তামিমের লাইভে বিতর্ক খোঁজার ভণ্ডামী!

তামিম ইকবালের লাইভ নিয়ে বিতর্কের কিছু দেখিনা৷ ‘তামিম তার লাইভে ক্রিকেটের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কেন হাসি ঠাট্টা করেন’ এই টাইপের প্রশ্ন তোলাই নিরর্থক মনে হয়৷ তারকা হলেই কি ২৪ ঘন্টা ভাব ধরে থাকতে হবে নাকি? ক্রিকেট তারকা হলে ইমেজ বাচাতে ক্রিকেট ছাড়া অন্য আলোচনা করা যাবেনা কেন? ব্যক্তিত্ব ব্যাপারটা কি এতোই ঠুনকো যে একটু মজা করলেই তা নষ্ট হয়ে যাবে?

জোনাথন সুইফকে বলা হয় মাস্টার অব স্যাটায়ার। ভদ্রলোক তাহলে ‘গালিভার্স ট্রাভেলস’ লিখতেন না৷ সাহিত্যের ভাষায়, ‘Satire is a way of criticizing people or ideas in a humorous way.’। তামিম সেটাও করেননি টিমমেটদের সাথে সরল মনে টুকটাক মজা করেছেন।

ক্রিকেট তারকারা দুষ্টামি, ফাজলামি করলেই যদি ব্যক্তিত্ব কমে যেত তাহলে ডেভিড ওয়ার্নার মজা করে টিকটক ভিডিও বানাতেন না, ক্রিস গেইল মজার ছলে উদ্ভট পোশাক পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেন না। ২২ গজের আক্রমনাত্মক শেবাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফানি পোস্ট করতেন না, শাহরুখ খান আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কোহলি-আনুশকার বিয়ের আগে কোহলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মজা করতেন না।

তামিম লাইভের শুরুতেই বলেন, করোনার এই সময়ে মানুষকে একটু বিনোদন দেয়াই তার লাইভের মূল উদ্দেশ্য। তার লাইভ হয় সাধারণত ৩০ মিনিটের ওপরে, কখনো সেটা ১ ঘন্টাও ছাড়িয়ে যায়। মানুষ যতোই ক্রিকেট পাগল হোক এত সময় শুধু ক্রিকেট কেন্দ্রিক আলোচনা লাইভটাকে নিরস করবে। তাই লাইভে টুকটাক হাস্যরসে দোষের কিছুই দেখিনা৷ বরং ক্রিকেটের সাথে ক্রিকেটের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনা লাইভটাকে আরো জমজমাট করে বলেই ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে।

মানুষ যদি শুধু ক্রিকেট আলোচনাই শুনতে চাইত তাহলে মাঠের ক্রিকেট খেলা শেষে সবাই টিভি অফ করে দিত। কেউ আর তাহলে কোন ক্রিকেট তারকার ক্রিকেটের বাইরের জীবন নিয়ে কৌতূহলী হতোনা। পেপারে, টিভিতে খেলোয়াড়দের জীবনের মজার কোন ঘটনা জেনে বিনোদিত হতোনা৷

তামিম ক্রিকেট তারকা বলেই শোতে হাসি ঠাট্টা করতে পারবেন না কেন? দিন শেষে তিনি শুধু তারকা নন, রক্তে মাংসের মানুষ। আর লাইভে যাদের সাথে তিনি হাসি ঠাট্টায় মাতেন তাদের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো বলেই তিনি হাসি ঠাট্টাটা করেন। টিমমেটরা যেখানে ব্যাপারটিকে সহজভাবে নেন সেখানে আমাদের সমস্যা কি?

যারা ভারতের ক্রিকেটার চাহালের চাহাল টিভি দেখেন তারা নিশ্চয়ই জানেন দলের ভেতরের অনেক মজার কান্ড চাহাল তুলে ধরেন টিভিতেই। আর দর্শকরা শুধু ক্রিকেট নয়, তাদের পেছনের গল্প শুনতে চায় বলেই কিন্ত সাংবাদিকরা সেসব তুলে ধরে এক্সক্লুসিভ নিউজ বানায়।

সেসবে যদি দোষ না হয় তবে তামিম লাইভে একটু মজা করলে দোষ কেন হবে? একেক জনের প্রকাশ ভঙ্গি একেক রকম। কেউ গুরুগম্ভীর আলোচনা করে কেউ আবার মজার ছলে জটিল ব্যাপার ও সহজ করে উপস্থাপন করে।মজা ব্যাপারটা সবাই নিতে পারেনা। অনেকেই সরল ব্যাপারটাকেও জটিল করে ফেলে৷

হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বলা কথা মনে পড়ছে, ‘এদেশে বিনয়কে দুর্বলতা আর বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।