তামিম, বিপিএল ও ডট ডট ডট…

আসেন, তামিমের ডট বল নিয়ে একটু অংক করি!

এই বিপিএলের সবচেয়ে সমালোচিত ক্রিকেটার হলেন দেশসেরা ওপেনিং জুটি ‘ডটমারানি’ তামিম ও সবার প্রিয় ইমরুল ব্রো (আপনাদের দেওয়া নাম)। এখানে আমি আজ প্রমান করবোনা যে তামিম টি-টোয়েন্টি খেলতে পারেননা বা ডটবল খেলে ইত্যাদি ইত্যাদি। যাস্ট একটু হিসাব নিকাশ করবো।

এই আসরে এখনো পর্যন্ত ৭ ম্যাচে তামিমের সংগ্রহ ২৯৩ রান (বল খেলেছেন ২৫৩ টি)। রান তালিকায় ৩ নম্বরে এবং গড় ৫৮.৬২। রান বা গড় দিয়ে কি হবে ব্রো? যদি না আপনি ডটবল খেলেন?

তামিমের স্ট্রাইক রেট জানিয়ে রাখছি – মাত্র ১১৫.৮১! স্ট্রাইক রেটের কথা বলায় অনেকেই বলেছে উনি মিস্টার ডটমারানি, ডটবল খেলে বেশি সেটা বলেন। উনি নাকি সিঙ্গেলও বের করতে পারেন না! সিঙ্গল বের করতে পারলে উনার স্ট্রাইক রেট আরো বাড়তো।

তা অবশ্যই যে তার খেলা ডটবল থেকে অন্তত কিছু সিঙ্গল বের হইলে আরো কিছু স্ট্রাইক রেট বাড়তো।

তামিম ৭ ম্যাচে ডটবল খেলেছেন ৮৬ টি। ম্যাচপ্রতি আসে ১২.২৮ ডট। আর যদি তার মোট বলের হিসাবে ডটবল ধরা হয় তাহলে আসে ৩৪%। হ্যাঁ, তামিম তার ৩৪ শতাংশ বল ডট খেলেছেন এই বিপিএলে। বাকি ৬৬% বলেই রান ছিল।

আবারো বলছি ২৫৩ বলের ভিতরে ডটবল খেলেছেন ৮৬টা (আউট হওয়া বল সহ)। বাকি ১৬৭ টা বল ছিল স্কোরিং ডেলিভারি। এর ভিতরে এই ১৬৭ বলের ভিতরে আবার ১১৮ টা বল থেকে তিনি সিঙ্গেল নিয়েছেন।

কেউ কেউ বলছিল তামিম নাকি সিঙ্গেল বের করতে পারেননা। ভাই, উনি ১১৮ টা বল হইতেই সিঙ্গেলস নিয়েছেন। তাছাড়া ২৬টি চার ও ৯টি ছক্কা, টোটাল ৩৫ টা বাউন্ডারি। বাকি থাকে ১৪ বল। ওই ১৪ বল হইতে করেছেন ১৭ রান (কয়েকটা লেগ বাই ছিল)।

একটু সারাংশ টানি

বল খেলেছেন : ২৫৩ টি

রান করেছেন : ২৯৩ রান

সিঙ্গেলস নিসেন : ১১৮  টি

বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন : ৩৫টি

বাকি ১৪ বলে ১৭ রান এসেছে

ডটবল : ৩৪%

স্কোরিং শট : ৬৬%

বাউন্ডারি থেকে রান : ১৫৮ (৫৩.৯২%)

৭ ম্যাচের ডটবলের হিসাব

১. রান ৫, (৩ ডট, ১ সিঙ্গেল)

২. রান ৭৪, (১৭ ডট, ২১ সিঙ্গেলস)

৩. রান ৩১, (১৩ ডট, ১১ সিঙ্গেলস)

৪. রান ৩৪, (১৮ ডট, ১৯ সিঙ্গেলস)

৫. রান ৬০*, (১৫ ডট, ২৬ সিঙ্গেলস)

৬. রান ২১, (৯ ডট, ৯ সিঙ্গেলস)

৭. রান ৬৮*, (১১ ডট, ৩১ সিঙ্গেলস)

তামিম বেশি ডট খেলেছে ঠিক আছে (মানলাম)। এখন কথা হচ্ছে তামিমের ডটবল খেলার কারনে তার দল ঢাকা প্লাটুন কোনো ম্যাচ হারেনি। হ্যা, ঢাকা কিন্তু ডটবল খেলার জন্য ম্যাচ হারেনি বরং বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি বলেই ঢাকা হেরেছে। কেন হারেনি সেটাও বলছি।

প্রথম যে ম্যাচে ঢাকা হারে সেই ম্যাচে তামিম করে ৪ বলে ৫ রান। পরের দুটো ম্যাচে ৭৪(৫৩) ও ৩১(২৮) রান করেন; ঢাকা জেতে। ভিতরে এক ম্যাচে তামিম খেলেননি, সেই হাই স্কোরিং ম্যাচে ঢাকা হারে। পরের ম্যাচগুলোতে তামিম ৩৪(৪০), ৬০(৪৯), ২১(২৭) ও ৬৮(৫২) রান করেন।

হ্যাঁ, এর ভিতরে একটা ম্যাচ ঢাকা হেরেছে যেটায় তামিম ২৭ বলে ২১ করেন। ওই ম্যাচ হারার কারন হল মিডল অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানের ৩ জনই ডাক (০) মেরে আউট! দাড়াতে পারেনি। শেষমেষ ম্যাশ ও ওয়াহাব রিয়াজের কোনোরকম ফিনিশিং এ কোনমতেই ১২০+ রান আসে। চট্রগ্রামের বিপক্ষে ওই ম্যাচ জিতবে কিভাবে!

আরেকটি ম্যাচ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হল যেখানে তামিম করলেন ৫২ বলে ৬৮*। প্রথম ৪৪ বলে ৪৫ রান। অথচ ওই ম্যাচে তামিম ডটবল খেলেছেন মাত্র ১১টা (৩১টা সিঙ্গেলস)। অথচ কিছু সমর্থক বলল তামিম সিঙ্গেলস বের করতে পারনি।

সিলেটের বিপক্ষে তামিম করে ৪৯ বলে ৬০* রান। এখানে ডটবল ১৫ টি, সিঙ্গেলস ২৬ টা। ওই ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তামিম সঙ্গ দিয়েছিলেন তিনটা গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ এ শিট অ্যাংকর হিসেবে। মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৮২ রানের পার্টনারশিপ এ তামিম করেন ২২ বলে ২৯, জাকির হাসানের সাথে ৩০ রানের পার্টনারশিপ এ ৬ বলে ৭ রান। পুরোটাই ডমিনেট করেন ম্যাচজুড়ে। তবে হ্যাঁ, ৪০ বলে ৩৪ রান করার দিনে দল জিতলেও ওইদিন তার খেলাটা একেবারেই খারাপ ছিল।

এখন আসি আরেকটা প্রসঙ্গ নিয়ে। তামিম ৩৪% বল ডট খেলেছেন এই পর্য্যন্ত এই বিপিএলে। বাকি ব্যাটসম্যানের পরিসংখ্যান আমি বের করিনি। কেননা এটা অনেক সময়ের দরকার। কিন্তু ছোট্ট একটা তথ্য জানিয়ে রাখি। টি টুয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের ডটবলের পরিসংখ্যান কত জানেন প্রায় ৩৭%।

গত বছরে বাংলাদেশ দল ইনিংস প্রতি ৫০+ ডটবল খেলেছে বেশকিছু ম্যাচে। ডটবলের খাতিরে সবচেয়ে কম ডট খেলে পাকিস্তানিরা ৩০%। আর সবচেয়ে বেশি ডট খেলার দিক দিয়ে এগুলো আছে উইন্ডিজ ও আফগানরা (৪২%)। উইন্ডিজরা ডটবল বেশি খেললেও তাদের পাওয়ার হিটার ব্যাটসম্যানেরা এসে সেগুলো পুষিয়ে দেয়, কিন্তু বাংলাদেশীরা পারেনা কেননা আমরা এই জায়গায় পুরোই আনকোরা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।