‘১০ সেকেন্ডের জন্য নিজেকে অনেক সাহসী মনে হয়’

সুরঙ্গ লাকমল ৪৭ তম ওভারের শেষ বলটা করার জন্য দৌড় শুরু করেছেন। সামনে সেই ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়ে, যাকে এক শর্ট বলে আহত করে সাজঘরে পাঠিয়েছিলেন ইনিংসের গোড়াতেই। কি অসীম সাহসিকতা থাকলে, আবার নবম উইকেট যাওয়ার পর ইনিংসটা লম্বা করতে তিনি নেমে যেতে পারেন, বল করার সময় সম্ভবত এসবই ভাবছিলেন লাকমল।

সেই ব্যাটসম্যানটি তখন কি ভাবছিলেন। কি ভাবছিলেন তামিম ইকবাল খান? জবাবে খোদ তামিম বলেন, ‘বোলার যখন দৌঁড়ে আসছিল ওই ১০টা সেকেন্ড নিজেকে অনেক সাহসী মনে করছিলাম। গোটা স্টেডিয়াম আমার জন্য চিৎকার করছিল। হয়তো আমি আউট হয়ে যেতে পারতাম, বা অনেক কিছুই ঘটতে পারতো।  তবে, ঠিক ওই মুহূর্তে আমি দল ও আমার দেশের প্রতি নিষ্ঠাবান ছিলাম।’

তামিম জানতেন, একটু গড়বড় হলেই বড় ঝুঁকি হতে পারতো। তিনি বলেন, ‘এখন চিন্তা করে মনে হচ্ছে, বিষয়টা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ব্যাট করার সময় চোটাক্রান্ত হাতটা আমার পেছনে ছিল। কিন্তু খেয়াল করলে দেখবেন যে, খেলার সময় হাতটা সামনে এসে গিয়েছিল। যদি কোনো ভাবে শটটা মিস হত, বল ওই হাতেই লাগতো।’

তামিম ইকবাল জানান, অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা পুরো ব্যাপারটাতে বড় একটা ভূমিকা রেখেছেন। ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়া তামিম বলেন, ‘প্রথমে যখন ব্যাট করতে যেতে বলেন, তখন মনে হয়েছিল মাশরাফি ভাই সম্ভবত মজা করছেন।  তবে, প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল যদি আমি অফ স্ট্রাইকে থাকি, তাহলেই কেবল ব্যাট করতে নামবো, কারণ গিয়ে তো শুধু দাঁড়িয়েই থাকতে হবে।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হয়ে গেলেই তামিম নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘রুবেল যখন ক্রিজে ছিল তখনই আমি প্যাড-আপ হয়ে ছিলাম। মাশরাফি ভাই নিজেকে আমার গ্লাভস কেটে দেন। জীবনে প্রথমবারের মত অন্য কেউ এসে আমাকে অ্যাবডোমেন গার্ড পরিয়ে দেয়। মুমিনুল (হক) ও অন্যরা আমাকে প্যাড পরতে সাহায্য করে। গ্লাভসের সাথে ব্যান্ডেজ জট পাকাচ্ছিল। ওই সময় সবাই আমাকে সাহায্য করছিল।’

যখন মুস্তাফিজুর রহমান আউট হলেন, তখন ৪৭ তম ওভারের আরো একটা বল বাকি। মুশফিক তখন ১১২ রানে অপরাজিত আছেন নন-স্ট্রাইকিং এন্ডে। তখন পরিকল্পনা পাল্টানো হয়। তামিম নিজেই গিয়ে একটা বল খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

তামিম বলেন, ‘ওই সময়টা যখন আসলো, তখনও কি হতে যাচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। আমি কিছু নিয়ে ভাবতেই পারছিলাম। শুধু হেঁটে বের হয়ে আমি। মুস্তাফিজ আউট হয়ে যাওয়ার পর আমার দ্বিতীয় আর কোনো ভাবনা মাথায়ও ছিল না। সবাই একটু সংশয়ে ছিল, আমি সবাইকে আশ্বস্ত করে ক্রিজে নামি।’

তামিম মনে করেছিলেন, যদি তিনি থাকাতে আরো ১০ টা রানও যোগ হয় তাহলে তাঁর এই ঝুঁকি স্বার্থক। মুশফিক সুযোগটা কাজে লাগিয়ে শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে তুলে নেন ৩২ টি রান। এটাও ছিল অভাবনীয়।

তামিম বলেন, ‘এশিয়া কাপকে ঘিরে আমার অনেক আশা ছিল। কিন্তু, ওই সময়ে আমি সব আবেগ ভুলে মাঠে নেমেছিলাম। আমি মনে করেছিলাম, যদি আমি ক্রিজে আসাতে আর ১০ টা রানও আসে, তাহলেও সেটা দলের কাজে আসবে। সেজন্য আমাকে একটা বল খেলতে হলেও বা ক্ষতি কি! কেউ ভাবেনি যে আমি একটা বল খেলবো আর পরে মুশফিক অতিমানবীয় ভাবে ৩২ টা রান বের করে ফেলবে।’

তামিমের কীর্তিটা কত বড়, ক্রিজে থাকার সময় সেটা তাঁর মনেই আসেনি। বললেন, ‘এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি আগে কখনো হইনি। এখন আমি সবার উচ্ছ্বাস দেখছি। কিন্তু, যখন ব্যাট হাতে নামছিলাম, তখন বুঝতে পারিনি যে আর পর কি হতে যাচ্ছে। আমি শুধু গিয়েছিলাম আমার দল ও আমার দেশের জন্য।’

তামিমের বদলী এখনো ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জানা গেছে, দ্বিতীয় একটা স্ক্যান করার পরই আসবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ২০ তারিখ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ওপেনিং জুটি নিয়ে তাই টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তার শেষ নেই। সম্ভবত ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যাবে তরুণ ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তর।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।