় ডুবে থাকার কথা।

আসলে সবার জন্য সবকিছু না। ওই যে কথা আছে না, কুত্তার পেটে ঘি হজম হয় না!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।