ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেতে পারতো তামিমের!

‘অসম্ভব সাহসিকতার পরিচয় দেখিয়েছে ও। এক হাতে ব্যাট করেছে। ওই অবস্থায় নেমে পড়া কখনই সহজ কথা নয়। এটা বিশাল একটা নজীর।’ – সার্টিফিকেটটা দিলেন স্বয়ং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, শ্রীলঙ্কা দলের কোচ। বোঝাই যাচ্ছে, তামিম ইকবালের এভাবে ব্যাট করতে নেমে পড়াটা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না তাঁদের।

নয় উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমের ব্যাটিংয়ে ফিরে আসাটাই লঙ্কানদের মনোবল ভেঙে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। এর সাথে ৩২ রান ছিল বোনাস। ভাঙা মনোবল দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। লঙ্কানরা তাই পারেনি। বরং এশিয়া কাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার  (১৩৭ রানের) বরণ করেছে। বাংলাদেশের করা ২৬১ রানের জবাবে ১২৪ রানে থেমে যায় শ্রীলঙ্কা।

বাঁ-হাতের ব্যথাটা ছিল আগে থেকেই। সেটা নিয়েই এশিয়া কাপে ওপেন করতে নামেন। ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় ওভারে সুরঙ্গ লাকমলের বলে পুল করতে গিয়ে সেই হাতটাতেই ব্যথা পান আবার।  তখনই প্রাথমিক সেবা নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যান তামিম ইকবাল। সেখান থেকে হাসপাতাল। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং শেষ হতে না হতেই এল বড় দুঃসংবাদ।

এই ইনজুরির কারণে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তামিমকে। এর অর্থ হলো এই এশিয়া কাপে অন্তত আর তার বাংলাদেশের হয়ে ওপেন করতে নামা হচ্ছে না।  হাসপাতাল থেকে আসা স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে তার বাঁ-হাতের তর্জনীতে চোট লেগেছে। আর এটাই তাকে ছিটকে দিল মাঠের বাইরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের মাঝেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খোদ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।

তারপরও তামিমের হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে নেমে পড়াটা ছিল বিস্ময়কর। কতটা সাহসিকতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন সেটা বোঝা গেল ম্যাচ শেষে, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথায়। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি তামিমের সিদ্ধান্ত। এই ম্যাচটার জন্য তামিমকে সবার মনে রাখা উচিৎ। ওই সময় যেকোনো কিছুই ঘটতে পারতো। ওর ক্যারিয়ারও ঝুঁকির মুখে পরতে পারতো। তামিমের ক্রিজে আসায় মুশফিক ওই সময় উজ্জীবিত হয়। তামিমকে তাই টুপি খোলা অভিনন্দন।’

ওই সময়ে ড্রেসিংরুমের আবহটা জানালেন তামিম নিজেই। কেবল মুশফিক স্ট্রাইকে থাকলেই তাকে ক্রিজে পাঠাতে চেয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই, মুশফিক যখন নন-স্ট্রাইকে চলে আসলেন তখন সিদ্ধান্তটা তামিমের ওপরই ছেড়ে দেয় দল।

তামিম বলেন, ‘মুস্তাফিজ পঞ্চম বলে আউট হয়ে যায়। তখন মুশফিক নন-স্ট্রাইকে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপর চলে আসে। আমিই গিয়ে একটা বল ফেস করার সিদ্ধান্ত নেই। মাশরাফি ভাই আমাকে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছেন। তিনি বারবার এসে আমার সাথে কথা বলেছেন।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।